সংবাদদাতা, বর্ধমান: রক্তপাত ছাড়া শ্বাসনালিতে আটকে থাকা বাদাম বের করে তিন বছরের শিশুর জীবন বাঁচালেন বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা। শিশুটি এখন সুস্থ রয়েছে। দু’-তিন দিনের মধ্যে তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে। হাসপাতালের সুপার তাপস ঘোষ বলেন, এত ছোট শিশুর বিনা রক্তপাতে শ্বাসনালিতে আটকে থাকা বস্তু বের করা বেশ ঝুঁকির। হাসপাতালের চিকিৎসকরা সফলভাবে শ্বাসনালি থেকে বাদাম বের করতে সক্ষম হয়েছেন। শিশুটির শ্বাসনালিতে সংক্রমণ দিন দিন বাড়ছিল। দ্রুত বিষয়টি চিহ্নিত করে বাদাম বের করা না গেলে শিশুটির প্রাণ সংশয় হতে পারত। চিকিৎসকদের এই কাজ প্রশংসার যোগ্য। হাসপাতালের চিকিৎসকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন শিশুটির পরিবারের লোকজন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, সর্দি, জ্বর, কাশি ও শ্বাসকষ্টের সমস্যা নিয়ে বুধবার শিশুটিকে হাসপাতালে আনা হয়। ঝাড়খণ্ডের পালারপুরে শিশুটির বাড়ি। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরে শিশুটি সর্দি, জ্বরের সমস্যায় ভুগছিল। তার শ্বাসকষ্টও ছিল। সেখানে চিকিৎসার পরও সুস্থ না হওয়ায় পরিবারের লোকজন তাকে বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। শিশু বিভাগের চিকিৎসকরা তার পরীক্ষা করেন। নাক-কান-গলা বিভাগের চিকিৎসকরা তাকে পরীক্ষা করেন। তাতে দেখা যায়, শিশুটির ডানদিকের শ্বাসনালিতে সমস্যা রয়েছে। সেখানে কোনও কিছু আটকে রয়েছে। এরপরই শিশুটির সিটি স্ক্যান করা হয়। সিটি স্ক্যান রিপোর্টে শ্বাসনালিতে কিছু আটকে থাকার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপরই শিশুটির অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অস্ত্রোপচারের জন্য সার্জারি, নাক-কান-গলা, শিশু বিভাগ ও অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসককে নিয়ে একটি টিম গঠন করা হয়। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় অস্ত্রোপচার হয়। নাক-কান-গলা বিভাগের চিকিৎসক ঋতম রায় ও অসীম সরকার বলেন, বিনা রক্তপাতে ব্রঙ্কোস্কপি করে শিশুটির ডানদিকের শ্বাসনালিতে আটকে থাকা বাদাম বের করা হয়। কোনওভাবে শিশুটি বাদাম খেয়ে ফেলে। সেটি শ্বাসনালিতে আটকে যায়। তা থেকেই শ্বাসনালিতে সংক্রমণ বাড়ছিল।