সংবাদদাতা, ডোমকল: আলুর খেতের চতুর্দিকে খান দশেক বাঁশের খুঁটি। খুঁটির সঙ্গে দড়ি দিয়ে ঝুলছে কাচের বোতল, নাটবল্টু, আর পিচবোর্ড। বাতাসে দুলছে পিচবোর্ড। সেই দোলায় দুলছে নাটবল্টুও। আর বল্টুর সঙ্গে কাচের বোতলের ধাক্কায় তৈরি হচ্ছে শব্দ। একটু খোঁজ নিতেই জানা গেল কাকতাড়ুয়া নয়, ফসল বাঁচাতে নাটবল্টু আর কাচের বোতলের ওই টোটকা কাজে লাগাচ্ছেন কৃষকরা। তবে পাখির অত্যাচার থেকে নয়, কৃত্রিম শব্দ তৈরি করে ফসলের খেত থেকে বুনো শুয়োর তাড়াতে এই পন্থা তাঁদের। ডোমকল মহকুমার রানিনগর, জলঙ্গি, সাগরপাড়া ছাড়াও রানিতলার নির্মলচরে বুনো শুয়োরের অত্যাচার থেকে ফসল বাঁচাতে এভাবেই চেষ্টা চালাচ্ছেন কৃষকরা।রানিতলা, রানিনগর, সাগরপাড়া, জলঙ্গির ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে পদ্মার শাখানদী বয়ে গিয়েছে। নদীর দু’পারের চরে ভারতীয় চাষিদের প্রচুর কৃষিজমি রয়েছে। কৃষকদের দাবি, আগে সীমান্তের জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি বুনো শুয়োর বিচরণ করত। মাঝেমধ্যে চরে যাওয়া কৃষকদের উপর এক-দু’বার হামলা চালালেও পরিস্থিতি ততটা খারাপ ছিল না। তবে মাসকয়েক ধরে রাত হলেই খাবারের খোঁজে চাষের জমিতে হানা দিচ্ছে শুয়োরের দল। রাত হলেই ফসলের খেতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে তারা। অন্ধকারের মধ্যেই রাতভর ফসলের খেতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে শুয়োরের দল। মাটি খুঁড়ে আলু, একাঙ্গী তুলে খেয়ে সাবাড় করে দিচ্ছে। সরষে, গমখেতও শুয়োরের অবাধ বিচরণে নষ্ট হচ্ছে ফসল। বাধ্য হয়ে ফসল বাঁচাতে কোথাও লাঠি হাতে পাহারা দিচ্ছেন কৃষকরা। কোথাও আবার ফসল বাঁচাতে বিভিন্ন উপায় অবলম্বন করছে কৃষকরা। শুয়োরের অত্যাচার রুধতে মশারির জাল দিয়ে ঘেরা হচ্ছে ফসলের জমি। এদিন রানিতলার নির্মল করে গিয়ে দেখা গেল বিঘের পর বিঘে জমিতে বাঁশের খুঁটির সঙ্গে নাটবল্টু ও পিচবোর্ড এর সঙ্গে কাচের বোতল ঝোলানো রয়েছে। জানা গেল, ওই বোতলের সঙ্গে কৃত্রিম শব্দ তৈরি করে শুয়োর তাড়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছে কৃষকরা। কৃষক অশোক মন্ডল বলেন , বুনো শুয়োরের অত্যাচার থেকে বাঁচতে আমরা ওই পদ্ধতি অবলম্বন করেছি। তাতে কিছুটা হলেও ফসলের ক্ষতি রোখা যাচ্ছে। তবে যেভাবে নির্মলচরে শুয়োরের অত্যাচার বেড়েছে তাতে ফসল ফলানোই দায় হয়ে যাচ্ছে আমাদের। যদিও বন বিভাগের এক আধিকারিক বলেন, আমাদের এখানে বুনো শুয়োর থাকার কথা নয়। এগুলি ফেরাল শুয়োর। অর্থাৎ পোষা শুয়োরই দলছুট হয়ে গিয়েছে। তাই এগুলি বন্য প্রাণীর মধ্যে পড়ছে না। তবে আমাদের কাছে এখনও তেমন অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্মলচরে আমরা অভিযান চালিয়েছিলাম তখনও বুনো শুয়োরের খোঁজ পাইনি।



