বিশ্বজিৎ মাইতি, বরানগর: পালাবদলেও বদলায়নি দক্ষিণ দমদমের প্রোমোটাররাজ। বেআইনি নির্মাণের প্রতিবাদ করে প্রশাসনের দ্বারস্থ হওয়ায়, এক চিকিৎসক ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের খুন ও দুই ছেলেকে অপহরণের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় নাম জড়িয়েছে দক্ষিণ দমদমের একাধিক বিজেপি নেতা-কর্মী, এক প্রোমোটার ও খোদ পুরসভার বিল্ডিং বিভাগের এক কর্মীর বিরুদ্ধে। তৃণমূল জমানা থেকেই পূর্ব সিঁথি রোড এলাকায় নির্মীয়মান একটি আবাসনে বেআইনি নির্মাণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নামা ওই চিকিৎসক পালাবদলের পরও পুলিশে অভিযোগ জানিয়েও ভরসায় নয়, চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। পুরসভার তরফে ওই আবাসনে নির্মাণ কাজে ‘স্টপ অর্ডার’ থাকা সত্ত্বেও, কোন যাদুবলে বন্ধ থাকা কাজ ফের শুরু হল, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অন্যদিকে, প্রতিবাদী ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বাড়ি তৈরিতে বাধা দেওয়ার পালটা অভিযোগ নাগেরবাজার থানায় দায়ের হয়েছে। দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১২ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব সিঁথি রোডের বাসিন্দা ডাঃ কৃষ্ণেন্দু সাহা। ২০২৫ সাল থেকে নিজের বাড়ি লাগোয়া একটি আবাসন নির্মাণের বিরুদ্ধে লড়াই চালাচ্ছেন। গত মার্চ মাসে পুরসভার তদন্তে ওই চারতলা আবাসনে বেআইনি নির্মাণ ধরা পড়ে। এরপর গত ১৪ মে পুরসভা নির্মাণ বন্ধের নির্দেশ দেয়। তারপর কয়েক মাস কাজ বন্ধ ছিল। অভিযোগ, ফের শাসক দলের স্থানীয় প্রভাবশালী একটা অংশের সঙ্গে ‘সেটিং’ সম্পূর্ণ হতেই, এই আবাসনেও কাজ শুরু হয়ে যায়। ডাঃ কৃষ্ণেন্দু বলেন, সমস্যার কথা স্থানীয় বিধায়ক, বিজেপির মণ্ডল সভাপতি ও পুরসভায় জানিয়েও লাভ হয়নি। উলটে বিজেপির মণ্ডল সাধারণ সম্পাদক কল্যাণ মণ্ডল, বিজেপি কর্মী প্রসেনজিৎ দোলই সহ প্রোমোটারের দলবল বাড়ির সামনে এসে আমার স্ত্রীকে হেনস্তা করেছে। অভিযোগ তুলে না নিলে, আমার দুই সন্তানকে অপহরণ এবং আমাদের পিটিয়ে মেরে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে পুরসভার এক কর্মীও যুক্ত। ওই কর্মীর বাড়ি ১০ নম্বর ওয়ার্ডের জ্যোতিনগর। থানায় অভিযোগ জানিয়েছি, কিন্তু পুলিশ কোনও পদক্ষেপ করছে না। উলটে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে। চরম আতঙ্কে রয়েছি। যদিও বিজেপি নেতা কল্যাণ মণ্ডল বলেন, আমি এলাকায় নেই। বরং আমার বিরুদ্ধে মিথ্যে কেস করা হয়েছে। বিজেপির মণ্ডল সভাপতি অনির্বাণ সমাজপতি বলেন, ওই ব্যক্তি (ডাঃ কৃষ্ণেন্দু) সুবিধের নয়। ব্ল্যাকমেল করে বহু প্রোমোটার থেকে টাকা আদায় করেছেন বলে শুনেছি। এখানেও ষড়যন্ত্র করে দলের নাম ও কর্মীদের ফাঁসানোর চেষ্টা হচ্ছে। যে জমিতে বহুতল আবাসনটি হচ্ছে, তার মালিক অঞ্জনা দে। থানায় লিখিত অভিযোগে বলেছেন, ডাঃ কৃষ্ণেন্দু সাহা বাড়ি তৈরিতে বাধা দিচ্ছে। তাঁর থেকে টাকা চাওয়া হচ্ছে।
দক্ষিণ দমদম শহরজুড়ে বেআইনি নির্মাণ আইনে পরিনত হয়েছে। অভিযোগ, কোটি কোটি টাকা ছড়িয়ে প্রমোটাররা পাঁচ ফুট রাস্তায় আটতলা বাড়ি, বিল্ডিং প্ল্যানের বাইরে ফ্লোর নির্মাণ সহ বিভিন্ন ধরণের বেআইনি কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। পালা বদলের পর কয়েক মাস বেআইনি নির্মাণ বন্ধ থাকলেও, এখন নতুন ‘রেটচার্ট’ ফিক্সড হওয়ায় সমস্যা মিটেছে। ফের মাথা তুলছে শয়ে শয়ে বেআইনি নির্মাণ।



