Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তবু মোকাবিলায় খরচ হয়নি ফান্ডের টাকা

ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে, তবু মোকাবিলায় খরচ হয়নি ফান্ডের টাকা
  • ১১ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, ডোমকল: ক্রমশই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু। সাতদিনে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ৭০ জন। রানিনগর ১ ব্লকে মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত ২৯১। পুরো ব্লকে বর্তমানে ডেঙ্গু পজিটিভ রোগীর সংখ্যা ৫১ জন। নভেম্বরের প্রথমার্ধে রানিনগর ১ ব্লকের ইসলামপুর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় ডেঙ্গুর এই ভয়াবহ পরিসংখ্যানই উদ্বেগের বিষয়! যদিও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে তাঁদের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করছেন পঞ্চায়েত-প্রশাসনিক আধিকারিকরা। তবে এই পরিস্থিতিতেও ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের সবক’টি সংসদ এলাকার ভিএইচএসএনসি ফান্ডের টাকা অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ব্যাঙ্কেই। বিরোধী সদস্যদের অভিযোগ, নতুন বোর্ড গঠনের বছর পেরিয়ে গেলেও পঞ্চায়েতের গড়িমসির জন্য ফান্ডের অপারেটর হিসেবে তাঁদের যুক্ত করা হয়নি। কাজেই ওই টাকা ব্যবহার করতে পারছেন না পঞ্চায়েত সদস্যরা। আর সেই কারণেই ফান্ডে টাকা থাকলেও তা খরচ করা যাচ্ছে না, বলে অভিযোগ তুলেছেন ওই সদস্যরা। 
Advertisement
পঞ্চায়েত স্তরে স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যবিধান ও স্যানিটেশনের উন্নতি এবং কার্যকরভাবে পরিচালনা করার জন্য জাতীয় গ্রামীণ স্বাস্থ্য মিশনের মধ্যে একটি কমিটি রয়েছে। যার পোশাকি নাম ‘গ্রামীণ স্বাস্থ্য, স্বাস্থ্যবিধান এবং পুষ্টি কমিটি’ বা ভিলেজ হেলথ স্যানিটেশন অ্যান্ড নিউট্রিশন কমিটি’ (ভিএইচএসএনসি)। গ্রামীণ এলাকার স্বাস্থ্য পরিষেবা ও সচেতনতা বৃদ্ধির কাজ করে ওই কমিটি। গ্রামীণ এলাকায় স্বাস্থ্য ও বিভিন্ন আনুষঙ্গিক বিষয় নিয়ে নিজস্ব সংসদে জোরদার প্রচার, নজরদারি ও মানুষকে সচেতন করানোর দায়িত্ব দিতেই এই কমিটি গঠন করা হয়। প্রতিটি সংসদ এলাকায় আশা কর্মী, অঙ্গনওয়াড়ি কর্মী, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলা, এলাকার পঞ্চায়েত সদস্য, উপ স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এএনএমদের নিয়ে ওই কমিটি গঠন করা হয়। একটি পঞ্চায়েতের মধ্যে যতগুলি সংসদ এলাকা রয়েছে, সবক’টির জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা হয়ে থাকে। প্রতিটি কমিটির জন্য আলাদা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকে। প্রতিটি কমিটিকে বিভিন্ন কার্যক্রমের জন্য বছরে প্রায় ১০ হাজার টাকা করে সরকার থেকে দেওয়া হয়। ওই অ্যাকাউন্ট অপারেটর হিসেবে পঞ্চায়েত সদস্য ও এএনএমকে যুক্ত করা হয়। তাঁরাই ওই কমিটির সদস্যদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্তের পর মিলিত সম্মতিক্রমে ওই ব্যাঙ্কের খাতা থেকে অর্থ তুলতে পারেন। কিন্তু পঞ্চায়েত সূত্রের খবর ৩০ আসন বিশিষ্ট চক ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৬টি আসনে এখনও ওই কমিটি গঠন করায় যায়নি। যে ক’টি সংসদে কমিটি গঠন করা হয়েছে, তার কোনওটিতেই এখনও অপারেটর হিসেবে নতুন পঞ্চায়েত সদস্যদের যোগ করা হয়নি। আর এখানেই অভিযোগ তুলেছেন পঞ্চায়েত মেম্বাররা।
ইসলামপুরের নশিয়তপাড়ার কংগ্রেস সদস্যা মনিরা পারভিন বলেন, পঞ্চায়েতের নতুন বোর্ড গঠনের এক বছর পেরিয়ে গেলেও এখনও ওই অ্যাকাউন্টে অপারেটর হিসেবে কেন আমাদের যুক্ত করা হয়নি? অ্যাকাউন্টে প্রায় ১০ হাজার টাকা পড়ে রয়েছে। একটি সংসদ এলাকায় ১০ হাজার টাকা অনেক কাজে লাগানো যায়। বিশেষ করে এই পরিস্থিতিতে ওই টাকা ব্যবহার করে বিভিন্ন মাধ্যমে অন্তত মানুষকে সচেতন করতে পারি।
যদিও চক ইসলামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বেগম হাসিনা নসরৎ বলেন, ছ’টি সংসদ ছাড়া বাকি সংসদগুলির কমিটি গঠন করা হয়ে গিয়েছে। বাকিগুলির কমিটি খুব দ্রুত গঠন করা হবে। তবে বিভিন্ন ফান্ডের টাকায় আমরা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের কাজ করছি। রানিনগরের বিধায়ক আব্দুল সৌমিক হোসেন বলেন, খোঁজ নিয়ে দেখছি বিষয়টি। 
সম্পর্কিত সংবাদ