Bartaman Logo
২৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সবং গ্রামীণ হাসপাতালের বারান্দায় ঘুরছে কুকুর, চিকিৎসা নিয়ে ক্ষোভ

সবং গ্রামীণ হাসপাতালের অবস্থা সংকটজনক। চিকিৎসক সংখ্যা কম, এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ। স্বাস্থ্য দপ্তর পরিস্থিতি পর্যালোচনা করছে। বিস্তারিত পড়ুন।

সবং গ্রামীণ হাসপাতালের বারান্দায় ঘুরছে কুকুর, চিকিৎসা নিয়ে ক্ষোভ
  • ২৭ জুলাই, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, খড়্গপুর: সীমানা পাঁচিল নেই। জরাজীর্ণ ভবন। হাসপাতালের বারান্দায় ঘোরাফেরা করছে কুকুর। চিকিৎসকের সংখ্যাও অপ্রতুল। ছোটখাটো জ্বরজ্বালা, ডায়রিয়া আর নর্মাল ডেলিভারি ছাড়া কোনো চিকিৎসাই হয় না এখানে। ৬০ শয্যার সবং গ্রামীণ হাসপাতালের এহেন দৈন্যদশায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। তাঁদের অভিযোগ, এই বিষয়ে এখনও উদাসীন নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক অমল পন্ডা। যদিও অমলবাবু বলেন, আমি মুখে কিছু বলব না। কাজ করে দেখাব। পুজোর পর থেকে কাজ দেখতে পাবেন। 

Advertisement

যদিও অমলবাবুর সঙ্গে একমত নন, তাঁরই নির্বাচনী সেনাপতি তথা জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি অমূল্য মাইতি। তাঁর দাবি, আগের জমানা থেকেই সবং হাসপাতাল নিয়ে এলাকাবাসীর ক্ষোভ রয়েছে। আমরা চেয়েছিলাম সবং হাসপাতালকে সুপার স্পেশালিটি স্তরে উন্নীত করা হোক। আমি রাজ্যের স্বাস্থ্য সচিবকে ১০০ শয্যার হাসপাতাল করার প্রস্তাব দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলাম। স্বাস্থ্য ভবন আমার আবেদন খতিয়ে দেখার জন্য জেলা স্বাস্থ্য দপ্তরে চিঠি পাঠিয়েছে। সীমানা পাঁচিলের জন্যও ১৮ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। 
এলাকার বাসিন্দা নারায়ণ মাইতি, ক্ষিতিশ প্রামাণিক, আল্পনা দাসরা বলেন, নামেই ৬০ শয্যার হাসপাতাল। আদতে ছোটখাটো রোগজ্বালা ছাড়া কোনো চিকিৎসাই এখানে হয় না। একেবারে ভাঙাচোরা ভবন। শৌচাগারের অবস্থা দেখলে রোগীরা ভয় পাবেন। পানীয় জল, পাখা, আলোর অবস্থাও তথৈবচ! 
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, সবং হাসপাতালে দু’জন স্ত্রী ও প্রসূতি বিশেষজ্ঞ সহ মোট ৭ জন চিকিৎসক আছেন। তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, তাঁরা কখনও একসঙ্গে সাত জন চিকিৎসককে চোখে দেখেননি! হাসপাতালে এখন আর সি-সেকশন বা সিজারও হয় না। আর অন্য অস্ত্রোপচারের তো কোনো বিষয়ই নেই। 
রবিবার জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য অধিকারিক সৌম্যশঙ্কর ষড়ঙ্গী বলেন, সবং হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা যায় কি না, তা স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে বিবেচনা করা হচ্ছে। স্বাস্থ্য ভবনের চিঠি এসেছে। হাসপাতালের অবস্থান এবং বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে বিশদে রিপোর্ট পাঠানো হবে। তারপরই রাজ্য স্বাস্থ্য দপ্তরের তরফে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।-নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ