নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: পুকুর বুজিয়ে বিলাসবহুল অট্টালিকা! তদন্তে নেমে চক্ষু চড়কগাছ প্রশাসনের। মুখ্যমন্ত্রীর ধমকের পর খাসজমি দখল, পুকুর ভরাট নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে জেলা প্রশাসন ও পুরসভা। পুলিসের হাতে একাধিক প্রমোটার গ্রেপ্তারও হয়েছে। সেই তৎপরতার অঙ্গ হিসেবেই শুক্রবার আসানসোল পুরসভা ও আসানসোল বিএলআরও অফিসের পক্ষ থেকে পুলিসকে সঙ্গে নিয়ে পুকুর ভরাটের তদন্ত হয়। আসানসোল উত্তর থানার ফরচুন পার্ক ও পলাশডিহা মৌজার জ্যোতিনগরে তদন্ত করে পাঁচটি দাগ নম্বরের হদিশ পাওয়া যায়। সেখানে নির্বিচারে পুকুর বুজিয়ে বিশাল বাড়ি বানানো হয়েছে। দিনেদুপুরেই একের পর এক পুকুর ভরাট হয়ে, বাড়ি হয়ে, বসবাসও শুরু হয়ে গেল। তা সত্ত্বেও কেন ভূমি রাজস্ব দপ্তরের টনক নড়েনি সেই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য দেননি আধিকারিকরা।
Advertisement
আসানসোল উত্তর থানার ১৯ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশেই জ্যোতিনগর। চলতি বছরে জাতীয় সড়কের পাশে সেখানে পুকুর বুজিয়ে বাড়ি নির্মাণ করা হচ্ছিল। পুকুরের মধ্যে পিলার দিয়ে পুকুরের উপর ঢালাই করে কৃত্রিম মেঝে বানিয়ে নতুন পদ্ধতিতে হচ্ছিল বাড়ি নির্মাণ। পুকুর ভরাটের সেই খবর বর্তমান পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পুকুরের মালিক লিখিত অভিযোগ করেন স্থানীয় প্রশাসনের কাছে। স্থানীয় পুলিস ও প্রশাসনের টনক না নড়লেও পুকুর ভরাট নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কঠোর বার্তা দেন। তারপরই একের পর এক জমি কারবারিকে পুকুর ভরাট করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করে পুলিস। তারা বর্তমানে জামিনে মুক্ত। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন ছিল, পুকুর ভরাটকারীদের গ্রেপ্তার হল ঠিকই কিন্তু পুকুর পুনরুদ্ধারে তৎপর হবে কি প্রশাসন। এদিন দেখা গেল গ্রেপ্তারের পর সরেজমিনে তদন্ত শুরু করল পুরসভা ও প্রশাসন। জাতীয় সড়কের পাশে পুকুরের উপরেই সেই বিশেষ পদ্ধতিতে বাড়ি নির্মাণের কাজও প্রশাসনিক কর্তারা দেখেন। খবর হওয়ার পর সেই কাজ বন্ধ হয়েছিল। কিন্তু ওই এলাকাতেই আরও দু’টি বড় পুকুর ছিল। এদিন জমির নথি হাতে সেই পুকুরের খোঁজ করতে গিয়ে দেখা যায় পুকুরই গায়েব। এক একটি পুকুর ভরাট করে চার থেকে সাতটি বহুতল তৈরি হয়ে গিয়েছে। বাড়ির আকার ও বহির্সজ্জা থেকেই স্পষ্ট কোনও গরিব মানুষ পুকুর ভরাট করে বাড়ি করেনি। প্রভাবশালী ও বিত্তশালীরাই এই অন্যায়ের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ভাবে যুক্ত। শুধু জ্যোতিনগর নয়, চন্দ্রচূড় মন্দিরের অদূরে ফরচুন পার্কেও একই ভাবে দু’টি পুকুর ভরাট করার প্রমাণ মিলেছে। এখন দেখার শুধু পরিদর্শনেই থেমে যায় প্রশাসনে পদক্ষেপ, নাকি বাড়ি ভেঙে পুকুর ফেরানোর চেষ্টা হয়।
পুরসভার সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়র প্রসেনজিৎ মণ্ডল বলেন, পাঁচটি দাগ নম্বরে পুকুর ভরাটের প্রমাণ মিলেছে। আমরা রিপোর্ট ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জমা দেব।
পুরসভার সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট ইঞ্জিনিয়র প্রসেনজিৎ মণ্ডল বলেন, পাঁচটি দাগ নম্বরে পুকুর ভরাটের প্রমাণ মিলেছে। আমরা রিপোর্ট ঊধ্বর্তন কর্তৃপক্ষকে জমা দেব।



