নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বেশ ঘটা করে কঠিন বর্জ্য থেকে সার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছিল রানাঘাট পুরসভা। সেইসঙ্গে ডিমের খোলা থেকে ক্যালসিয়াম পাউডার তৈরির কাজও শুরু করা হয়। রাজ্যের প্রথম পুরসভা হিসেবে নেওয়া সেই উদ্যোগ, আজ দু’ বছর বাদে মুখ থুবড়ে পড়েছে। চাহিদা নেই, তাই উৎপাদন বন্ধ। ডাম্পিং গ্রাউন্ডের পাশে লক্ষকোটি টাকার পরিকাঠামো পড়ে পড়ে নষ্ট হচ্ছে।
Advertisement
২০২২ সালে, রাজ্যের একমাত্র পুরসভা হিসেবে কঠিন বর্জ্য কাজে লাগিয়ে জৈব সার এবং ক্যালসিয়াম পাউডার তৈরির কাজ শুরু করে রানাঘাট পুরসভা। প্রতিদিন আনুলিয়ায় পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ডে প্রচুর পরিমাণে কঠিন বর্জ্য আসে। একটি অভ্যন্তরীণ হিসাব বলছে, রানাঘাট পুরসভার ২০টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০ হাজারের কাছাকাছি মানুষের বসবাস। তাঁরা দৈনিক ৩৪ টন আবর্জনা ফেলেন। স্টেট আরবান ডেভলপমেন্ট এজেন্সি বা সুডা-র দেখানো পথে ওই বর্জ্য নির্দিষ্ট প্রক্রিয়াকরণের মধ্যে দিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তুলতে উদ্যোগী হয় রানাঘাট পুরসভা। মেশিন না থাকলেও, একাধিক পিট তৈরি করে এবং মেঠো পদ্ধতিতে পচনশীল বর্জ্য থেকে সার তৈরির কাজ শুরু করে তারা। এছাড়াও, শহরের বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, হোটেল থেকে সেদ্ধ এবং কাঁচা ডিমের খোলা সংগ্রহ করার কাজ শুরু হয়। উদ্দেশ্য ছিল, সেই খোলা থেকে তৈরি হবে ক্যালসিয়াম পাউডার। সফলভাবে পাউডার তৈরিও হয়। পরীক্ষায় দেখা যায়, উৎপাদিত পাউডারের ক্যালসিয়ামের পরিমাণ প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ। অর্থাৎ খাওয়ার যোগ্য না হলেও, চাষে ব্যবহারের জন্য উপযুক্ত তো বটেই। এছাড়াও ভাবা হয়েছিল, ডাম্পিং গ্রাউন্ডে উৎপাদিত সার দেদার বিক্রি হবে আশেপাশের এলাকায়। কিন্তু প্রথম কয়েক মাসেই এই ধারণা ভাঙে পুরসভার। কারণ একাধিক ব্র্যান্ডেড সার প্রস্তুতকারী সংস্থার রাসায়নিক সার দ্বিগুণ ফসল উৎপাদন করতে পারে। সেখানে জৈব সারের উৎপাদন ক্ষমতা অনেক কম। ফলে অল্প জমিতে বেশি ফসল ফলিয়ে মুনাফা অর্জন করতে যাওয়া কৃষক কেন পুরসভার প্রস্তুত করা জৈব সার কিনবেন? ফলে চাহিদা প্রায় ছিল না বললেই চলে। বাড়ির টবে চাষ করার জন্য কেউ কেউ সেই জৈব সার কিনলেও তা ছিল নগণ্য পরিমাণ। উৎপাদনের তুলনায় চাহিদা কম হওয়ায় লাটে উঠে যায় প্রকল্প। এখন সার তৈরির সে কংক্রিটের পিট, টিনের শেড সারমেয়দের আবাস।
রানাঘাট পুরসভার এক কর্তা বলেন, সিকিম অর্গানিক স্টেট হয়েছে। তাই সেখানে জৈব সারের চাহিদা রয়েছে। আমাদের এখানে জৈব সার ব্যবহার করতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে আমরা উৎপাদন করলেও কেউ কিনতে চাইছেন না। প্রত্যেকেই অল্প জমিতে বেশি ফলন চাইছেন। তাই আপাতত প্রজেক্ট বন্ধ রয়েছে। তবে আমরা দ্রুত সেটিকে বিকল্প পদ্ধতির মাধ্যমে চালু করার চেষ্টা করব।
রানাঘাট পুরসভার এক কর্তা বলেন, সিকিম অর্গানিক স্টেট হয়েছে। তাই সেখানে জৈব সারের চাহিদা রয়েছে। আমাদের এখানে জৈব সার ব্যবহার করতেই হবে এমন কোনও বাধ্যবাধকতা নেই। ফলে আমরা উৎপাদন করলেও কেউ কিনতে চাইছেন না। প্রত্যেকেই অল্প জমিতে বেশি ফলন চাইছেন। তাই আপাতত প্রজেক্ট বন্ধ রয়েছে। তবে আমরা দ্রুত সেটিকে বিকল্প পদ্ধতির মাধ্যমে চালু করার চেষ্টা করব।



