Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দিনভর মাটি কামড়ে পড়ে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা

দিনভর মাটি কামড়ে পড়ে তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা
  • ১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বিন্নাগুড়ি: দলের স্পষ্ট নির্দেশ ছিল, বুথ ছেড়ে যাওয়া চলবে না। মাদারিহাট বিধানসভা উপ নির্বাচনে নেতৃত্বের সেই নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মেনে দিনের শেষে তৃণমূল কর্মীদের মুখে চওড়া হাসি। গয়েরকাটা চা বাগান, জ্যোতির্ময় কলোনি কিংবা গয়েরকাটা বাজার, বিন্নাগুড়ি নেতাজিপাড়া থেকে বিন্নাগুড়ি বাজারে দিনভর বুথ আঁকড়ে পড়ে থাকলেন জোড়াফুলের কর্মীরা। কার্যত উৎসবের মেজাজে ভোট করান তাঁরা। রাতে গয়েরকাটা চা বাগানে আবির খেলেন তৃণমূল কর্মীরা। 
Advertisement
তুলনায় সকাল থেকেই অনেকটা ছন্নছাড়া ছিল গেরুয়া শিবির। পতাকা, ফেস্টুন কিংবা ক্যাম্প অফিস থাকলেও দেখা মেলেনি বিজেপি কর্মীদের। অভিযোগ, বেশ কয়েকটি জায়গায় বাড়ি থেকে কয়েকজনকে ধরে-বেঁধে নিয়ে এসে ‘মুখরক্ষা’য় বুথে কিংবা ক্যাম্প অফিসে বসায় পদ্ম পার্টি। তাঁদের অনেকে সাফ জানিয়ে দেন, ‘টাকা দেবে। সঙ্গে দুপুরে মুরগির মাংস, ভাত। তাই বসেছি।’ বিন্নাগুড়ি ও সাঁকোয়াঝোরা-১ পঞ্চায়েত ঘুরে দু-একটি ছাড়া আরএসপি প্রার্থীর ক্যাম্প অফিস নজরে পড়েনি। বুথের ভিতরেও তাদের লোক ছিল না বেশিরভাগ জায়গাতেই। ভোটের ময়দানে সেভাবে দেখা যায়নি নির্দল প্রার্থী বুদ্ধিমান লামাকে। 
সাঁকোয়াঝোরা-১ পঞ্চায়েতের গয়েরকাটা চা বাগানে চারটি বুথ ২০৯, ২১০, ২১১ ও ২১২। সবক’টিতেই তৃণমূল এবার বড় ব্যবধানে লিড পাবে, ভোট শেষে আত্মবিশ্বাসী দলের কর্মীরা। এখানেও বিজেপির কোনও ক্যাম্প অফিস নজরে আসেনি। গয়েরকাটা টি জি প্রাইমারি স্কুলের বুথের কিছুটা দূরে দাঁড়িয়ে তৃণমূল কর্মী বিরাজ লাকরা বলেন, লোকসভায় ২১০ নম্বর বুথে আমাদের ৪২ ভোট এবং ২১১ নম্বর বুথে ৩৪২ ভোট লিড ছিল। এবার আমরা এই দু’টি বুথ থেকে অন্তত ৫০০ ভোট লিড দেব। 
গয়েরকাটা হাইস্কুলে ২১৪ নম্বর বুথের বাইরে দাঁড়িয়েছিলেন তৃণমূল কর্মী আলপনা গুহ সরকার। বললেন, ঠিক যেভাবে পঞ্চায়েত ভোট হয়, সেভাবেই এবার খেটেছি আমরা। গত কয়েকদিন ধরে রাত ১টার আগে বাড়ি ফিরতে পারিনি। শুধু নিজের বুথটুকু আঁকড়ে রেখেছি। এখানে বিজেপির পঞ্চায়েত সদস্য। কিন্তু আমরা অন্তত একশো ভোট লিড দেব। 
দুপুরে গয়েরকাটা বাজারে এসেছিলেন তৃণমূল প্রার্থী জয়প্রকাশ টোপ্পো। আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে তাঁকে হাট ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক মনোজ পাটোয়া বলেন, সংখ্যালঘু অধ্যুষিত ২১৩ নম্বর বুথে আমরা তো লিড দিচ্ছিই। সাঁকোয়াঝোরা-১ পঞ্চায়েত থেকেও লিড আসবে। একথা শুনে প্রার্থীর মুখে হাসি ফোটে। কারণ সাঁকোয়াঝোরা ও বিন্নাগুড়ি পঞ্চায়েত থেকেই এবার লোকসভায় বিজেপি প্রায় সাড়ে সাত হাজার ভোটে এগিয়ে যায়। ফলে এই দুই পঞ্চায়েতের ৫২টি বুথই মাদারিহাট বিধানসভা উপ নির্বাচনে ‘নির্ণায়ক’ হয়ে উঠেছে তৃণমূলের কাছে। বিন্নাগুড়ি হাইস্কুলে ১৯৫ নম্বর বুথের দায়িত্বে থাকা তৃণমূল কর্মী আজিজুল হোসেন বলেন, এখানে বিজেপিকে হাওয়া করে দিয়েছি আমরা। 
ভোট শেষে জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, বিধানসভার ১২টি পঞ্চায়েতের মধ্যে ন’টিতে আমরা এগিয়ে থাকব। তিনটি পঞ্চায়েতে লড়াই দিয়েছে বিজেপি।
সম্পর্কিত সংবাদ