Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

পায়রাডাঙা পঞ্চায়েতের জমি-দুর্নীতি, তদন্ত কমিটি গঠন ডিএমের

পায়রাডাঙা পঞ্চায়েতের জমি-দুর্নীতি, তদন্ত কমিটি গঠন ডিএমের
  • ২১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: শ্মশান তৈরি করার জন্য পায়রাডাঙা পঞ্চায়েত যে জমি কিনেছিল তা নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল আগেই। বিডিওর তরফে শোকজও করা হয়েছিল পঞ্চায়েতকে। এবার জেলাশাসকের নির্দেশে গঠিত হল তদন্ত কমিটি। রানাঘাটের এক ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টরের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ওই তদন্ত কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। পঞ্চায়েত আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শ্মশান তৈরির জন্য নিজস্ব তহবিলের টাকা খরচ করে রানাঘাট ১ ব্লকের পায়রাডাঙা পঞ্চায়েত জমি কিনেছিল বলে অভিযোগ ওঠে। মোটামুটি ৭০ শতকের কাছাকাছি জমি প্রায় ৩৭ লক্ষ টাকায় কেনে পঞ্চায়েত। তাও আবার সেই জমির মালিক পঞ্চায়েতের শিল্প সঞ্চালক তথা পঞ্চায়েত সমিতির সদস্য কংগ্রেসের বিজয়েন্দু বিশ্বাস। পঞ্চায়েতের বাকি সদস্যদের অভিযোগ ছিল, বাজার মূল্যের চেয়ে সাতগুণ বেশি দামে ওই জমি কেনা হয়েছে। শুধু তাই নয়, জমি রেজিস্ট্রি অনেক পরে হলেও আগেই পুরো টাকা পঞ্চায়েতের অ্যাকাউন্ট থেকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল জমির মালিক তথা শিল্প সঞ্চালক বিজয়েন্দু বিশ্বাসের অ্যাকাউন্টে। দুজন সিপিএমের সদস্য, শিল্প সঞ্চালক বিজয়েন্দুকে সঙ্গে নিয়ে এই জমি কেনাবেচার রেজোলিউশনে সই করে তৃণমূলের প্রধান। বাকি পঞ্চায়েত সদস্যদের অন্ধকারে রাখা হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।। এনিয়ে পঞ্চায়েতের অন্যান্য সদস্যরা জেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছিল। পরবর্তীতে ব্লক প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখে একটি রিপোর্ট জমা দেয় জেলার কাছে। এরপরেই জেলা স্তর থেকে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয় জমি কেনাবেচার বিষয়টি তদন্ত করার জন্য। স্বাভাবিকভাবেই, প্রশাসনের একটি সূত্রের দাবি, বেনিয়ম রয়েছে বলেই তদন্তের নির্দেশ। 

Advertisement

উল্লেখ্য, পায়রাডাঙা পঞ্চায়েত চালায় তৃণমূল, সিপিএম এবং কংগ্রেসের জোট। যেখানে প্রধান তৃণমূলের, উপপ্রধান কংগ্রেসের। পঞ্চায়েত আইন ৮(সি) ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, পঞ্চায়েতের কোনও সদস্য বা পদাধিকার বলে হওয়া সঞ্চালক নিজে অথবা যৌথভাবে বা তাঁর কোনও অধীনস্থ কর্মচারীর মাধ্যমে পঞ্চায়েতের সঙ্গে কোনও বিষয়ে চুক্তিবদ্ধ হতে পারেন না। সেখানে পঞ্চায়েতের শিল্পসঞ্চালকের জমি কেনা হল কীভাবে? পঞ্চায়েত আইন বলছে, এই ধরনের জমি পঞ্চায়েত নিজে কিনতেই পারে না। সেক্ষেত্রে জেলা স্তর থেকে জমি অধিগ্রহণ করে পঞ্চায়েতকে হস্তান্তর করা হয়। কিন্তু পঞ্চায়েত নিজেই একটি জমি কেনাবেচার কমিটি তৈরি করেছিল। যাতে আবার জমি বিক্রেতা তথা শিল্প সঞ্চালক নিজেই অন্যতম সদস্য। নিজের ৪৪.৫ শতক জমি এবং পরবর্তীতে ২৬ শতক কেনা জমি তিনি পঞ্চায়েতকে বিক্রি করেছেন। যদিও সেই সময়ে বিতর্ক শুরু হলে পঞ্চায়েত প্রধান ফাল্গুনী বিশ্বাস এবং শিল্পসঞ্চালক বিজয়েন্দু বিশ্বাস দাবি করেছিলেন সমস্ত কিছুই আইন মেনে এবং নিয়ম মেনেই হয়েছে। 
ইতিমধ্যেই জমি কেনাবেচার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে ৩ সদস্যের দলটি। কমিটির প্রধান সদস্য রানাঘাট মহকুমার ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেট ও ডেপুটি কালেক্টরেট অনির্বাণ বসু বলেন, জমি কেনাবেচা নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমরা তদন্ত শুরু করেছি। কেনাবেচার কাগজপত্র খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ