গরম পড়তে না পড়তেই ক্ষৌরকারদের উদ্যত ক্ষুরের তলায় কচিকাঁচাদের নতমস্তক। শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবারই ধারণা, গরমকালে মাথা ন্যাড়া করে দিলে শিশুর নাকি গরম কম লাগে, মাথায় চর্মরোগ হয় না, কচি দুববোর মত চুল গজায়! সত্যিই কি তাই! দেখা যাক।
গরম পড়তে না পড়তেই ক্ষৌরকারদের উদ্যত ক্ষুরের তলায় কচিকাঁচাদের নতমস্তক। শিক্ষিত-অশিক্ষিত সবারই ধারণা, গরমকালে মাথা ন্যাড়া করে দিলে শিশুর নাকি গরম কম লাগে, মাথায় চর্মরোগ হয় না, কচি দুববোর মত চুল গজায়! সত্যিই কি তাই! দেখা যাক।
চুল আমাদের দেহ ত্বকেরই অংশবিশেষ। ছড়িয়ে থাকে প্রায় সারা দেহ জুড়েই। ত্বকের নিচে থাকে কেশ কূপ বা হেয়ার ফলিকল। এর মধ্যেই থাকে চুলের মূল বা রুট, চুলের কান্ড থাকে বাইরে, যেটি আমরা দেখতে পাই। মাথার চুলের দুটি আবরণ, বাইরে কিউটিকল আর ভিতরে করটেক্স। ফলিকলের নিচে থাকে হেয়ার ম্যাট্রিক্স, যাতে থাকে নানা সজীব কোষ। এরাই চুলের বৃদ্ধি, পরিমাণ, রং ইত্যাদি নিয়ন্ত্রণ করে। চুলের পুষ্টি আসে ত্বকের পুষ্টি থেকে। যেহেতু চুল দেহত্বকেরই অংশ। কাজেই দেহের পুষ্টিই হল চুলের পুষ্টি। আলাদা করে এটা সেটা মাখলে চুলের জেল্লা বাড়তে পারে, কিন্তু পুষ্টি বাড়ে না।
ন্যাড়া মাথায় গরম বেশি লাগে। চুলের কাজ তো শুধু দেহের সৌন্দর্য বৃদ্ধি নয়। চুল দেহের সঙ্গে বাইরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে, রোদের তাপ ও নানা ক্ষতিকর বিকিরণ (আল্ট্রা ভায়োলেট রে) থেকে দেহকে রক্ষা করে। কাজেই গরম ঠেকাতে মাথায় কিছুটা চুল রাখা অবশ্যই দরকার এবং আরও দরকার সেই চুলের নিয়মিত পরিচর্যা।
• শিশু দেখলে অনেকই হামলে পড়েন আদর করার জন্য। বয়স্কদের মাথা থেকে এই সুযোগে উকুন ছড়িয়ে পড়তে পারে শিশুর চুলে। শিশুর মাথা চুলকোয়, তার নখ থেকে সেকেন্ডারি ইনফেকশন হয় চুলের গোড়ায়। এক্ষেত্রে এক মগ জলে দু-চামচ স্যাভলন লোশন মিশিয়ে পরপর তিনদিন মাথা ঘষলে দারুণ উপকার পাওয়া যায়।
• গরমকালে শিশুদের মাথায় নানা ধরনের চর্মরোগ হয়, ফোঁড়া হয়, ঘামে নোংরা জমে ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। এর ফলে মাথা চুলকায়। ঘা হয়। দাদ হতে পারে। চুল ও মাথা নিয়মিত পরিষ্কার রাখলে কিন্তু এই বিপত্তি ঘটে না। ছত্রাকের জন্য কোট্রাইমাজল বা মাইকোনাজল লোশন চুলের গোড়ায় ব্যবহার করা যেতে পারে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে। তবে মাথায় বড় ধরনের ঘা দেখা দিলে ভাল করে ওষুধ লাগানোর জন্য মাথা ন্যাড়া করে ফেলাই ভাল। মাথা কেটে গেলে বা ফেটে গেলে ভাল করে সেলাই করার জন্য ন্যাড়া করার প্রয়োজন হতেই পারে।
তবে বিনা কারণে বারবার ন্যাড়া হলে শিশুর নরম চুলের গোড়া চিরকালের জন্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে চুল আর নাও গজাতে পারে।
অর্থাৎ ভালো চুল গজাবার আশায় বারে বারে মাথা কামালে ফল হবে একেবারে উল্টো, এ যেন শিব গড়তে বাঁদর!
তাছাড়া আনস্টেরিলাইজড ক্ষুর বা ব্লেড থেকে এডস বা হেপাটাইটিস বি-এর মত ভয়ংকর অসুখও শিশুর শরীরে রক্ত বাহিত হয়ে প্রবেশ করতে পারে। কাজেই নিতান্ত নিরুপায় না বলে শিশুর মাথা ন্যাড়া করবেন না বরং গরমে চুলটা ছেঁটে দিন বেশ ছোট করে, যাকে বলে কদম ছাঁট!
লিখেছেন ডাঃ অমিতাভ ভট্টাচার্য