Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দিনহাটা পুরসভা: ভুয়ো রসিদকাণ্ডে তিন কর্মচারীকে জিজ্ঞাসা পুলিসের

দিনহাটা পুরসভা: ভুয়ো রসিদকাণ্ডে তিন কর্মচারীকে জিজ্ঞাসা পুলিসের
  • ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, দিনহাটা: দিনহাটা পুরসভার পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের হতেই অভিযুক্তকে ডেকে জিজ্ঞেসাবাদ শুরু করেছে দিনহাটা থানা। তাঁর কথার সূত্র ধরে পুরসভার আরও দুই কর্মচারীকে জেরা করেছে পুলিস। প্ল্যান পাশের ভুয়ো রসিদকাণ্ডে দুর্নীতির মাথার খোঁজ শুরু হয়েছে। তবে এই পুলিসি তদন্তে আস্থা নেই বিরোধীদের। ওই ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি করেছে সিপিএম। তাদের দাবি শাসক দলের নেতা-কর্মীরা জড়িত ওই ঘটনায়। তাই ধামাচাপা দিতেই পুলিসে অভিযোগ করা হয়েছে। যদিও বিরোধীদের ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে দিনহাটা পুরসভা। ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুন, কাউকে রেয়াত করা হবে না বলে সাফ জানিয়েছে তারা। 
Advertisement
সিপিএমের কোচবিহার জেলা কমিটির সদস্য শুভ্রালোক দাস বলেন, কোনও একজন পুরকর্মীর পক্ষে এতবড় দুর্নীতি করা সম্ভব নয়। এই ঘটনার সঙ্গে পুরসভার অনেকেই জড়িত। শাসকদলের নেতা-কর্মীদের বাঁচাতে পুলিসে অভিযোগ জানানো হয়েছে। যাতে দুর্নীতির ঘটনার চাপা দেওয়া যায়। আমরা বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবী করছি। তাহলেই পরিষ্কার হবে আর কারা জড়িত এই দুর্নীতিতে। 
তৃণমূল পরিচালিত দিনহাটা পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান সাবির সাহা চৌধুরী বলেন, দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়ার কোনও প্রশ্নই নেই। বিষয়টি নজরে আসা মাত্রই পুলিসে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। যারাই জড়িত থাকুক ওই ঘটনায় প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দিনহাটা থানার আইসি জয়দীপ মোদক বলেন, ঘটনার তদন্ত সঠিক পথেই এগচ্ছে। 
২০২১ সালে পুরসভায় জমা হওয়া তথ্য নিয়েই ২৯৭টির বাড়ির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। সেই বাবদ আবেদনকারীরা পুরসভায় টাকাও জমা করেন। এর বাইরে বাড়ি তৈরির বিষয়ে আর কোনও অর্থ জমা পড়েনি। পুরসভা অনুমতি দেয়নি কাউকে। তবে ২ নম্বর ওয়ার্ডের ওই বাসিন্দার কাছে থাকা পুরসভার রসিদের সিরিয়াল নম্বর ছিল ৩৪০। অর্থাৎ ৪১টি সিরিয়াল নম্বর আরও মাঝে থাকার কথা। তাহলে কি আরও অনেকে ওই চক্রের শিকার হয়েছেন? পুরসভা কি টাকা পায়নি বাকি বাড়িগুলির? এতদিন পুরসভার নজরে বিষয়টি আসেনি কেন সেনিয়েও প্রশ্ন তুলছে বিরোধীরা। মাঝে তিন বছর পেরিয়ে গিয়েছে। এই সময়ে ভুয়ো রসিদ দিয়ে আরও কোনও বাড়ির নকশার অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না, প্রশ্ন উঠছে। এগুলিরই উত্তর খুঁজতে বুধবার ডাকা হয় অভিযুক্ত পুরকর্মীকে। বৃহস্পতিবার ওই কর্মচারী সহ আরও দুই পুরকর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিস। 
পুরসভার সূত্রে খবর, স্থানীয় কাউন্সিলারের নজরে আসতেই তদন্ত শুরু করে পুরসভা। ওই বাসিন্দার দেওয়া কাগজপত্র রেকর্ডে মিলিয়ে দেখা হয়। পুরসভায় ওঁর ব্যক্তির আবেদনপত্র নিয়ে কোনও তথ্যই ছিল না। তাতেই বোঝা যায় জালিয়াতি করা হয়েছে ওই ব্যক্তির সঙ্গে। 
সম্পর্কিত সংবাদ