নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: কুকুরের আক্রমণ থেকে একটি অসুস্থ ময়ূরকে বাঁচালেন চুঁচুড়ার করোলা গ্রামের বাসিন্দারা। ময়ূরটির শরীরে বিষের প্রভাব রয়েছে বলে মনে করছেন অভিজ্ঞ কয়েকজন মানুষ। স্থানীয়দের অনুমান, প্রাণীটিকে বিষ খাওয়ানো হয়েছিল। নয়ত সেটি কীটনাশকের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। পথকুকুরের দল ময়ূরের অসুস্থতার সুযোগে হামলা চালায় সোমবার।
এই ঘটনার জেরে উত্তেজনা তৈরি হয় হুগলির রাজহাট এবং করোলা এলাকায়। দীর্ঘদিন ধরে এই এলাকায় ময়ূরের বসবাস। কিন্তু প্রশাসন ময়ূর রক্ষার বিষয়টি উপেক্ষা করে গিয়েছে বলে অভিযোগ। স্থানীয়ভাবে দেদার বনজঙ্গল ধ্বংসের জেরে বিপন্ন হয়ে উঠেছে জাতীয় পাখি বলে ক্ষুব্ধ বাসিন্দারা। সোমবারের ঘটনা সেই ক্ষোভ আরও উস্কে দিয়েছে। এলাকায় ময়ূরের জন্য পরিকল্পিত আবাস তৈরির বিষয়টি নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। অসুস্থ পূর্ণবয়স্ক ময়ূরটিকে স্থানীয় এক বাসিন্দার বাড়িতে রাখা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, করোলার একটি ছোট আকারের জঙ্গলে এদিন ময়ূরটিকে কয়েকটি কুকুর ঘিরে ধরেছিল। প্রকাশ সাঁতরা নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা তা দেখতে পান। তিনি কুকুরদের তাড়িয়ে ময়ূরটিকে উদ্ধার করেন। পাখিটি স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারছিল না। প্রকাশবাবু বলেন, ‘ময়ূরটি অসুস্থ ছিল। সেই সুযোগে কুকুরগুলি তাকে খেয়ে ফেলার চেষ্টা করে। আমার চোখে পড়ে যায় বলে দুর্ঘটনা ঘটেনি। কিন্তু ময়ূরদের নিরাপত্তা নিয়ে ভাবনা হচ্ছে। প্রাণীগুলি আমাদের সঙ্গেই থাকে। সেগুলির জন্যে সঠিক ব্যবস্থা জরুরি।’ উপেন্দ্রনাথ কল্যা নামে স্থানীয় এক পশুপ্রেমী ময়ূরটিকে নিয়ে গিয়েছেন। তাঁর বাড়িতে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। তিনি ময়ূর সংরক্ষণের কাজ করেন। উপেন্দ্রনাথবাবু বলেন, ‘নানা কারণে এখানে বেশ কিছু ময়ূরের মৃত্যু হয়েছে। এই ময়ূরটির শরীরে বিষক্রিয়া থাকতে পারে। ময়ূরদের বিষয়ে স্থায়ী পদক্ষেপ করার সময় এসেছে।’
প্রসঙ্গত রাজহাট ও সংলগ্ন অঞ্চলে ময়ূরদের জন্য বসতি একদা চুঁচুড়ার অন্যতম আকর্ষণ ছিল। অভিযোগ, সেটি ব্যবহারের উদ্যোগ পঞ্চায়েত বা জেলা পরিষদ নেয়নি। হুগলি জেলা পরিষদের প্রাণিসম্পদ কর্মাধ্যক্ষ নির্মাল্য চক্রবর্তী বলেন, ‘ওই বিষয়ে খোঁজ নিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেব। কি পরিকল্পনা করা যায় তা দেখা হবে। আমাদের জেলার সম্পদ নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।’ জানা গিয়েছে, চুঁচুড়া মহকুমার রাজহাট পঞ্চায়েতের রাজহাট ও গান্ধীগ্রাম এলাকার আমবাগান ও জঙ্গুলে এলাকায় ময়ূরদের বসতি ছিল। প্রচুর ময়ূর থাকত। সেগুলি বনাঞ্চল ও খাবারের অভাবে করোলার দিকে চলে যেতে শুরু করে। এখন করোলাতেও সঙ্কটের মুখে পড়েছে ময়ূরের দল। ফলে প্রাণীগুলির ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠছে বড়সড় প্রশ্ন। নিজস্ব চিত্র