নিজস্ব প্রতিনিধি, আসানসোল: ভরা শীতের প্রবল জল সংকট শিল্পাঞ্চলে। শীতের শীতলতা ছাপিয়ে জল নিয়ে তৃণমূল বিজেপি বাক্যবিনিময়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে শিল্পাঞ্চল। ডিভিসি রাজ্য সরকারের সঙ্গে বিমাতৃসূলভ আচরণ করার জন্যই দামোদর নদীরে জল ছাড়ছে না বলে অভিযোগ তোলে আসানসোল পুরসভা। কুলটি ইস্কো সংস্থাও এলাকায় জল না দিতে পারায় তুমুল বিক্ষোভ হয়। দামোদরের এই জলের আকালের মধ্যে খনি অঞ্চলের মানুষের জন্য স্বস্তির খবর। খনি এলাকায় থেকে খাদানগুলিতে সঞ্চিত বিপুল পরিমাণ জল কী ভাবে ব্যবহারে উপযোগী করা যাবে তা নিয়ে দেশের দুটি খ্যাতনামা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এক যোগে কাজ শুরু করেছে। আইআইটি বিএইচইউ ও আইআইটি ধানবাদের বিজ্ঞানীরা শুরু করেছেন সার্ভে। কোন এলাকার জলের গুণমান কেমন। কোন জল পানীয় হিসাবে ব্যবহার করার উপযোগী করা যাবে কোন জায়গার জল দিয়ে সেচ করা যাবে তা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলি। তাঁদের রিপোর্টই কয়লা মন্ত্রকে পাঠাবে ইসিএল। ইসিএল কর্তৃপক্ষের দাবি, দেশের প্রথম এখানে এতবড় প্রজেক্ট নিয়ে কাজ হচ্ছে। এই কাজ সফল হলে খনি অঞ্চলের জল সংকট চিরতরে মিটবে। ইসিএলের জেনারেল ম্যানেজার(পরিবেশ ও ফরেস্ট) মৃত্যুঞ্জয় কুমার বলেন, আমরা এখনও খনি অঞ্চলে ১৫৭ টি গ্রামের ২ লক্ষ ৬ হাজার মানুষকে পানীয় জলের সরবরাহ করছি। আইআইটির বিজ্ঞানীদের সার্ভে সম্পন্ন হলে আরও অনেক মানুষকে আমরা পানীয় জল, চাষের জন্য জল দিয়ে সাহায্য করতে পারব। শিল্পাঞ্চলে জল যুদ্ধ আসন্ন। আসানসোল রাজ্যের অন্যতম বড় শহর। তারপাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া দামোদরই জলের সবচেয়ে বড় সোর্স। এর প্রধান কারণ এলাকাটি খনি অঞ্চল। ভূগর্ভস্থ খাদান, ওসিপি থাকার জেরে মাটির নিচ থেকে জল পাওয়া যায়না। এই অবস্থায় দামোদরও যেন শুকিয়ে গিয়েছে। তাতেই জল সংকট চরমে। আসানসোল পুরসভার বেশিরভাগ ওয়ার্ডে পর্যাপ্ত জল সরবরাহ করতে পারছে না। একই ভাবে কুলটির সেইল গ্রোথ ওয়ার্কসও দামোদর থেকে পর্যাপ্ত জল তুলতে পারছে না। কুলটিতেও জল সংকট প্রবল। তারই মাঝে ইসিএলের বিভিন্ন এলাকায় এমডিও প্রজেক্টের মাধ্যমে বেসরকারি সংস্থাকে নিয়ে কয়লা খাদান চালু করাচ্ছে। নতুন করে বিভিন্ন এলাকায় জল সংকট সৃষ্টি হচ্ছে। এই ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে জলের চাহিদা পূরণের জন্য এবার খাদানই বড় ভূমিকা নিতে চলেছে। খনি অঞ্চলে বহু পরিত্যক্ত খাদান রয়েছে। সেখানে বিপুল জল মজুত রয়েছে। বহু চালু খাদান থেকেও বিপুল পরিমাণ জল প্রতি নিয়ত তুলে ফেলতে হয়। সেই জলই ব্যবহার করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাইনস ওয়াটার রির্সোস ম্যানেজমেন্টের মাধ্যমে বিভিন্ন জলের গুণমান যাচাইয়ের কাজ চলছে।



