সংবাদদাতা, সিউড়ি: সকাল থেকেই আকাশের মুখ ভার। হালকা ঝিরিঝিরি বৃষ্টি এবং দিনভর কুয়াশাচ্ছন্ন ছিল বীরভূমের বিভিন্ন শহর ও গ্রামাঞ্চল। সেই সঙ্গে কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় জবুথবু অবস্থা সাধারণ মানুষের। এই বৃষ্টির সঙ্গে কনকনে শীত পড়ার আশায় বুক বেঁধেছেন শীতবস্ত্র ব্যবসায়ীরা। তেমনি কিছুটা হলেও চিন্তায় রয়েছেন আমন ধান চাষিরা। কারণ বীরভূমে জেলাজুড়ে এই মুহূর্তে জোর কদমে চলছে ধান কাটার কাজ। এখনও অনেক চাষির ধান রয়েছে চাষের জমিতে। আচমকা এই বৃষ্টিতে শীতকালীন সব্জি চাষে একাংশ চাষিদের কিছুটা সাহায্য করলেও যেসব চাষির আমন ধান এখনও কাটা হয়নি তাঁরা কিছুটা চিন্তায় পড়েছেন। সিউড়ি খটঙ্গা গ্রাম এলাকার এক সব্জি চাষি সনাতন দলুই বলেন, আমরা প্রতিবছর শীতকালীন সব্জি চাষ করি। এখন জমিতে রয়েছে ফুলকপি, বাঁধাকপি সহ আরও অনেক কিছু। এই বৃষ্টি কিছুটা হলেও চাষে সাহায্য করল। আবার সিউড়ি আব্দারপুর সংলগ্ন এলাকার এক চাষি বসন্ত দাস বলেন, আমাদের আমন ধান পেকে গিয়েছে। ধান কাটার কাজ চলছে জোর কদমে। খামারে জায়গার অভাবে মাঠেই ধান ঝাড়াই করে বাড়িতে তোলা হচ্ছে। অনেক ধান এখনও কাটা হয়নি। বৃষ্টি এবং স্যাঁতস্যাঁতে কুয়াশাচ্ছন্ন আবহাওয়াতে ধান নষ্ট হবে কি না, তাই নিয়ে চিন্তায় রয়েছি। অন্যদিকে বৃষ্টি এবং কনকনে ঠান্ডা হাওয়ায় আশার আলো দেখছেন সিউড়ির শীত বস্ত্র ব্যবসায়ীরা। তাঁদের কথায় এবছর শীত খুব ধীর গতিতে পড়ছে এই জেলায়। তাই শীত বস্ত্রের কেনাকাটাও চলছে খুব ধীরগতিতে। লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিয়োগ করে তাঁরা ব্যবসা করছেন। তাই এই আবহাওয়া দ্রুত কনকনে শীত পড়তে সাহায্য করবে বলে মনে করছেন তাঁরা। সিউড়ির এক শীতবস্ত্র ব্যবসায়ী শেখ শামিম বলেন, প্রতিবারই আমরা শীতবস্ত্র বিক্রি করি। এবারও লক্ষাধিক টাকা বিনিয়োগ করেছি ব্যবসায়। এবার খুব ধীরগতিতে শীত পড়ছে। আজকের বৃষ্টির কারণে কনকনে ঠান্ডা হাওয়া বইছে চারিদিকে। তাই বহু মানুষ ঠান্ডা থেকে রক্ষা পেতে শীতবস্ত্র কেনাকাটা শুরু করেছেন।