Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডেঙ্গু আতঙ্কে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে, ক্ষোভ

ডেঙ্গু আতঙ্কে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হচ্ছে, ক্ষোভ
  • ১০ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ডোমকল: লাগামছাড়া ডেঙ্গু। দ্রুত বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। শুধু আক্রান্তই নয়, বেয়াড়া ডেঙ্গুর কোপে মৃত্যুও হয়েছে। অভিযোগ, তা সত্ত্বেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে পুরোপুরিভাবে ব্যর্থ প্রশাসন। দিন দিন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে থাকায় এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। নতুন করে পরিবারের কেউ যাতে আক্রান্ত না হয়, সেই শঙ্কায় আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন বাসিন্দারা। ইসলামপুরের বিভিন্ন এলাকায় এই ছবি দেখা যাচ্ছে। তাঁরা প্রশাসনের ভূমিকায় ব্যাপক ক্ষুব্ধ। তাঁদের অভিযোগ, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশাসন ও স্বস্থ্যদপ্তরের কোনও হেলদোল নেই।
Advertisement
প্রসঙ্গত, মাসখানেক ধরে ইসলামপুরজুড়ে বিভীষিকার রূপ ধারণ করেছে ডেঙ্গু। ব্যাপকভাবে বাড়তে শুরু হয়েছে আক্রান্তের সংখ্যাও। এই মরশুমে এখনও পর্যন্ত রানিনগর-১ ব্লকে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ২২৭ জন। গত দু’দিন ধরে আবার যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে তথ্য পোর্টালে আপডেটই হয়নি বলে খবর প্রশাসনিক সূত্রে। বর্তমানে ব্লকে সক্রিয় ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৬৬। অভিযোগ, ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা হুড়মুড়িয়ে বাড়লেও প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। বাড়ি বাড়ি মানুষ জ্বরে ভুগলেও পঞ্চায়েত-প্রশাসনিক কর্তারা ঠিকঠাক বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন না। তাঁদের আরও অভিযোগ, শুধুমাত্র খাতায় কলমে কিংবা শিবির করেই পঞ্চায়েত-প্রশাসন দায় সারছে। বিভিন্ন জায়গায় এখনও জল জমে রয়েছে। এমনকী ডেঙ্গু নিয়ে সেভাবে সচেতনতামূলক প্রচারও নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। ডেঙ্গু যে হারে বাড়ছে তাতে হাতে গোনা কয়েকজন কর্মী নিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয় বলে দাবি পঞ্চায়েতের। এই অবস্থায় বাড়ির আশেপাশে কেউ আক্রান্ত হলে বাড়ির লোক তা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হতে পারে, এই শঙ্কায় বাড়ির মহিলা কিংবা বাচ্চাদের অন্যত্র সরিয়ে দিচ্ছেন বাড়ির কর্তারা। তাঁরা অনেকেই ইসলামপুরের আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন। ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন উপপ্রধান সেলিম রেজা। আশপাশের বাড়ির কয়েকজন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ায় বাড়ির লোকজন আক্রান্ত হতে পারে এই শঙ্কায় সেলিম সাহেব তাঁর ছেলে, বউকে অন্যত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন। তবে শুধু সেলিম সাহেব নন, ইসলামপুরের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক পরিবারের শিশু, বয়স্ক, মহিলারা আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিচ্ছেন। 
স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ফেসবুকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ চলছে। মাঝেমধ্যেই মোবাইলের স্ক্রিনে ফুটে উঠছে নেতারা এটা ওটা স্প্রে করছেন। কিন্তু, বাস্তবে কাজটা হচ্ছে কোথায়? শুধুমাত্র দু’চারটে জায়গায় লোক দেখিয়ে ফগিং স্প্রে করলেই দায় এড়ানো যায় না। ময়দানে নেমে লাগাতার সচেতনতা প্রচার যতক্ষণ না হচ্ছে, ততক্ষণ কোনওভাবেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।
নিজেদের প্রচেষ্টায় কোনও খামতি নেই বলে দাবি করছে পঞ্চায়েত প্রশাসন থেকে এলাকার জনপ্রতিনিধিরা। শনিবার রানিনগরের বিধায়ক সৌমিক হোসেনের নেতৃত্বে ইসলামপুরের বিভিন্ন এলাকায় ডেঙ্গু নাশক স্প্রে করা হয়। অনেকের হাতে মশারি তুলে দেওয়া হয়। বিধায়ক বলেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমস্ত রকম চেষ্টা চলছে। আমাদের চেষ্টায় কোনও খামতি নেই। আশপাশের ব্লক থেকে ফগিং মেশিন এনেও এলাকায় স্প্রে করা হচ্ছে। আমি নিজে গিয়ে এদিন ইসলামপুরের বিভিন্ন এলাকায় স্প্রে করেছি। মানুষকে সচেতন করেছি। কিন্তু, মানুষ সচেতন না হলে আমরা কী করতে পারি? মানুষকে আরও সচেতন হতে হবে। 
সম্পর্কিত সংবাদ