Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডামডিমে ওয়াচ টাওয়ারে আক্রমণ মাতাল হাতির

ডামডিমে ওয়াচ টাওয়ারে আক্রমণ মাতাল হাতির
  • ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, নাগরাকাটা: এমনিতেই চোলাই মদ খেয়ে মাতাল হয়েছিল হাতিটি। তার উপর মানুষের অত্যাচার। সেকারণেই ক্ষেপে গিয়ে ওয়াচ টাওয়ারে আক্রমণ করে বসল একটি দলছুট হাতি। আতঙ্কে বহু মানুষ ওয়াচ টাওয়ার থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করে। শনিবার দুপুরে এমনই ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে রক্ষা পেল বহু মানুষ। তবে হাড়হিম করা ঘটনার জন্য উৎসুক জনতার উপরই দায়ভার চাপিয়েছেন পরিবেশপ্রেমীরা। শনিবার সন্ধ্যায় পশ্চিম ডামডিম এলাকা থেকে পটকা ফাটিয়ে হাতিটিকে তাড়ানোর চেষ্টা করছেন বন কর্মীরা। এদিন দিনভর পরিস্থিতি সামলাতে ঘটনাস্থলে ছিল বনদপ্তরের মাল স্কোয়াড, খুনিয়া স্কোয়াড, বিন্নাগুড়ি স্কোয়াড, গোরুমারা নর্থ ও সাউথ রেঞ্জ, বেলাকোবা ও আপালচাঁদ রেঞ্জের কর্মীরা। মাল থানার পুলিসও দিনভর ঘটনাস্থলে ছিল।
Advertisement
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন ভোর ৫টা নাগাদ আপালচাঁদ জঙ্গল থেকে একটি হাতি বেরিয়ে এসে মেচপাড়ায় ঢুকে পড়ে। সেখানেই হাতিটি পরপর তিনটি বাড়ির কাছে সুপারি বাগানে রাখা ড্রাম থেকে চোলাই মদ খেয়ে বেসামাল হয়ে পড়ে। এরপরই হাতিটি জঙ্গলে না গিয়ে প্রথমে চলে যায় কুমলাই গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব ডামডিম সেনপাড়ার কাছে মাঠে। সেই মাঠে হাতিটি চড়কির মতো ঘুরতে থাকে। খবর পেয়ে সাধারণ মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় করে। এরপরই শুরু হয় হাতিটির উপর অত্যাচার। কেউ হাতিটির লেজ ধরে টান দেয়। কেউ তার গায়ে লাঠি দিয়ে মারে। এদিকে ছোট থেকে বড় অনেককে দেখা গিয়েছে ঢিল দিয়ে আঘাত করতে। সেই হাতিটি মাঝেমধ্যেই ঢিলের হাত থেকে বাঁচতে চা বাগানে চলে যায়। চা বাগানে গিয়েও ব্লেড তারের আঘাতে জখম হয় হাতিটি। সেখান থেকে হাতিটি ফের মাঠে চলে আসে। হাতিটিকে দেখে  বহুমানুষ ওয়াচ টাওয়ারে উঠে চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দেয়। হাতিটিও ক্ষেপে গিয়ে ওয়াচ-টাওয়ারে আক্রমণ করে। সেই সময় অনেককেই প্রাণভয়ে ঝাঁপ দিয়ে পালাতে দেখা যায়। হাতির আক্রমণে ওয়াচ টাওয়ারের সিঁড়ি ভেঙে যায়। হাতিটি মাথায় আঘাত পাওয়ায় সেখান থেকে ফিরে যায়। যদি হাতিটি আর একবার আক্রমণ করত তাহলে কংক্রিটের ওয়াচ টাওয়ার ভেঙে বহু মানুষ হতাহত হতো।
হাতিটি যে বেসামাল অবস্থায় ছিল, তা স্বীকার করে নিয়েছেন বনকর্তারাও। গরুমারার ডিএফও দ্বিজপ্রতিম সেন বলেন, হাতিটি আগে থেকে জঙ্গলে অন্য হাতির সঙ্গে লড়াই করে আহত হয়েছিল। তারপর জঙ্গল থেকে বেরিয়ে গ্রামে ঢুকে সেটি নেশার কিছু খায়। তাই হাতিটিকে সামলাতে হিমসিম খেতে হয়েছিল। সন্ধ্যায় হাতিটিকে তাড়িয়ে তারঘেরা জঙ্গলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ