সংবাদদাতা, বিষ্ণুপুর: দুই বন্ধু দিনের বেলা টোটোয় ঘুরে ঘুরে রেকি করে। আর রাতে করে চুরি। বিষ্ণুপুর শহরের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দুই যুবক এমনই অভিনব চুরির কৌশল অবলম্বন করেছিল। তবে বেশ কিছুদিন ধরে বিষ্ণুপুর, জয়পুর, কোতুলপুর প্রভৃতি এলাকায় বিভিন্ন দোকান থেকে দিনের বেলাতেও টোটো, সেচপাম্প, মোটর ভ্যানের ইঞ্জিন উধাও হয়ে যাচ্ছিল। অভিযোগ জানালেও পুলিস তাদের নাগাল পাচ্ছিল না। অবশেষে সিসি ক্যামেরার সূত্র ধরে শুক্রবার রাতে জয়পুর থানার পুলিস দুই বন্ধুকে পাকড়াও করতে সক্ষম হয়েছে। ধৃতদের নাম শেখ বাবন ও প্রমোদ সাইনি। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতদের কাছ থেকে একটি টোটো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। তারা ওই টোটোয় চেপেই চুরি করতে যেত। শনিবার বিষ্ণুপুর মহকুমা আদালতে তোলা হলে বিচারক ধৃতদের দু’দিনের পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেন।
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, জয়পুর সহ পার্শ্ববর্তী একাধিক থানা এলাকায় পরপর বিভিন্ন মেশিন মেরামতির দোকান থেকে টোটোর ইঞ্জিন, সেচ পাম্পের অথবা মোটর ভ্যানের ইঞ্জিন চুরি হচ্ছিল। জয়পুরেও বুধবার বড়দিনের দুপুরে একটি দোকানের মালিক শাটার নামিয়ে হোটেলে খেতে গিয়েছিলেন। একাধিক ইঞ্জিন মেরামতির জন্য দোকানের বাইরে শেডের নীচেই ছিল। ফিরে এসে দেখেন একাধিক মোটর ভ্যান ও সেচ পাম্পের ইঞ্জিন উধাও হয়ে গিয়েছে। এরপরই দোকানের মালিক জয়পুর থানায় অভিযোগ জানান। পুলিস তদন্তে নেমে বিভিন্ন জায়গায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে। শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তদের চিহ্নিত করার পর শুক্রবার রাতে বিষ্ণুপুর শহর থেকেই দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়। ধৃতদের বাড়িতে থাকা একটি টোটো বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। ওই টোটোটি চোরাই কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তাদের জেরা করে চুরি যাওয়া ইঞ্জিন উদ্ধার করা হবে। পুলিস জানিয়েছে, ধৃতরা টোটো নিয়ে দিনের বেলা ঘুরে ঘুরে রেকি করত। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ক্রেতা সেজে দোকানির সঙ্গে ভাব জমিয়ে দোকানের মালপত্র কোথায় রাখা হয় সেই সম্পর্কে জানত। রাতে বিভিন্ন দোকানে হানা দিয়ে চুরি করত। সুযোগ পেলে দিনের বেলাতেও টোটোয় ইঞ্জিন চাপিয়ে চম্পট দিত। তারা মূলত বিভিন্ন মেশিন মেরামতির দোকানগুলিকেই টার্গেট করত।



