সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: হরিরামপুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের দ্বারস্থ হলেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ। তাঁদের অভিযোগ, হাসপাতালে নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছভাবে স্বাস্থ্য পরিষেবা পরিচালিত হচ্ছে না। স্বাস্থ্য পরিষেবা দেওয়ার বদলে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ উঠেছে ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক অনিরুদ্ধ চৌধুরীর বিরুদ্ধে।
চিকিৎসক প্রতিনিধিদের দাবি, গতবছর তৃণমূল কংগ্রেসের একুশে জুলাই কর্মসূচিতে হাসপাতালের কিছু স্বাস্থ্যকর্মীকে নিয়ে গিয়েছিলেন ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক। সেখানে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তাঁর ছবি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে সরব হন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত। তিনি তখনই সরকারি পদে থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ঘটনায় প্রশ্ন তোলেন। অভিযোগ, রাজ্যের তৎকালীন মন্ত্রী বিপ্লব মিত্রের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় এবং জেলাস্তরের এক আধিকারিকের মদত থাকায় ওই ঘটনায় কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ফোন না তোলায় ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। মেসেজেরও উত্তর দেননি তিনি। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশের বক্তব্য, সরকার বদলালেও স্বাস্থ্য দপ্তরের একাংশ এখনও পুরনো রাজনৈতিক প্রভাবের ছায়াতেই চলছে। তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের স্ত্রীকে তপন ব্লক স্বাস্থ্য কেন্দ্র থেকে হরিরামপুরে বদলি করিয়ে এনেছেন অনিরুদ্ধ। হাসপাতালের সিনিয়র নার্সদের বদলির উদ্যোগ নেওয়া হলে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদও শুরু হয়। ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের বিরুদ্ধে হাসপাতালের সামনেই চেম্বার করার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ। তাঁদের দাবি, হাসপাতালের অভ্যন্তরে স্বাস্থ্য পরিষেবার মান ক্রমশ অবনতি হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ তার ভুক্তভোগী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত বলেন, হরিরামপুর ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাজকর্ম নিয়ে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ আমার সঙ্গে দেখা করেছেন। তাঁরা নিরপেক্ষভাবে স্বাস্থ্য পরিষেবা চালানোর দাবি জানিয়েছেন। স্বাস্থ্য পরিষেবা নিয়ে একাধিক গুরুতর অভিযোগও করেছেন। হরিরামপুরের বাসিন্দা শুভব্রত রায় বলেন, অনিরুদ্ধবাবু ব্লক স্বাস্থ্য আধিকারিক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবার মান তলানিতে ঠেকেছে। হাসপাতালে ভর্তি হলেই রোগীদের রেফার করা হচ্ছে। জেনারেটর অচল। শিশুদের জন্য পর্যাপ্ত পরিষেবা নেই।