নিজস্বপ্রতিনিধি, রানাঘাট: শান্তিপুরের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে জমে থাকা কঠিন বর্জ্যের পরিমাণ ৫৭ হাজার টন! দীর্ঘদিন ধরেই অবস্থার এই বিপুল আবর্জনার কটু গন্ধে এলাকাবাসীর প্রাণ ওষ্ঠাগত। জীবন মরণ সমস্যা নিয়ে তাই অভিযোগও দীর্ঘদিনের। অবশেষে এই বিপুল কঠিন বর্জ্য সরাতে চলেছে শান্তিপুর পুরসভা। দেড় বছর বাদে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ‹ফাঁকা মাঠ› দেখতে চলেছেন শান্তিপুরবাসী।
Advertisement
শান্তিপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরের ভিতরেইতৈরি ডাম্পিং গ্রাউন্ড নিয়ে বিস্তর অভিযোগ ছিল নাগরিকদের। ১০ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত সেই ডাম্পিং গ্রাউন্ডের সামনে দিয়েই রয়েছে শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। হরিপুর সহ শান্তিপুর ব্লকের বিভিন্ন জায়গায় যেতে গেলে প্রধান ভরসা সেই রাস্তায়ই। এছাড়াও ডাম্পিং গ্রাউন্ড থেকে কিছু দূরেই রয়েছে জনবসতিও। অথচ সেই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে জমা কঠিন বর্জ্য নিষ্কাশন না হওয়ায় কটু গন্ধ ছড়িয়েছে আশপাশে। শহরের সাধারণ বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল, হয় ডাম্পিং গ্রাউন্ড সেখান থেকে সরানো হোক। নচেৎ বিকল্প ব্যবস্থা করুক প্রশাসন। শান্তিপুর পুরসভা সূত্রের খবর, সম্প্রতি তারা একটি বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে এবং শান্তিপুর পুরসভার চেষ্টায় একটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে চুক্তি করা হয়েছে ডাম্পিং গ্রাউন্ড জমে থাকা আবর্জনা নিয়ে। ওই বেসরকারি সংস্থা শান্তিপুরের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে জমে থাকা বিপুল পরিমাণ কঠিন বর্জ্য তুলে নিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য করে তুলবে। এই কাজের সময়সীমা ধরা হয়েছে ১৮ মাস। যদিও ১২ মাসেই সেই কাজ শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হচ্ছে। সমস্ত কঠিন বর্জ্য সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পর ওই জমিতেই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রকল্প গড়ে উঠবে। বেসরকারি এই সংস্থা সূত্রের খবর, বর্তমানে শান্তিপুরের জমে থাকা কঠিন বর্জ্যের পরিমাণ প্রায় ৫৭ হাজার টন। এই বিপুল আবর্জনা সরিয়ে নিয়ে যাওয়া রীতিমতো চ্যালেঞ্জের। সবকিছু ঠিকঠাক চলে আগামী মাস থেকেই কঠিন বর্জ্য সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হবে। শান্তিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান ইন কাউন্সিলের সদস্য শুভজিৎ দে বলেন, চেয়ারম্যানের উদ্যোগে আমরা নতুন এই কাজ হাতে নিতে পেরেছি। দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের অভিযোগ ছিল কঠিন বর্জ্য নিয়ে। বেসরকারি চুক্তিবদ্ধ সংস্থাটি এক বছরের মধ্যে সমস্ত কঠিন বর্জ্য তুলে নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস দিয়েছে। এই এক বছর শান্তিপুর শহরের আবর্জনা সেখানেই ফেলা হবে। যেহেতু বিপুল আবর্জনা জমে রয়েছে, সেহেতু কিছুটা সময় সাপেক্ষ বটে।



