সংবাদদাতা, করিমপুর: ঝকঝকে চারচাকা গাড়িতে পাচার করতে গিয়েও শেষরক্ষা হল না। মাল সমেত পুলিসের হাতে ধরা পড়তে হল পাচারকারীদের। মঙ্গলবার রাতে কৃষ্ণগঞ্জ থেকে মুর্শিদাবাদের জলঙ্গির দিকে দ্রুত গতিতে যাওয়ার সময় হোগলবেড়িয়ার কুমরি পঞ্চান্ন মাইলের কাছে ওই ইন্ডিগো গাড়ির পথ আটকায় পুলিস। মেরুন রঙের সেই গাড়ি থেকেই উদ্ধার হয় এক হাজার চারশো বোতল নিষিদ্ধ কাশির সিরাপ। পাচারের অভিযোগে ধরা পড়ে বিপ্লব বিশ্বাস ও অনিমেষ বিশ্বাস নামে দুই ব্যক্তি। হোগলবেড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিস আধিকারিক জানান, বিপ্লব ও অনিমেষ দু’জনেই কৃষ্ণগঞ্জ থানার মাঝদিয়া আদিত্যপুরের বাসিন্দা। এদিন পাচারের গাড়ির কিছুটা আগে একটি বাইক এসকর্ট করে নিয়ে যাচ্ছিল, যাতে তারা পুলিসের গতিবিধি দেখতে পারে। পাচারের খবরটা ঠিক সময়ে আমাদের কানে এলেও গাড়িটিকে চিহ্নিত করে ধরা বেশ কঠিন ছিল। পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, পাচারে সীমান্তে অনেক সময় চারচাকা গাড়ির ব্যবহার হয়েছে। কোনও গাড়িতে লেখা থাকত প্রেস, আবার কোনওটায় পুলিস। গত কয়েক বছরে পাচারের অভিযোগে এমন অনেক মারুতি ভ্যান বা অন্য কোনও ছোট গাড়ির চালক কিংবা মালিক ধরা পড়েছে। আটক করা হয়েছে সেই গাড়িও। তবে পুলিসের চোখে ধুলো দিতে এখন পাচারে নতুন নতুন দামি গাড়ি ব্যবহারের ঝোঁক বেড়েছে পাচারকারীদের। সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা জানান, ঋতুর সঙ্গে সঙ্গে সীমান্তে পাচারের কৌশল বদলে যায়। আর শীতকালে বিএসএফ ও পুলিস যেমন বাড়তি সতর্ক থাকে, তেমনি সুযোগের অপেক্ষায় থাকে পাচারকারীরাও। ঘন কুয়াশার আড়ালে সবথেকে বেশি পাচার হয় নিষিদ্ধ এই কাশির সিরাপ। আর সীমান্তে পাচারের সঙ্গে গাড়ির ব্যবহার অনেক পুরনো। একসময় সাইকেলে এবং পরে তা মোটর বাইকে পাচারের মাল নিয়ে যাওয়া হত। তারপরে এল চারচাকা মারুতি। পুলিসের দাবি, সীমান্তে এখন গবাদি পশুর পাচার অনেকটাই কমে গিয়েছে।



