নিজস্ব প্রতিনিধি, রায়গঞ্জ: উত্তর দিনাজপুরের শিল্পদ্যোগকে আরও সমৃদ্ধ করতে জেলার সিনার্জি কমিটিকে নিয়ে বৈঠক সারলেন জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা। যেখানে জেলার কৃষি নির্ভরতাকে মাথায় রেখে কৃষি নির্ভর শিল্পস্থাপনের প্রস্তাব সহ জেলার দমকল ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। সেইসঙ্গে রাজ্যের নির্দেশিকা অনুযায়ী শিল্পদ্যোগের ক্ষেত্রে কী ধরনের পদক্ষেপ প্রয়োজন, সে ব্যাপারেও জেলার বণিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের বোঝানো হল। যাতে সকলেই বুঝতে পারেন এখন ক্ষুদ্র ছোট, মাঝারি শিল্পস্থাপনের প্রশাসনিকভাবে সিঙ্গেল উইন্ডো সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে সময় অনেকটাই কমে লাগছে। শিল্পদ্যোগীরাও এ ব্যাপারে উৎসাহিত হয়েছেন। তাঁরাও বিভিন্ন প্রস্তাব দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার জেলাশাসক দপ্তরে সিনার্জি কমিটির বৈঠকে জেলাশাসক ছাড়াও নর্থবেঙ্গল চেম্বার অব কমার্সের চেয়ারম্যান সঞ্জয় টিবরেওয়াল, ওয়েস্ট দিনাজপুর চেম্বার অফ কমার্সের সম্পাদক শঙ্কর কুন্ডু, রায়গঞ্জের বিধায়ক কৃষ্ণ কল্যাণী সহ বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে রাজ্য সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করে সঞ্জয় টিবরেওয়াল বলেন, আগে আমরা শিল্পদ্যোগীরা প্রশাসনের তরফে এতো সুযোগ সুবিধা পেতাম না। এখন এক ছাতার তলায় কমসময়ের মধ্যে শিল্পস্থাপনের সমস্ত সুবিধা মিলছে। আমাদের বড় দাবি ছিল ডানকুনি থেকে কোচবিহার পর্যন্ত বিস্তৃত হোক ইন্ডাস্ট্রিয়াল করিডর। সেই করিডর এখন চালু হয়ে গিয়েছে। সম্প্রতি ১৯ টি ফায়ার লাইসেন্স পাস হয়েছে। তার অর্থ জেলায় ১৯ টি জায়গায় শিল্পস্থাপনের প্রচেষ্টা সফল ভাবে এগোচ্ছে। আমরাও চেষ্টা করছি গ্রামে গ্রামে ছোট ক্ষুদ্র মাঝারি শিল্পদ্যোগীরাও যাতে প্রশাসনের এই সহযোগিতা পেতে এগিয়ে আসেন।
একইসুর ছিল বিধায়ক তথা জেলার অন্যতম শিল্পদ্যোগী কৃষ্ণ কল্যাণীর গলায়। তিনি বলেন, আমাদের জেলা কৃষি নির্ভর। সেক্ষেত্রে আমাদের প্রস্তাব রয়েছে কৃষি নির্ভর শিল্প গড়ার ক্ষেত্রে। উত্তরবঙ্গে সমুদ্র নেই। যার ফলে আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহন কিছুটা ব্যাহত হয়। আমাদের প্রস্তাব রয়েছে পণ্য পরিবহন ক্ষেত্রে প্রশাসনিক ভর্তুকির। এক্ষেত্রে উত্তর দিনাজপুর সহ উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর শিল্প সম্ভাবনা আরও বৃদ্ধি পাবে।
জেলাশাসক সুরেন্দ্র কুমার মীনা জানিয়েছেন, জেলায় আরও কয়েকটি রাইস মিল তৈরি হতে চলেছে। শিল্পের কথা মাথায় রেখে জেলায় দমকলের পরিকাঠামো বৃদ্ধির চেষ্টা শুরু হয়েছে। জেলায় শিল্পক্ষেত্রে কীভাবে আরও বিনিয়োগ আনা যায়, শিল্পসম্ভাবনা সংক্রান্ত বিষয়, নতুন উদ্যোগপতিদের উৎসাহপ্রদান ও শিল্পের অনুকূল পরিবেশ গড়ে তোলার জন্য ইন্টার ডিপার্টমেন্টাল কো-অর্ডিনেশন সংক্রান্ত নানা বিষয়ে বিশদে আলোচনা হয় এদিনের বৈঠকে।