নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ঘরে ঘরে গলায় সংক্রমণ। স্বরবদল। অবস্থা এমনই, মোবাইলে স্বর শুনে কাছের মানুষকেও চেনা দায় হয়ে পড়ছে। আর সামনাসামনি পড়লে প্রশ্ন, কৌতূহল ও সহমর্মিতার শেষ নেই। কেন হল, কীভাবে হল, কী করছেন, অ্যান্টিবায়োটিক খেয়েছেন? কোন ডাক্তার দেখালেন?
সরকারি-বেসরকারি ইএনটি বিভাগ ও প্রাইভেট চেম্বারের তথ্য বলছে, নাক- কান-গলার যত সমস্যা নিয়ে মানুষ এখন আসছে, তার প্রায় অর্ধেকই গলা ভাঙা, স্বরবদল, গলা চিরে যাওয়া ও অস্বস্তি। সঙ্গে থাকছে জ্বর জ্বর ভাব এবং অনেকসময় সঙ্গে কাশি। শহরের খ্যাতনামা ইএনটি চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, তাপমাত্রার ওঠানামাতেই এই সংক্রমণ বাড়ছে। মূলত ভাইরাল সমস্যা। সময়ে উপশম না করলে ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণও হচ্ছে। এগুলি ফ্যারিনজাইটিস এবং ল্যারিংজাইটিসের সমস্যা। এক্ষেত্রে অ্যান্টিবায়োটিক নৈব নৈব চ। দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। দিলে উপকারের বদলে বরং অপকার বেশি হয়। কিন্তু কেন গলার সংক্রমণ এত বাড়ছে? ইএনটি বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, দূষণ একটি অন্যতম অনুঘটক। সেজন্য শহরাঞ্চলে অ্যালার্জিজনিত অস্বস্তি বেড়ে গিয়েছে। গ্রামে এই ধরনের গলার সমস্যা তুলনায় কম। এছাড়াও যাঁদের অ্যাসিড রিফ্লাক্স বেশি হয়, মুখ এবং গলায় অম্ল-ক্ষারের ভারসাম্য বা পিএইচ-এ গোলমাল থাকে, তাঁরাও সমস্যায় পড়ছেন। তাঁদের ক্ষেত্রেও এই ধরনের সংক্রমণ বেশি হয়। এক তরুণ ইএনটি চিকিৎসক জানালেন, কিছুদিন আগেই একজন মহিলা রোগী জানালেন, তাঁর গলা ব্যথার সঙ্গে কাশি চলছে টানা দু’মাস ধরে। তাহলে চিকিৎসা? বিরাট ওষুধপত্র কিছু খাওয়ার দরকার নেই বলেই মনে করেন চিকিৎসকরা। তাঁরা জানান, গলার সংক্রমণে বহু রোগীই গার্গল করে বড়সড় ভুল করেন। স্বরবদল ও সংক্রমণে গার্গল করলে গলা আরও বসে যাবে। দরকার হল স্টিম বা ভাপ নেওয়া। কার্বল প্লাসের মতো ডিকনজেসটেন্ট মিশিয়ে ভাপ নিলে আরও ভালো হয়। ভোকাল কর্ড আরাম পায়। অফিস-কাছারির পরিস্থিতিতে ইচ্ছাখুশি ভাপ নেওয়া অসম্ভব। সেক্ষেত্রে রুমালে কার্বল প্লাস জাতীয় ডিকনজেসটেন্ট ফেলে গন্ধ নিলেও হতে পারে উপকার। এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দরকার হল গলা তথা ভোকাল কর্ডের বিশ্রাম। তবে এমন সমস্যার সেরা চিকিৎসা হল, নেহাত প্রয়োজন না হলে বকবক বন্ধ রাখা। পারলে সম্পূর্ণ ‘ভয়েস রেস্ট’।