Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

এক সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা, মুমূর্ষু যুবককে সুস্থ করে তুললেন চিকিৎসকরা

পেশায় ভ্যানচালক রবি মুন্ডা। হঠাৎ ৩২ বছরের রবির মুখ থেকে অনর্গল রক্তপাত শুরু হয়েছিল। কোনওরকমে তাঁকে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁর মা।

এক সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা, মুমূর্ষু যুবককে সুস্থ করে তুললেন চিকিৎসকরা
  • ১৪ এপ্রিল, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: পেশায় ভ্যানচালক রবি মুন্ডা। হঠাৎ ৩২ বছরের রবির মুখ থেকে অনর্গল রক্তপাত শুরু হয়েছিল। কোনওরকমে তাঁকে বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে আসেন তাঁর মা। এরপর এক সপ্তাহ মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেন তিনি। এজন্য বারাসত হাসপাতালের সুপার, চিকিৎসক, চিকিৎসাকর্মীদের কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন ওই পরিবারের সদস্যরা।

Advertisement

বারাসত পুরসভার বনমালীপুর এলাকার বাসিন্দা রবি মুন্ডা। কয়েক বছর আগে তাঁর বাবার মৃত্যু হয়েছে। অবিবাহিত রবি তাঁর মা তরুবালা মুন্ডাকে নিয়ে রেল কলোনির ঝুপড়িতে থাকেন। মা অন্যের বাড়িতে পরিচারিকার কাজ করেন। তাঁর সেই রোজগার আর ছেলের ভ্যান চালানোর টাকাতে তাঁদের দু’বেলা খাবার জোটে। হঠাৎ করেই এক সপ্তাহ আগে শনিবার রাত এগারোটা নাগাদ অসুস্থ হয়ে পড়েন রবি। একটি টোটোয় করে তাঁকে আনা হয় বারাসত মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে। তখন রাতের রাউন্ড দিয়ে বের হচ্ছিলেন হাসপাতালের সুপার ডাঃ সুব্রত মণ্ডল। কাঁদতে কাঁদতে ‘ছেলেকে বাঁচান’ বলে সুপারের কাছে আর্জি জানান তরুবালাদেবী। এরপর রবিকে হাসপাতালে ভর্তি করান সুব্রত। তারপরেও রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না তাঁর। দরকার হয় রক্তের। ৩০ মিনিটের মধ্যে দু’বোতল রক্ত দিয়ে রবিকে সাময়িক সুস্থ করে ওষুধ দেওয়া হয়। এরপর টানা এক সপ্তাহ বারাসত হাসপাতালে ভর্তি রেখে রবিকে রবিবার সুস্থ করে বাড়ি পাঠানো হল।
এনিয়ে রবির মা তরুবালাদেবী বলেন, প্রথমে ভেবেছিলাম নার্সিংহোমে ভর্তি করব। কিন্তু খরচ করার মতো টাকা ছিল না। তাছাড়া রক্ত পাওয়াও অনিশ্চিত ছিল। কিন্তু সুপারের উদ্যোগে আধঘণ্টার মধ্যে দু’বোতল রক্ত দেওয়া হয় ছেলের শরীরে। এরপর ছেলে সুস্থ হয়। পুরো ঘটনায় সরকারি হাসপাতালের উপর আমাদের আস্থা বাড়ল। এদিকে, সুপার ডাঃ সুব্রত মণ্ডল বলেন, চিকিৎসক হিসেবে আমার যা কর্তব্য, সেটাই করেছি মাত্র। ওঁর শরীরে জরুরি ছিল রক্ত। ৩০ মিনিটের মধ্যে দু’বোতল রক্ত দেওয়ায় অনেকটাই সুস্থ হন। তবে, পারিপার্শ্বিক অনেক রোগ ছিল। তাই শারীরিক অবস্থার ক্রমশ অবনতি হচ্ছিল। তাই এরপর প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট একদিন রবির শারীরিক পরীক্ষা করা হবে।  নিজস্ব চিত্র

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ