নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সিন্ডিকেটের নির্মাণ সামগ্রী ফেলা নিয়ে বিবাদের সূত্রপাত। বেআইনিভাবে সামগ্রী ফেলার প্রতিবাদ করায় হরিদেবপুরে গায়ককে আটকে রেখে মারধর ও খুনের হুমকির অভিযোগ উঠল। অভিযোগের তির বেহালা পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের এক বিজেপি নেতা ও তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে। এখানেই শেষ নয়। নিগৃহীত গায়কের দাবি, অভিযুক্ত জানিয়েছেন ‘প্রতিবাদ করা ভুল। ক্ষমা চান।’ আটকে রেখে মারধর ও হুমকির অভিযোগে সংশ্লিষ্ট বিজেপি নেতা ও তাঁর অনুগামীদের বিরুদ্ধে হরিদেবপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন নিগৃহীত ব্যক্তি। উল্লেখ্য, নিগৃহীত ব্যক্তির শ্বশুরও বিজেপি নেতা।
অভিযোগকারীর নাম পিন্টু কোঁচ। বড়িশার সুকান্ত সরণি এলাকার বাসিন্দা তিনি। ৪২ বছর বয়সি যুবকের স্ত্রী স্মিতা বিশ্বাস। তিনি পেশায় আইনজীবী। ঘটনার সূত্রপাত ২৯ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টা নাগাদ। বেহালা পূর্ব বিধানসভার অন্তর্গত ১২৪ নম্বর ওয়ার্ডের সুকান্ত সরণি বেআইনিভাবে নির্মাণ সামগ্রী ফেলায় প্রতিবাদ করেন পিন্টু। অভিযোগ, তার জেরে পরেরদিন সকালে তাঁর উপর চড়াও হন বেহালা পশ্চিম বিধানসভার ১৪-১৫ জন দুষ্কৃতী। অভিযোগকারীর দাবি, হামলার নেপথ্যে রয়েছেন ১২৬ নম্বর ওয়ার্ডের এক বিজেপি নেতা। হকি স্টিক, হেলমেট, কাঠের বাটাম দিয়ে এলোপাতাড়ি মার দেওয়া হয় পিন্টুকে। আঘাত লাগে যৌনাঙ্গে। এরপরেই সেখান থেকে গাড়িতে করে তুলে নিয়ে গিয়ে অজ্ঞাত জায়গায় আটকে রাখা হয় অভিযোগকারীকে। সেখানে আরও একদফা মারধর করা হয় বলে অভিযোগ।
সেখান থেকে ছাড়া পেয়ে বিদ্যাসাগর হাসপাতালে মেডিকেল পরীক্ষা করান অভিযুক্ত। অভিযোগ, থানায় অভিযোগ করতে গেলে ফোন আসে মূল অভিযুক্তের। এফআইআর না করার জন্য চাপ দেওয়া হয়। পিন্টু পুলিশকে জানিয়েছেন, ‘অভিযুক্ত জানায় প্রতিবাদ করেছিলেন কেন? প্রতিবাদ করে আপনিই ভুল করেছেন। প্রতিবাদ জানালে এমনই পরিণাম ভুগতে হবে।’ দ্বিতীয় দফার হুমকির পর হরিদেবপুর থানার দ্বারস্থ হন অভিযোগকারী। ওই বিজেপি নেতা সহ ন’জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি। পুলিশ সূত্রে খবর, অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। ঘটনার বর্ণনা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত সেরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



