নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও তমলুক: মাস খানেক আগে আগুন লাগে আনন্দপুর লাগোয়া নাজিরাবাদের জোড়া গোডাউনে। ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া গিয়েছিল ২৭ জনের দেহাংশ। কিন্তু তাঁদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রয়োজন পড়ে ডিএনএ টেস্টের। ১৮ জনের হাড়গোড়ের সঙ্গে তাঁদের পরিবারের সদস্যের ডিএনএ মিলে গিয়েছে। অর্থাৎ, এদের পরিচয় নিশ্চিত করা গিয়েছে। কিছু সরকারি কাজ বাকি আছে। তারপরই পুলিশের পক্ষ থেকে মৃতদের দেহাংশ তুলে দেওয়া হবে পরিবারের হাতে। কাঁটাপুকুর মর্গে সংরক্ষণ করে রাখা দেহাংশ কয়েকদিন পর ফিরিয়ে দেওয়া হবে। বাকি ন’টি দেহাংশ চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়া চলছে।
১৮ জনের মধ্যে পূর্ব মেদিনীপুরের ১৬ জনের দেহ শনাক্ত করা গিয়েছে বলে জানান সেখানকার জেলাশাসক ইউনিস ঋষিণ ইসমাইল। তমলুক থানার শ্রীরামপুর গ্রামের গুরুপদ সাউ, সুতাহাটার হরিবল্লভপুর গ্রামের সুব্রত খাঁড়া, নন্দকুমারের কার্তিক জানা সহ মোট ১৬ জনের দেহ ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে পরিচিতি নিশ্চিত হওয়া গিয়েছে। পূর্ব মেদিনীপুরের ২২ জন নিখোঁজ ছিলেন। ওই ২২জনের পরিবারের লোকজন ডিএনএ নমুনা দিয়েছিলেন। বাকি যে দু’টি দেহ শনান্ত হয়ে তাঁদের একজনের বাড়ি পশ্চিম মেদিনীপুর ও অন্যজনের বাড়ি বারুইপুর।
২৬ জানুয়ারি ভোররাতে দাউদাউ করে জ্বলে উঠেছিল মোমো ও ডেকরেটর্স সংস্থার দুটি গোডাউন। প্রায় দেড় দিন ধরে আগুন জ্বলতে থাকে সেখানে। দমকলের ১২টি ইঞ্জিন গিয়ে আগুন নেভাতে হিমশিম খায়। বিপুল পরিমাণ দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন বড়ো আকার নিয়েছিল। দু’টি গোডাউনে থাকা বহু কর্মী আটকে পড়েন। তার মধ্যে মোমো সংস্থার গোডাউনে ছিলেন তিনজন এবং বাকিরা ওই ডেকরেটর্স সংস্থার গোডাউনের বিভিন্ন জায়গায় ছিলেন। ২৭ জন নিখোঁজ থাকার ডায়েরি হয়েছিল নরেন্দ্রপুর থানায়। তিন-চার দিন খোঁজাখুঁজির পর ২৭ জনের দেহের কিছু না কিছু অংশ পাওয়া যায় এবং সেসব পাঠিয়ে দেওয়া হয় মর্গে। দেহাংশ চিহ্নিত করার জন্য নিখোঁজদের নিকটাত্মীয়ের রক্তের নমুনা নেওয়া হয়েছিল। প্রায় এক মাসের মাথায় সবার সঙ্গে মিলিয়ে দেখে ১৮ জনকে শনাক্ত করা গিয়েছে।