নিজস্ব প্রতিনিধি, কাঁথি: কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে ডিরেক্টর নির্বাচনে দলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব মেটাতে শেষে হস্তক্ষেপ করতে হল স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বুধবার কলকাতার ভবানীপুরে জরুরি বৈঠক ডেকেছিলেন দলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি। সেখানে পূর্ব মেদিনীপুরের দলের সকল বিধায়ক ও দুই সাংগঠনিক জেলা সভাপতিকে তলব করা হয়। সুব্রতবাবু ছাড়াও বৈঠকে ছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও আশিস চক্রবর্তী। সূত্রের খবর, দলের সুপারিশ করা প্যানেলকেই মানতে হবে বলে বৈঠক থেকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে সুপ্রিম নেতৃত্ব। সেই সঙ্গে যাঁরা প্যানেল অগ্রাহ্য করে মনোনয়ন জমা দিয়েছিলেন আজ, বৃহস্পতিবার তাঁদের প্রত্যহারের চূড়ান্ত সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। ফলত, কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কে ডিরেক্টর নির্বাচন ঘিরে জেলা তৃণমূলের আড়াআড়ি বিভাজন ও দ্বন্দ্বের রাশ আপাতত মিটল বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। তবে, এদিনই আবার জেলা সভাধিপতি উত্তম বারিকের ঘনিষ্ঠ এক তৃণমূল কর্মীর উপর হামলা চালায় অখিল গিরির অনুগামীরা। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে উদ্ধারে গেলে আক্রান্ত হয় পুলিস। দিঘা থানার এক আধিকারিকের আঙুল ভেঙে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। তিনি পুরো বিষয়টি জেলার পুলিস সুপারকে জানিয়েছেন বলে সূত্রের খবর।
Advertisement
কাঁথি সমবায় ব্যাঙ্কের ভোটে তৃণমূল জয় পেলেও ডিরেক্টর পদে কারা বসবেন, তা নিয়ে প্রকাশ্যে চলে আসে অখিল গিরি বনাম উত্তম বারিকের মুষলপর্ব। যা নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছিল দলের শীর্ষ নেতৃত্বের। এদিনের বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, দলের সুপারিশ করা প্রার্থীদের জেতাতে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে। অখিল ও উত্তমকেও সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে পরস্পর বিরোধী মন্তব্য থেকে বিরত থাকার। জানা গিয়েছে, মিটিং চলাকালীন দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুব্রত বক্সির মোবাইলে ফোন করেন। লাউডস্পিকারে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য প্রত্যেককে শোনানো হয়। তিনি কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ডিরেক্টর নির্বাচনে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করার নির্দেশ দেন। কোনওরকম ঝামেলায় জড়ানো যাবে না বলেও সাফ জানিয়ে দেন। দলনেত্রীর নির্দেশের পরই সুর নরম করেন উত্তম বারিক। তিনি বলেন, ‘যাঁরা অতিরিক্ত মনোনয়ন জমা করেছেন, তাঁদের তুলে নেওয়ার জন্য অনুরোধ করা হবে। দলনেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।’ কন্টাই কো-অপারেটিভ ব্যাঙ্কের ডিরেক্টর পদে নির্বাচনে তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর লড়াই ঠেকাতে দলের পক্ষ থেকে রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও সমবায় সেলের নেতা আশিস চক্রবর্তীকে কাঁথিতে পাঠানো হয়েছিল। তাঁরা দফায় দফায় দুই শিবিরের সঙ্গে পৃথকভাবে আলোচনায় বসেন। কিন্তু, দু’পক্ষকে এক টেবিলে মুখোমুখি করা যায়নি। ১৩ জানুয়ারি দুই শিবির থেকেই মনোনয়ন তোলা হয়। পরের দিন সব মনোনয়ন জমা পড়ে। ওইদিন অখিল গিরিকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করা হয় বলেও অভিযোগ। তা নিয়ে ঝামেলা বাধে। বুধবারও সেই ঝামেলা ফের মাথাচাড়া দেয়। অখিলকে কটূক্তি করায় অভিযুক্ত রাজেশ মাইতি নামে উত্তমের এক অনুগামীকে বেধড়ক মারধর করে প্রাক্তন মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠরা। রাজেশ এসবিএসটিসি’র দীঘা ডিপোর কর্মী। এদিন কর্মরত থাকা অবস্থায় আচমকা তাঁর উপর হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ। তাঁকে উদ্ধারে গিয়েই আক্রান্ত হন দীঘা থানার ওই আধিকারিক।
ব্যাঙ্কে মোট ১৫টি ডিরেক্টর পদ। তারমধ্যে চারটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চারজন জয়ী হওয়ার পথে। বাকি ১২টি আসনে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ১৩ জানুয়ারি দলের পক্ষ থেকে একটা প্যানেল সামনে আনা হয়। যদিও সেই প্যানেলে অখিল শিবিরের সংখ্যাধিক্য থাকায় উত্তম শিবির থেকে বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী দাঁড় করানো হয়। তা ছাড়া ওই তালিকায় দলের কোনও সিল কিংবা নেতৃত্বের কারও সই না থাকায় তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে উত্তম গোষ্ঠী। সেই প্রশ্ন সামনে রেখে প্যানেলের পাল্টা একাধিক জায়গায় সভাধিপতি শিবির থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়। আবার, এগরা সহ দু’-তিনটি জায়গায় অখিল গিরির শিবির থেকেও পাল্টা প্রার্থী দাঁড় করানো হয়েছে। ফলে ১১টি ডিরেক্টর পদে দলের মধ্যেই মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই অবস্থায় দলের স্পষ্ট বার্তা—গোঁজ প্রার্থীদের লড়াই থেকে সরে যেতে হবে। দলের প্যানেলই চূড়ান্ত। অন্যরা যাতে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান তারজন্য দুই শিবিরের নেতাদের উদ্যোগ নিতে হবে। জানা গিয়েছে, ১১টি অতিরিক্ত মনোনয়ন জমা পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যাবে। বিকেল চারটেয় প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত তালিকা। এখন দেখার, ওই ১১ জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন কিনা।
ব্যাঙ্কে মোট ১৫টি ডিরেক্টর পদ। তারমধ্যে চারটি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চারজন জয়ী হওয়ার পথে। বাকি ১২টি আসনে মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ১৩ জানুয়ারি দলের পক্ষ থেকে একটা প্যানেল সামনে আনা হয়। যদিও সেই প্যানেলে অখিল শিবিরের সংখ্যাধিক্য থাকায় উত্তম শিবির থেকে বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী দাঁড় করানো হয়। তা ছাড়া ওই তালিকায় দলের কোনও সিল কিংবা নেতৃত্বের কারও সই না থাকায় তার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে উত্তম গোষ্ঠী। সেই প্রশ্ন সামনে রেখে প্যানেলের পাল্টা একাধিক জায়গায় সভাধিপতি শিবির থেকে প্রার্থী দেওয়া হয়। আবার, এগরা সহ দু’-তিনটি জায়গায় অখিল গিরির শিবির থেকেও পাল্টা প্রার্থী দাঁড় করানো হয়েছে। ফলে ১১টি ডিরেক্টর পদে দলের মধ্যেই মুখোমুখি লড়াইয়ের পরিস্থিতি তৈরি হয়। এই অবস্থায় দলের স্পষ্ট বার্তা—গোঁজ প্রার্থীদের লড়াই থেকে সরে যেতে হবে। দলের প্যানেলই চূড়ান্ত। অন্যরা যাতে লড়াই থেকে সরে দাঁড়ান তারজন্য দুই শিবিরের নেতাদের উদ্যোগ নিতে হবে। জানা গিয়েছে, ১১টি অতিরিক্ত মনোনয়ন জমা পড়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টে পর্যন্ত মনোনয়ন প্রত্যাহার করা যাবে। বিকেল চারটেয় প্রকাশিত হবে চূড়ান্ত তালিকা। এখন দেখার, ওই ১১ জন মনোনয়ন প্রত্যাহার করেন কিনা।



