Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দাম কমাতে নয়া কৌশল, মাঠে আলু কিনছেন না ব্যবসায়ীরা

দাম কমাতে নয়া কৌশল, মাঠে আলু কিনছেন না ব্যবসায়ীরা
  • ৬ মার্চ, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: পুজোর পর থেকেই রাজ্যে আলুর দাম ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে। রাজ্যের বাসিন্দাদের স্বার্থে দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার কিছু বিধিনিষেধ জারি করে। প্রশাসন কড়া হওয়ায় ভিনরাজ্যে ব্যাপক পরিমাণ আলু পাঠিয়ে বাড়তি মুনাফা তুলতে পারেনি একশ্রেণির ব্যবসায়ী। সেকারণে এখন তারা সরকারকে বিপাকে ফেলার কৌশল নিয়েছে বলে চাষিদের অভিযোগ। তাঁরা বলেন, অন্য বছর মরশুমের শুরু থেকেই ব্যবসায়ীরা মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়ে। তারা আলু কিনে হিমঘরে রাখে। কিন্তু এবছর এখনও তাদের অনেকেই মাঠে নামেনি। আলু কেনা না হলে চাষিরা বিপাকে পড়বেন। সেকার঩ণেই তারা এই কৌশল নিয়েছে বলে অনেকেই মনে করছেন। 
Advertisement
কৃষিদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, এবছর আলুর উৎপাদন অনেক বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টিতে কয়েকটি জেলায় আলু চাষ কিছুটা ক্ষতি হলেও এই জেলায় তেমন প্রভাব পড়েনি। তবে ব্যবসায়ীরা আলু কিনতে শুরু না করলে তার প্রভাব মাঠে পড়বে বলে চাষিদের মত। যদিও সরকার জেলায় আলু কিনতে শুরু করেছে। কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, ১৫ লক্ষ মেট্রিক টন আলু কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ন’টাকা কেজি দরে সরকার আলু কিনছে। রাজ্যের কৃষি বিপণন দপ্তরের মন্ত্রী বেচারাম মান্না বলেন, সরকার চায় চাষিরা লাভের মুখ দেখুক। প্রয়োজনে আলু কেনার পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে।
চাষিরা বলেন, সরকার আলু কেনার পরিমাণ বাড়ালে তেমন সমস্যা হবে না। কিন্তু সরকারেরও ‘লিমিট’ রয়েছে। সব চাষির আলু তারা কিনতে পারবে না। সেই সুযোগ কাজে লাগানোর চেষ্টা করছে ব্যবসায়ীরা। আলু চাষি সামসের আলম বলেন, জেলায় জ্যোতি আলুর ওঠার মরশুম পুরোদমে শুরু হয়নি। সবে তা তোলার কাজ শুরু হচ্ছে। জমি থেকে আলু বিক্রি করতে না পারলে সমস্যা হবে। এক ব্যবসায়ী বলেন, গতবছর ভিনরাজ্যে আলু পাঠানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি হওয়ায় অনেকেই তেমন লাভ করতে পারেননি। তাদের অনেকে এবছর অন্য ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছে। সেকারণে তারা আলু কিনতে চাইছে না। প্রগতিশীল আলু ব্যবসায়ী সমিতির পক্ষে জগবন্ধু মণ্ডল বলেন, গতবছর অনেকে আলু রেখে লাভ করতে পারেনি। সবাই লাভ করার জন্যই ব্যবসায় নামে। সেটা না হলে কেন বিনিয়োগ করতে যাবে? লোকসান হওয়ার জন্যই এবছর অনেক ব্যবসায়ী আলু কিনতে চাইছে না। তবে আমরা কিনছি। কৃষি বিপণন দপ্তর সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, এবছর আলুর ফলন বেশি হবে ধরেই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। হিমঘরে প্রান্তিক চাষিদের জন্য ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষণ করা হয়েছে। কিন্তু সব চাষি হিমঘরে বেশি আলু রাখেন না। তাঁরা তা বিক্রি করে চাষের জন্য নেওয়া লোন মেটান। সেই সুযোগই কাজে লাগাতে চাইছে একশ্রেণির ব্যবসায়ী।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ