সংবাদদাতা, বহরমপুর: চারদিনের মধ্যে একই গ্রামে দু’জনের অজানা জ্বরে মৃত্যুর ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়াল। মৃতদের বাড়ি ডোমকল থানার শিবনগর গ্রামে। দু’টি ক্ষেত্রেই রোগীদের জ্বরের উপসর্গ নিয়ে ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। উভয় পরিবারের একই অভিযোগ, ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল থেকে দু’জনকেই শেষ মুহূর্তে রেফার করা হয়েছে। মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আনার পথে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। গত শনিবার মৃত্যু হয় সুরাইয়া খাতুনের(১৭)। মঙ্গলবার সকালে ওই গ্রামের অপর বাসিন্দা মঞ্জিলা বিবির(৬৫) মৃত্যু হয়েছে। ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালের সুপার সৌরভ শীল বলেন, মেডিক্যাল রিপোর্ট দেখে মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুরো বিষয়টির উপর নজর রাখা হচ্ছে।
Advertisement
গত শুক্রবার জ্বর অবস্থায় ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল সুরাইয়া খাতুনকে। একাদশ শ্রেণির ছাত্রী সুরাইয়া মামার বাড়ি শিবনগরে থেকে পড়াশোনা করত। গত শনিবার রাতে অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু রাস্তাতেই মৃত্যু হয় তার। সেই ঘটনারই পুনরাবৃত্তি ঘটল মঙ্গলবার। জ্বরের উপসর্গ নিয়ে গত রবিবার সকালে মঞ্জিলা বিবিকে ডোমকল সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। তাঁদের রক্ত পরীক্ষায় ডেঙ্গি বা ম্যালেরিয়ার কোনও উপসর্গ ধরা পড়েনি। দু’দিন চিকিৎসার পর মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৭টা নাগাদ মঞ্জিলা বিবিকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। কিন্তু এবারও রোগীর রাস্তায় মৃত্যু হওয়ায় পরিবারের লোক দায় চাপিয়েছেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের উপর। মৃতের মেয়ে হোসনিয়ারা বিবি বলেন, রোগ নির্ণয় করতে না পারলে আগেই রেফার করতে পারত। তা না করে শেষ মুহূর্তে রেফার করায় আমরা উন্নত চিকিৎসা করানোর কোনও সুযোগ পেলাম না। মৃত্যুর কারণ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন মৃতের পরিবার। মঙ্গলবার মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে মৃতদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে।



