Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার দোসর স্ক্র্যাব টাইফাস, উৎকণ্ঠা 

ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার দোসর স্ক্র্যাব টাইফাস, উৎকণ্ঠা 
  • ৮ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে স্ক্র্যাব টাইফাস। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্ক্র্যাব টাইফাসে আক্রান্ত হয়ে ১৩ জন রোগী ভর্তি আছে। তবে সকলের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। ঝোপ জঙ্গলে থাকা এক ধরনের পোকার কামড়ে এই রোগ ছড়ায়। তাই সাবধানতা অবলম্বন করতে বলছেন চিকিৎসকরা। প্রায় প্রতিদিনই জেলায় দু’-একজন করে আক্রান্তের হদিশ মেলায় উদ্বিগ্ন স্বাস্থ্যকর্তারা। স্ক্র্যাব টাইফাসে আক্রান্ত রোগীর উপসর্গ অনেকটা ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া আক্রান্তের মতোই। তাই আলাদা করে চিকিৎসা শুরু করতে অনেকটাই দেরি হয়ে যায়। তীব্র জ্বর ও মাথাব্যথা নিয়ে কোনও রোগী সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হলেই, দ্রুততার সঙ্গে রক্ত পরীক্ষা করে স্ক্র্যাব টাইফাস কি না দেখে নেওয়া হচ্ছে। এক্ষেত্রে জ্বরের ব্যাকটেরিয়া মূলত ফুসফুস, লিভার, পাকস্থলী ও মস্তিষ্কে আক্রমণ করে। চিকিৎসায় দেরি হলে মারাত্মক পরিণতি হতে পারে বলে চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন।
Advertisement
মেডিক্যাল কলেজের সুপার অনাদি রায়চৌধুরী বলেন, আমাদের জেলায় মাঝেমধ্যেই স্ক্র্যাব টাইফাসে আক্রান্ত রোগীদের হদিশ মেলে। তবে সময় মতো চিকিৎসা পেলে এটা নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। 
মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে চলতি বছরে যতজনই এই রোগ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন, সকলেই সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। বর্তমানে ১৩ জন রোগী ভর্তি আছেন। আমরা তাঁদের উপর বাড়তি নজর রেখেছি। সকলেরই শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল। রোগ ধরতে পারলে স্বল্প মূল্যের ডক্সিসাইক্লিন ওষুধেই এই রোগ সম্পূর্ণ নিরাময় হয়। তাই আশঙ্কার কিছু নেই। 
মেডিক্যাল কলেজের এক চিকিৎসক বলেন, এই পোকা খুবই ছোট আকারের হয়। পোকা যেখানে কামড়ায় সেখানে দাগের চারপাশে ছোট ছোট ফুসকুরির মতো বের হয়। যা দেখেই সাধারণত রোগ শনাক্ত করা যেতে পারে। 
সাধারণত পোকা কামড়ানোর পাঁচ থেকে সাত দিন পরে জ্বর আসে। সঙ্গে বমি, পেটখারাপের লক্ষণ দেখা দেয়। চোখ লাল হয়ে যায়। অনেকের প্রচণ্ড মাথা যন্ত্রণা হয়। এভাবে পাঁচ ছ’দিন কেটে গেলে পরিস্থিতি অনেক সময় হাতের বাইরে চলে যায়। তাই আগে থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে রক্ত পরীক্ষা করে নেওয়া প্রয়োজন।
সম্প্রতি নদীয়া জেলার হাঁসখালি ব্লকের ১৩ বছরের এক নাবালিকার স্ক্র্যাব টাইফাসে মৃত্যু হয়েছে। মাত্র ১০ দিনের জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কল্যাণীর এইমসে তার মৃত্যু হয়। সময়মতো রোগ ধরতে না-পারার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে বলে এইমসের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের প্রাথমিক অনুমান। পড়শি জেলার এই ঘটনায় রীতিমতো আতঙ্কে রয়েছেন মুর্শিদাবাদের গ্রামের মানুষজন। জ্বর হলে সময় নষ্ট না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে বলছেন বিশেষজ্ঞরা। 
মুর্শিদাবাদ মেডিক্যালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩৩ জনের চিকিৎসা চলছে। সেই সঙ্গে ম্যালেরিয়া আক্রান্ত পাঁচজন ভর্তি আছে। ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়ার সঙ্গে স্ক্র্যাব টাইফাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। আক্রান্ত এক রোগীর পরিজন বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে আমার ছেলে জ্বরে ভুগছে। প্রথমে ভেবেছিলাম ভাইরাল ফিভার। জ্বর না কমায় রক্ত পরীক্ষা করলাম। সেখানে ডেঙ্গু ও ম্যালেরিয়া ধরা পড়েনি। 
কিন্তু, পরিস্থিতি নাগালের বাইরে যেতেই হাসপাতালে নিয়ে আসি। এখানে রক্ত পরীক্ষায় স্ক্র্যাব টাইফাস হয়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। এখন ও কিছুটা সুস্থ আছে। 
সম্পর্কিত সংবাদ