Bartaman Logo
৮ আগস্ট, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভুল ইউএসজি রিপোর্টের ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার! কাঠগড়ায় চিকিৎসক

চিকিৎসকের ভুল আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (ইউএসজি) রিপোর্টের ভিত্তিতে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার ঘিরে শোরগোল বহরমপুরে।

ভুল ইউএসজি রিপোর্টের ভিত্তিতে অস্ত্রোপচার! কাঠগড়ায় চিকিৎসক
  • ৮ আগস্ট, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: চিকিৎসকের ভুল আল্ট্রাসোনোগ্রাফি (ইউএসজি) রিপোর্টের ভিত্তিতে অপ্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার ঘিরে শোরগোল বহরমপুরে। চিকিৎসার গাফিলতির অভিযোগ তুলে বহরমরপুর থানায় অভিযোগ দায়ের হয়েছে। 

Advertisement

মুর্শিদাবাদ থানার নাসিপুর রাজবাটির ইচ্ছগঞ্জের বাসিন্দা অভিযোগকারী আয়েশা খাতুন জানান, তাঁর মা চম্পা বিবি গত ২৪ জুলাই বহরমপুরের লালদিঘির এক বেসরকারি মেডিকেল সেন্টারে আল্ট্রাসোনোগ্রাফি পরীক্ষা করান। ওই সেন্টারের এক চিকিৎসক ইউএসজির পরীক্ষার রিপোর্ট দেন। সেখানে রোগীর পরিবারকে জানানো হয় যে, রোগীর গলব্লাডারে ১৪.৬ মিমি আকারের একটি পাথর রয়েছে। ওই ইউএসজি রিপোর্টের উপর ভিত্তি করে এক ডাক্তার ওই রোগীকে জরুরি অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন। সেই অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই চম্পা বিবিকে শহরের শিল্প তালুকে অপর এক নার্সিংহোমে ভর্তি করা হয়। পরদিন সেখানেই তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। কিন্তু অস্ত্রোপচার চলাকালীন চিকিৎসকরা দেখেন যে রোগীর পিত্তথলিতে কোনো পাথর নেই! এই পরিস্থিতিতে রোগীর পরিজনরা বিষয়টি জানতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন। 
অভিযোগকারী বলেন, সম্পূর্ণ ভুল ও বিভ্রান্তিকর ইউ.এস.জি. রিপোর্টের উপর ভরসা করে তাঁর মায়ের দেহে এই ভিত্তিহীন অস্ত্রোপচারটি করা হয়েছে। ফলে রোগী এবং তাঁর পরিবার মারাত্মক শারীরিক যন্ত্রণা, মানসিক নিগ্রহ এবং আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। লালদিঘির ওই বেসরকারি মেডিকেল সেন্টারের রেডিওলজিস্ট চিকিৎসকের নামে অভিযোগ দায়ের হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও উপযুক্ত আইনি পদক্ষেপের আবেদন জানান অভিযোগকারিণী। বহরমপুর থানার পুলিশ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার বেশ কিছু ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করেছে। 
তবে শহরের ওই নামী বেসরকারি সংস্থার ল্যাবে এই ধরনের গাফিলতির কাজ হওয়ায় রীতিমতো উদ্বেগ ছড়িয়েছে। প্রতিদিনই শয়ে শয়ে রোগী ও রোগীর পরিজনরা ওই সংস্থার মেডিকেল সেন্টার থেকে বিভিন্ন রিপোর্ট করান। তাঁদের করা রিপোর্ট দেখেই শহরের নামী চিকিৎসকরা রোগীদের রোগ বিশ্লেষণ করে ওষুধ দেন। সেই রিপোর্টেই এমন মারাত্মক ভুল থাকায় উদ্বেগ বেড়েছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ