Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ব্যাংকের ইএমআই লুকিয়ে একের পর এক ফ্ল্যাট বিক্রি, লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা, নারায়ণপুরে ধৃত চিকিৎসক

রাজারহাট ও গোপালপুর এলাকায় এই কায়দায় প্রতারণার দু’টি পৃথক অভিযোগ জমা পড়েছিল নারায়ণপুর থানায়

ব্যাংকের ইএমআই লুকিয়ে একের পর এক ফ্ল্যাট বিক্রি, লক্ষ লক্ষ টাকার প্রতারণা, নারায়ণপুরে ধৃত চিকিৎসক
  • ৩ নভেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: ব্যাংক ঋণ গোপন রেখে শহরে ফ্ল্যাট বিক্রির নামে অভিনব প্রতারণা! চিকিৎসকের খপ্পরে পড়ে পুরোনো ফ্ল্যাট কিনে লক্ষ লক্ষ টাকা খুইয়েছেন একাধিক ক্রেতা। যাঁরা তাঁর কাছে ফ্ল্যাট কিনেছিলেন, তাঁরা জানতেনই না সেই ফ্ল্যাটের ইএমআই এখনও শেষ হয়নি! ব্যাংকে মর্টগেজে রয়েছে! অগত্যা ফ্ল্যাট কেনার কিছুদিন পরই দরজায় পড়ত ঋণ মেটানোর নোটিশ। যা দেখে ক্রেতাদের মাথায় বাজ পড়ার মতো অবস্থা। রাজারহাট ও গোপালপুর এলাকায় এই কায়দায় প্রতারণার দু’টি পৃথক অভিযোগ জমা পড়েছিল নারায়ণপুর থানায়। তদন্তে নেমে নারায়ণপুর থানার পুলিশ অভিযুক্ত হোমিওপ্যাথি চিকিৎসককে গ্রেফতার করল। তারা জানিয়েছে, ধৃতের নাম অজয় কুমার। তাঁর আসল বাড়ি বিহারে। তবে শহরের বিভিন্ন জায়গায় তাঁর ঠিকানা রয়েছে। কতজনের সঙ্গে তিনি এই ধরনের প্রতারণা করেছেন, তার তদন্ত শুরু হয়েছে। পুলিশের অনুমান, প্রতারণার পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এমনকি, ভিন রাজ্যেও সে একই ধরনের প্রতারণা করেছে বলে অনুমান। সেই বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত অজয় কুমার রীতিমতো পরিকল্পনা করেই এই প্রতারণা করেছেন। কখনও তিনি নিজের নামে ফ্ল্যাট কিনতেন। কখনও আবার ফ্ল্যাট কেনা হত কোম্পানির নামে। এর জন্য তিনি একটি কোম্পানিও খুলেছিলেন। ফ্ল্যাট বিক্রির নামে প্রতারণা নিয়ে গত মার্চ মাসে নারায়ণপুর থানায় পরপর দু’টি অভিযোগ জমা পড়ে। রাজারহাটে একটি ফ্ল্যাট নিয়ে ২১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকার প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়। সেই অভিযোগ জমা পড়েছিল গত ২৯ মার্চ। তার পরদিনই গোপালপুর এলাকায় অপর একটি ফ্ল্যাটের ক্ষেত্রে ৪১ লক্ষ টাকা প্রতারণার পৃথক একটি অভিযোগ দায়ের হয়।
দুই অভিযোগকারীই পুলিশকে জানান, তাঁরা অজয় কুমারের কাছ থেকে ফ্ল্যাট কিনে প্রতারিত হয়েছেন। ফ্ল্যাট যে এখনও ব্যাঙ্কে মর্টগেজ আছে, সেই  কথা চেপে রেখেই তাঁদের তা বিক্রি করা হয়েছে। দু’টি অভিযোগেরই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ জানতে পেরেছে, ধৃত অজয় ব্যাংক ঋণ নিয়ে ফ্ল্যাট কিনেই ক্রেতা খুঁজতে নেমে পড়তেন। তাঁদের জানাতেন, ফ্ল্যাট বিক্রি আছে। ব্যাংক লোন এবং ইএমআইয়ের কথা কিছুই বলতেন না। এমনকি, এক আইনজীবী ফ্ল্যাটের কাগজপত্র পরীক্ষা করে বলেছিলেন, সব ঠিক আছে! তাতে ক্রেতাদের বিশ্বাস আরও পোক্ত হয়েছিল। কিন্তু কিছুদিন পরই ফ্ল্যাটের দরজার বাইরে তাঁরা ব্যাংকের নোটিশ দেখতে পান। ফেঁসে গিয়েছেন বুঝতে পেরে পুলিশের দ্বারস্থ হন।
ওয়াকিবহাল মহল বলছে, ফ্ল্যাট হোক বা বাড়ি, যে কোনও সম্পত্তি কেনার আগে ভালো করে যাচাই করতে হবে। লোন পরিশোধ হয়ে গিয়েছে কি না, ইএমআই বাকি আছে কি না—এ সংক্রান্ত সমস্ত খোঁজখবর করতে হবে সেই ব্যাংকে গিয়েই। তাতে কিছুটা হলেও কমবে প্রতারিত হওয়ার আশঙ্কা। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ