ডাক্তাররাও হতে পারেন আইএএস! ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়ে নবান্নে চিঠি স্বাস্থ্যভবনের
  • ১ নভেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

বিশ্বজিৎ দাস, কলকাতা: কারা বেশি যোগ্য, কারা বেশি সুশিক্ষিত, কাদেরই বা মেধা বেশি—চিকিৎসক ও আমলা—এই দু’মহলের ঠান্ডা লড়াই সুবিদিত। আপাতত তাতে জল ঢেলে স্বাস্থ্যদপ্তর এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে—ডাক্তাররাও হতে পারবেন ইন্ডিয়ান অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিসের (আইএএস) অফিসার! এই মর্মে নবান্নের কর্মিবর্গ এবং প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তরে (পার) চিঠি পাঠিয়েছে স্বাস্থ্যভবন। চিঠিতে তারা দুই ধরনের ক্যাডারের চিকিৎসককে আইএএস হওয়ার যোগ্য মনে করে, তালিকাভুক্ত করবার অনুরোধ জানিয়েছে। এক ধরনের চিকিৎসকরা হলেন, স্বাস্থ্যদপ্তরের প্রশাসক চিকিৎসক বা ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক হেলথ অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস-এর ডাক্তাররা। যাঁরা সাধারণভাবে বিএমওএইচ, এসিএমওএইচ, ডিসিএমওএইচ, সিএমওএইচ এমনকী শীর্ষ পদ ডিএইচএস-এ পর্যন্ত উত্তীর্ণ হন। দ্বিতীয়রা হলেন ওয়েস্ট বেঙ্গল মেডিকেল এডুকেশন সার্ভিসের ডাক্তাররা। যাঁরা শিক্ষক চিকিৎসক। বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে পড়ান, ডাক্তারিও করেন। স্বাস্থ্যভবনের পাঠানো ওই  চিঠিতে এই দুই ধরনের চিকিৎসকদের আইএএস মনোনয়নযোগ্য সরকারি ক্যাডারে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে। নন এসসিএস (নন স্টেট সিভিল সার্ভিস) কোটা সাপেক্ষে এই অন্তর্ভুক্তিকরণের কথা বলা হয়েছে। স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণস্বরূপ নিগম বলেন, চিকিৎসকরা শিক্ষিত। যথেষ্ট যোগ্য। তাই তাঁদের ক্যাডারের নামও যুক্ত করার অনুরোধ করা হয়েছে। সিদ্ধান্ত নেবে কর্মিবর্গ ও প্রশাসনিক সংস্কার দপ্তর।

Advertisement

স্বাস্থ্যভবন সূত্রের খবর, ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক হেলথ অ্যান্ড অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস-এ ৫২৭টি পদ আছে। ব্লক মেডিকেল অফিসার থেকে সিএমওএইচ বা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক অথবা মহকুমা-সুপারস্পেশালিটি, জেলা হাসপাতালের সুপার এঁরাই হন। ইচ্ছায় বা অনিচ্ছাসত্ত্বেও প্রশাসনিক দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে অভিজ্ঞতা এবং লোক সামলানোর দক্ষতাও এঁদের যথেষ্ট। অন্যদিকে বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ মিলিয়ে শিক্ষক চিকিৎসকের সংখ্যা সাড়ে তিন হাজার মতো। এঁদের মধ্যে থেকেই অধ্যাপক, বিভাগীয় প্রধান, মেডিকেল সুপার কাম ভা‌ইস প্রিন্সিপাল (এমএসভিপি) ও প্রিন্সিপাল বা অধ্যক্ষ হন। হাসপাতাল ও কলেজ পরিচালনা করতে করতে শেষোক্ত দু-তিন ধরনের আধিকারিকরাও অভিজ্ঞ হয়ে ওঠেন। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যসচিব রাজীবা সিনহা স্বাস্থ্যদপ্তরের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। অবসরপ্রাপ্ত আইএএস অফিসার মহুয়া বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এখনই তো বিশেষ সচিব পর্যন্ত উত্তীর্ণ হতে পারছেন চিকিৎসকরা। আইএএস হবেন না কেন? বহুসময় তাঁদের দক্ষতার সঙ্গে দপ্তর এবং হাসপাতাল পরিচালনা করতে দেখেছি। খাদ্য সহ অন্য সার্ভিস থেকেও আইএএস হচ্ছেন। ডাক্তাররাও হবেন। ভালো সিদ্ধান্ত। সার্ভিস ডক্টর্স ফোরামের রাজ্য সম্পাদক ডাঃ সজল বিশ্বাস বলেন, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল পরিচালনায় পৃথক ইন্ডিয়ান মেডিকেল সার্ভিস ক্যাডার চালুর দাবি জানিয়েছি। স্বাস্থ্যভবনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানাই। পাশাপাশি দ্রুত যাতে পজিটিভ সিদ্ধান্ত হয়, সে ব্যাপারেও স্বাস্থ্যভবনের লেগে থাকা উচিত।