সংবাদদাতা, বালুরঘাট: বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের মর্গে রয়েছে ৯ টি মৃতদেহ। ভোর থেকেই হাসপাতালে হাজির মৃতের পরিজনরা। বেলা তিনটে বেজে গেলেও দেখা নেই ফরেন্সিক বিভাগের চিকিৎসকের। এতে শনিবার ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে মৃতের পরিবার-পরিজনদের মধ্যে। ক্ষোভে তাঁরা মর্গের গেটে তালা লাগিয়ে দিতে উদ্যত হন। তার আগে অবশ্য পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষুব্ধদের শান্ত করে। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ফোন পেয়ে মর্গে আসেন ফরেন্সিকের মহিলা চিকিৎসক অঙ্কিতা চুনাকর। তিনি আসতেই বিক্ষোভ বেড়ে যায়। অভিযোগ, ডাক্তার মর্গে ঢুকলেও রাগে অনেকক্ষণ ময়নাতদন্ত করেননি। অবশেষে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে ময়নাতদন্ত শুরু হয়।
সূত্রের খবর, পাঁচমাস আগে বালুরঘাট জেলা হাসপাতালের ফরেন্সিক বিভাগে একজন মহিলা চিকিৎসক এসেছেন। তিনি আবার দু’বছরের জন্য এসেছেন। ইতিমধ্যে ওই মহিলা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, তিনি সময় মতো আসেন না। দুপুরের পরে এসে ময়নাতদন্ত করেন। সময়মতো না আসায় প্রায়দিনই বিক্ষোভ চলছে হাসপাতালে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট দিতেও দেরি হচ্ছে। প্রায় ১০০ রিপোর্ট এখনও ঝুলে রয়েছে। ফলে প্রতিদিনই মৃতের পরিবার ঘুরছে। এনিয়ে হাসপাতালে সুপার ওই চিকিৎসককে একাধিকবার সতর্কও করেন। তবুও লাভ হচ্ছে না।
হাসপাতাল সুপার কৃষ্ণেন্দু বিকাশ বাগ বলেন, মৃতের পরিবারদের সমস্যা হচ্ছে, বুঝতে পারছি। হাসপাতালে ময়নাতদন্তের রিপোর্টও ঝুলে রয়েছে। আমি ওই চিকিৎসককে একাধিকবার সতর্ক করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকেও জানিয়েছি। চিকিৎসক অঙ্কিতা চুনাকর বলেন, আমি সময়েই এসেছিলাম। তারপরেও আমাকে হেনস্তা করা হয়েছে। হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
মৃতের এক আত্মীয় বিপ্লব মণ্ডল বলেন, সকাল থেকে অপেক্ষা করেছি। ময়নাতদন্ত করতে দেরিতে আসেন। গঙ্গারামপুরের বাসিন্দা মতিউর রহমান বলেন, হাসপাতালে এসে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেছি। দুপুর গড়িয়ে গেলেও চিকিৎসকের দেখা নেই। অনেক দেরি করেছেন। চিকিৎসক রোজ দেরিতে আসায় মানুষ হয়রান হচ্ছেন। বিক্ষোভ চলছে। - নিজস্ব চিত্র