সংবাদদাতা, বোলপুর: দোল পূর্ণিমার দিন বসন্ত উৎসব না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ। সেই উৎসব হবে তিনদিন আগে, ১১ মার্চ। কারণ এই মুহূর্তে শান্তিনিকেতন ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের অন্তর্গত। তাই ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের স্বার্থে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বৈঠক করে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাশাপাশি ছাত্র-ছাত্রীদের সুরক্ষার বিষয়টিও রয়েছে। তাই বিশ্বভারতীর রীতি ও ঐতিহ্য মেনে ঘরোয়াভাবে তা উদযাপন করা হবে। এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ছাত্রছাত্রী, প্রাক্তনী ও আশ্রমিকরা। তাঁদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য রক্ষার দায়দায়িত্ব থাকলেও ভুলে গেলে চলবে না এটি একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। অতীতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় সামলাতে বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনকে নাকানিচোবানি খেতে হয়েছে। তাই মূল্যবান স্থাপত্য ও ঐতিহ্যবাহী ভবনগুলি রক্ষা করার জন্য কর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় এই সিদ্ধান্তের মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে।
Advertisement
সকালে ‘খোল দ্বার খোল, লাগল যে দোল’ গানে সমবেত নৃত্য, পরে মঞ্চে রবীন্দ্রনাথের বসন্তের গানে প্রকৃতি বন্দনা ও সন্ধ্যায় গুরুদেবেরই নৃত্যনাট্য মঞ্চস্থ— এই হল বিশ্বভারতীর বসন্ত উৎসব। বিশ্বভারতীর ইতিহাস থেকে জানা যায়, ১৯০৭ সালে নেহাতই খেলাচ্ছলে ঋতু উৎসবের সূচনা করেছিলেন কবিপুত্র শমীন্দ্রনাথ ঠাকুর। সেবার তিনি নিজে বসন্ত সেজে ছিলেন। পরবর্তীতে বিশ্বভারতী পর্বে সেই উৎসব বসন্ত উৎসব নামে পরিচিত হয়। প্রথম দিকে আম্রকুঞ্জে, পরে স্থান সংকুলানের অভাবে গৌরপ্রাঙ্গণে, শেষমেশ তা আশ্রম মাঠে অনুষ্ঠিত হতো। তবে এর মাঝে ২০১৩ সালে তৎকালীন উপাচার্য সুশান্ত দত্তগুপ্তের আমলে পরীক্ষামূলকভাবে উৎসবটি পূর্বপল্লির মেলার মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। মূলত সেই সময় থেকেই ক্যাম্পাস ও ছাত্র-ছাত্রীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে শুরু করে। বহিরাগত পর্যটকদের ভিড়ের জন্যই মেলার মাঠে উৎসবটি সরানো হয়েছিল। কিন্তু প্রবল রোদে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীদের একাংশ অসুস্থ হয়ে পড়ে। সেজন্য পুনরায় বসন্ত উৎসব শান্তিনিকেতনের আশ্রম মাঠে ফিরে আসে। ২০১৯ সালের বসন্ত উৎসবে পর্যটকদের ভিড় কার্যত জনসমুদ্রের চেহারা নেয়। ভিড়ের চোটে কয়েক ঘণ্টার জন্য বোলপুর শহর কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায়। সেই ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়াতে ২০২০ সালে রাজ্য সরকারের সহযোগিতায় মেলার মাঠেই আয়োজন করার উদ্যোগ নিয়েছিল বিশ্বভারতী। কিন্তু মহামারী করোনার কারণে তা শেষ মুহূর্তে ভেস্তে যায়। এরপর থেকে বিশ্বভারতী ঘরোয়াভাবেই বসন্ত উৎসব উদযাপন করছে। এবছরও কর্তৃপক্ষ সেই সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত রেখেছে।
বর্তমান পড়ুয়া অনন্যা গড়াই, অর্পিতা বসু ও প্রাক্তনী সুদেষ্ণা সান্যাল বলেন, বসন্ত উৎসব কখনওই পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য ছিল না। এটা একান্তই বিশ্ববিদ্যালয়ের রীতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। ‘রং যেন মোর মর্মে লাগে, আমার সকল কর্মে লাগে’—কবিগুরুর এই কথার উপলব্ধি করতে না পেরে পর্যটকদের একাংশ উচ্ছৃঙ্খলায় মেতে ওঠেন। তাই কর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশ্রমিক আলপনা রায় বলেন, আমাদের সময়ে বসন্ত উৎসব দোলের দিনেই হতো। তবে যেভাবে ভিড় বাড়ছে, তাতে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্বাগত জানাই।
বর্তমান পড়ুয়া অনন্যা গড়াই, অর্পিতা বসু ও প্রাক্তনী সুদেষ্ণা সান্যাল বলেন, বসন্ত উৎসব কখনওই পর্যটকদের মনোরঞ্জনের জন্য ছিল না। এটা একান্তই বিশ্ববিদ্যালয়ের রীতি ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধন। ‘রং যেন মোর মর্মে লাগে, আমার সকল কর্মে লাগে’—কবিগুরুর এই কথার উপলব্ধি করতে না পেরে পর্যটকদের একাংশ উচ্ছৃঙ্খলায় মেতে ওঠেন। তাই কর্তৃপক্ষ সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আশ্রমিক আলপনা রায় বলেন, আমাদের সময়ে বসন্ত উৎসব দোলের দিনেই হতো। তবে যেভাবে ভিড় বাড়ছে, তাতে বর্তমান বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্বাগত জানাই।



