Bartaman Logo
১ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডিজিটাল অ্যারেস্ট, নিমতায় ৪০ লক্ষ টাকা খোয়ালেন চিকিৎসক

ফের সাইবার প্রতারণা। ডিজিটাল অ্যারেস্টের নাম করে ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিল সাইবার প্রতারকরা। প্রতারণার শিকার বিরাটির এক চিকিৎসক। ১৫ দিন আগে দমদমের এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক কর্মীকেও একইভাবে শিকার বানিয়ে প্রতারকরা ৫৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল।

ডিজিটাল অ্যারেস্ট, নিমতায় ৪০ লক্ষ টাকা খোয়ালেন চিকিৎসক
  • ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০

নিজস্ব প্রতিনিধি, বরানগর: ফের সাইবার প্রতারণা। ডিজিটাল অ্যারেস্টের নাম করে ৪০ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিল সাইবার প্রতারকরা। প্রতারণার শিকার বিরাটির এক চিকিৎসক। ১৫ দিন আগে দমদমের এক অবসরপ্রাপ্ত ব্যাঙ্ক কর্মীকেও একইভাবে শিকার বানিয়ে প্রতারকরা ৫৩ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছিল। দু’টি ক্ষেত্রেই প্রতারকরা মুম্বইয়ের কোলাবা থানার নাম ব্যবহার করেছে। এমনকী, ভিডিও কলে নকল থানা দেখিয়ে জেলে ভরার হুমকিও দিয়েছিল। এদিকে, লাগাতার প্রচার সত্ত্বেও শিক্ষিত মানুষরাও যেভাবে প্রতারকদের ফাঁদে পড়ছেন, তা নিয়ে পুলিসকর্তারা উদ্বিগ্ন। 

Advertisement

প্রতারিত ব্যক্তি একজন চিকিৎসক। তাঁর বাড়ি আবার নিমতা থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে, ২২ ডাঃ এসসি রায় সরণি, নর্থ শিবাচল এলাকায়। তিনি শনিবার নিমতা থানায় এসে সাইবার প্রতারণার অভিযোগ দায়ের করেন। পুলিস জেনেছে, ২৬ আগস্ট ওই চিকিৎসকের কাছে দু’টি অজানা নম্বর থেকে ফোন আসে। ওই ব্যক্তিরা নিজেদের ট্রাই (টেলিকম রেগুলেটরি অব ইন্ডিয়া) আধিকারিক হিসেবে পরিচয় দিয়েছিল। তারা চিকিৎসকের নাম, ফোন নম্বর সহ নানান সঠিক তথ্য জানায়। এরপর প্রতারকরা চিকিৎসককে জানায়, তাঁর আধার কার্ড অবৈধ কাজে ব্যবহার করা হয়েছে। ওই আধার কার্ড বন্ধ করে দেওয়া হবে। এরপর তারা চিকিৎসককে ভিডিও কলে রেখে আর এক ব্যক্তিকে কনফারেন্সে নেয়। ওই ব্যক্তি আবার নিজেকে মহারাষ্ট্রের কোলবা থানার আধিকারিক হিসেবে জাহির করে বলে, থানায় আপনার নামে মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগ হয়েছে। এইসব কেসে কী সাজা হতে পারে, তাও বলা হয়। ভয়ঙ্কর পরিণতির জন্য প্রস্তুত থাকতেও বলা হয়। শুধু মুখের কথা নয়, চিকিৎসকের নামে যে সত্যিকারে কেস হয়েছে, তা বোঝাতে নানান তথ্যও  পাঠাতে শুরু করে। এরপর গ্রেপ্তারি এড়ানো ও বেল করিয়ে দেওয়ার জন্য টাকা চাইতে শুরু করে। তখন প্রতারকদের ফাঁদে পা দিয়ে ওই চিকিৎসক মোট ৪০ লক্ষ টাকা পাঠান।
পরে ওই চিকিৎসক বুঝতে পারেন যে, প্রতারিত হয়েছেন। এরপর শনিবার তিনি থানায় এসে অভিযোগ দায়ের করেন। একজন চিকিৎসক কীভাবে প্রতারকদের কথাও চালিত হলেন, তা নিয়ে তদন্তকারীরাও বিস্মিত। নিমতা ছাড়াও বরানগর, নাগেরবাজার, দমদম,বেলঘরিয়ার মতো একাধিক থানায় গত তিন মাসে কয়েক কোটি টাকার সাইবার প্রতারণা হয়েছে। পুলিশ বিভিন্ন জায়গায় সচেতনতা শিবির করলেও খুব বেশি লাভ হচ্ছে না।

সম্পর্কিত সংবাদ