Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

দাম কমবে বহু পণ্যের: নির্মলা, জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের আগেই ঘোষণা

দাম কমবে বহু পণ্যের: নির্মলা, জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠকের আগেই ঘোষণা
  • ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
নিজস্ব প্রতিনিধি, নয়াদিল্লি: জিএসটি ব্যবস্থা চালুর পর থেকে সামগ্রিকভাবে গড় পণ্য-ট্যাক্সের পরিমাণ কমেছে। সেই সূত্রেই আগামী দিনে আরও কমবে বেশ কিছু জিনিসপত্রের দাম। এই আশ্বাস দিয়েছেন স্বয়ং অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তাঁর ঘোষণা, সেই সিদ্ধান্ত হতে চলেছে শীঘ্রই। রাজ্যসভায় জিএসটি সংক্রান্ত এক প্রশ্নের উত্তরে অর্থমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি, ‘সামান্য ধৈর্য ধরুন। আর বেশি সময় হয়তো লাগবে না। ট্যাক্স কম হওয়া এবং জিএসটির স্ল্যাবের পরিবর্তন অল্প সময়ের মধ্যেই হতে চলেছে।’ নির্মলা বলেছেন, ‘জিএসটি কাউন্সিলে এ নিয়ে বিস্তারিত চর্চা হচ্ছে। জিএসটি কমানো নিয়ে প্রতিটি পণ্য ধরে ধরে যাচাই চলছে। এমনকী জিএসটি স্ল্যাব চারটি থেকে কমে দু’টি বা তিনটি হবে? নাকি সব স্ল্যাব মিশে একটিই স্ল্যাব থাকবে, এমন খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ-বিবেচনাও চলছে কাউন্সিলে। এই সিদ্ধান্ত একা ভারত সরকার নেয় না। সব রাজ্যের অর্থমন্ত্রীরা কাউন্সিলে আছেন। প্রত্যেকেই তাঁদের মতামত জানাচ্ছেন।’ 
Advertisement
বিষয়টা পরিষ্কার, কাউন্সিল জিএসটি সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিলেও নির্মলা বুঝিয়েই দিলেন, একঝাঁক পণ্যের জিএসটি কমতে চলেছে। অর্থাৎ সেগুলির দামও কমবে। নজর করার মতো বিষয় হল, অর্থমন্ত্রী এদিন পশ্চিমবঙ্গের অর্থদপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তৃণমূল এমপি নাদিমুল হকের প্রশ্ন ছিল, স্বাস্থ্য ও জীবন বিমার প্রিমিয়ামের উপর যে ১৮ শতাংশ জিএসটি বলবৎ আছে, সেটা কেন কমছে না? বারংবার দাবি ও আবেদন করা হচ্ছে। অথচ সিদ্ধান্ত হচ্ছে না কেন? অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শুধু এই একটি ইস্যু নয়। জিএসটি কাউন্সিল সামগ্রিক জিএসটি কাঠামো বদল নিয়েই সিদ্ধান্ত নেবে।’ নাদিমুল হককে তিনি বলেন, ‘আপনাদের অর্থমন্ত্রীকেও প্রশ্ন করতে পারেন। তিনি যথোপযুক্ত উত্তর দেবেন। কারণ তিনি অত্যন্ত যোগ্য এবং সক্রিয় অর্থমন্ত্রী। জিএসটি কাউন্সিলের প্রতিটি বৈঠকে তিনি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় মতামত দিয়ে থাকেন। সুতরাং তিনিও জিএসটি সংক্রান্ত যে কোনও প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার অধিকারী। তবে জিএসটি আরও সরল হবে এবং আরও কম হবে। সেই লক্ষ্যেই জিএসটি কাউন্সিল এখন আলোচনা চালাচ্ছে।’ অর্থাৎ, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কাউন্সিলের। তাহলে বিমার উপর জিএসটি কমানোর সিদ্ধান্ত হওয়ার পরও তা কার্যকর হচ্ছে না কেন? তার উত্তর নির্মলা দেননি। বরং রাজ্যসভায় অর্থমন্ত্রী বলেছেন, ‘জিএসটির আগে যে ট্যাক্স ব্যবস্থা ছিল, তাতে গড় ট্যাক্স বলবৎ ছিল ১৫.৮ শতাংশ। পক্ষান্তরে জিএসটি যুগ চালুর পর গড় পণ্য-ট্যাক্স কমে হয়েছে ১১.৩ শতাংশ।’
নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে ১৮ থেকে ২৮ শতাংশ পর্যন্ত জিএসটি চাপিয়ে সাধারণ মানুষের উপর ২০১৭ সাল থেকে লাগাতার ট্যাক্সের বোঝা চাপানো হয়েছে বলে অভিযোগ বিরোধীদের। স্বাস্থ্যবিমার প্রিমিয়াম আকাশ স্পর্শ করেছে। প্রধান কারণ, ১৮ শতাংশ জিএসটি। ফলে, সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে স্বাস্থ্যবিমা। এই ক্ষেত্রে বারবার জিএসটি কমানোর দাবি উঠলেও সিদ্ধান্ত কার্যকর হচ্ছে না। রাহুল গান্ধী একাধিকবার জিএসটিকে আখ্যা দিয়েছেন ‘গব্বর সিং ট্যাক্স’ বলে। বাজেট আলোচনায় নির্মলার জবাবি ভাষণের পাল্টা প্রিয়াঙ্কা গান্ধীও বলেছেন, ‘উনি বলছেন, মূল্যবৃদ্ধি নেই, বেকারত্বও বাড়েনি! নির্মলা কোন গ্রহে বাস করেন, উনিই জানেন।’ 
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ