নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: দু’ বছরের খুদে আলমারি ঠেলাঠেলি করার সময়ে কাচ খসে পড়ে তার ডান চোখে ঢুকে যায়। চোখের পাতা কেটে ঝুলে যায়। কাচের টুকরো চোখের ভিতরে পর্যন্ত ঢুকে যায়। তমলুক পুরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাড় পদুমবসানের মাত্র দু’ বছরের শেখ সাহালকে নিয়ে চটজলদি তমলুক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যান বাড়ির লোকজন। চোখের পাতা ছিঁড়ে যাওয়ার পাশাপাশি গ্লোব ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেখানে জটিল অপারেশন করে চোখের পাতায় পাঁচটা সেলাই করা হয়। এছাড়া, চোখের গ্লোবেও মারাত্মক চোট লাগে। দৃষ্টিশক্তি স্বাভাবিক থাকবে কি না, তা নিয়ে সংশয়ে পড়ে যায় পরিবার। তমলুক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ওই শিশুর সফল অস্ত্রোপচার হয়েছে।
জানা গিয়েছে, গত ১৩ অক্টোবর বাড় পদুমবসানের শেখ আনসারের স্ত্রী হাসপাতালে সন্তান প্রসব করেন। পরিবারের লোকজন এজন্য হাসপাতালে ব্যস্ত ছিলেন। বাড়িতে আনসারের দু’ বছরের শিশু শেখ সাহাল সহ দু’-একজন ছিল। ওইদিন সাহাল বাড়ির আলমারি ধাক্কাধাক্কি করার সময়ে একটা কাচ খসে পড়ে যায়। সেইসঙ্গে সাহালও পড়ে যায়। আলমারির একটা ভাঙা কাচ তার চোখে গেঁথে যায়। যন্ত্রণায় চিৎকার করে ওই খুদে। একজন কোয়াক ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার পর তাকে তমলুক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৪ তারিখ তার অপারেশন হয়। একদিন রাখার পর ওই শিশুকে ছেড়ে দেওয়া হয়। সোমবার তার চেকআপ হয়েছে। ওই শিশুর চোখের অবস্থা অনেকটাই ভালো বলে চিকিৎসক জানান।
তমলুক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টাব্যাপী ইন্টিগ্রেটেড অপারেশন থিয়েটার চালু। অর্থাৎ সর্বক্ষণের জন্যই অ্যানাস্থেটিস্ট থাকছেন। চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ এ বর্মন, অ্যানাস্থেটিস্ট অমিতায়ু নন্দী, সিনিয়র রেসিডেন্ট অনুপূর্ব বসুর টিম ওই অপারেশন করে। চোখের পাতায় পাঁচটি সেলাই পড়ে। গ্লোব সহ অন্যান্য অংশেও অপারেশন হয়। এই সফল অপারেশনে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও খুশি। চক্ষু বিভাগের অ্যাসোসিয়েশনের প্রফেসর নবনীতা বড়ুয়া বলেন, সর্বক্ষণের জন্য ওটি পরিষেবা চালু থাকায় আমরা জরুরিভিত্তিতে এই অপারেশন করাতে সক্ষম হয়েছি। এজন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাব। সেইসঙ্গে অপারেশনে যুক্ত গোটা টিমকেও ধন্যবাদ।
শেখ সাহালের বাবা শেখ আনসার বলেন, ঘটনার দিন আমার একটি সন্তান হয়। এনিয়ে ব্যস্ত থাকায় বাড়িতে এরকম একটা অঘটন ঘটে গিয়েছিল। আমরা ভীষণ চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। শেষমেশ তমলুক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকরা ঝুঁকি নিয়ে অপারেশন করেন। এখন ছেলে অনেকটাই ভালো রয়েছে। তবে, রক্ত জমাট বেঁধে আছে। আমরা ছেলেকে একবার কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাব।