Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দলের নেত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি

দলের নেত্রীকে শ্লীলতাহানির অভিযোগে গ্রেপ্তার নদীয়া দক্ষিণ সাংগঠনিক জেলার সহ-সভাপতি
  • ১৬ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
সংবাদদাতা, নবদ্বীপ: বিজেপি নেত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ উঠল বিজেপিরই এক নেতার বিরুদ্ধে। সেই সঙ্গে রয়েছে কুপ্রস্তাব, ধর্ষণ ও খুনের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ। এই সমস্ত অভিযোগের ভিত্তিতে বিজেপির ওই নেতাকে গ্রেপ্তার করল নবদ্বীপ থানার পুলিস। ধৃতের নাম নবীন চক্রবর্তী। তিনি বিজেপির নদীয়া সাংগঠনিক জেলা দক্ষিণের সহ-সভাপতি। বুধবার সকালে নবদ্বীপের রামসীতাপাড়ার বাড়ি থেকে ওই বিজেপি নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। যদিও নবীন তাঁর বিরুদ্ধে আনা সমস্ত অভিযোগ ‘সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন’ বলে জানিয়েছেন। অভিযুক্ত বলেন, অভিযোগের সঙ্গে বাস্তবের কোনও মিল নেই। তাঁকে রাজনৈতিকভাবে চক্রান্ত করে ফাঁসানো হয়েছে। 
Advertisement
গত মঙ্গলবার বিজেপির এক নেত্রী নবদ্বীপ থানায় ওই নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। জানা গিয়েছে, ওই নেতার স্ত্রী তাঁর ছেলের জন্য একজন গৃহশিক্ষক ঠিক করে দিতে বলেন। তাঁর কথা মতো একজন শিক্ষক ঠিক করে গত ১২ জানুয়ারি নেত্রী তাঁকে ফোন করেন। কিন্তু সেই ফোনে প্রথমে নেতার স্ত্রীকে পাওয়া যায়নি। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই অভিযুক্ত নেতা নবীন অন্য একটি ফোন নম্বর থেকে ওই বিজেপি নেত্রীকে উত্ত্যক্ত করেন এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। এমনকী রাতের অন্ধকারে নেত্রীকে ধর্ষণ করার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ। সারাদিন ওই নেত্রীর বাড়ির সামনে একাধিকবার টহল দেন নবীন। বিজেপি নেত্রীর অভিযোগ, ওইদিন তিনি নবদ্বীপ হিন্দু স্কুলের একটি রেস্তরাঁ থেকে খাবার নিয়ে বাড়িতে ফিরছিলেন। তখন একটি ফাঁকা জায়গায় নবীন ও আরও দু’জন অপরিচিত ব্যক্তি পিছু নিয়ে তাঁর স্কুটি আটকান। তাঁকে সজোরে ধাক্কা মেরে গাড়ি থেকে ফেলে দেওয়া হয়। এমনকী তাঁর হাত ধরে টানাটানি ও ধস্তাধস্তি করা হয়। সেই সময় কিছু পথচলতি মানুষকে আসতে দেখে ধর্ষণের হুমকি এবং প্রাণে মেরে ফেলার কথা বলেন। পরে বাইক নিয়ে সঙ্গে আসা দুষ্কৃতীদের সঙ্গে পালিয়ে যান অভিযুক্ত। 
ধৃত বিজেপি নেতা নবীন চক্রবর্তী বলেন, আমি রাজনীতির শিকার। আমার বিরুদ্ধে চক্রান্ত করা হয়েছে। যিনি এই অভিযোগ এনেছেন, তিনি আমার থেকে অনেক জুনিয়র। তাঁর হয়তো কোনও রাজনৈতিক স্বপ্ন আছে। যদি আমার দলের লোকই হবেন, তবে থানায় এসে অভিযোগ করবেন না। তার জন্য দলের নেতৃত্বের কাছে গিয়েই তিনি বিচার চাইবেন। আমার স্ত্রীর ফোনে উনি ফোন করলে সেটা আমি ধরেছিলাম। তখন কিন্তু কথা বলেননি। উদ্দেশ্য ছিল একটাই, যাতে আমি রাজনীতি না করি। তখন আমি তাঁকে ফোন করে বলেছিলাম আমার বাড়িতে যেন ফোন করা না হয়। যখন রাজনীতিতে পেরে উঠছেন না, তখন বাড়িতে ফোন করে স্ত্রীকে বিভিন্ন রকম কথা বলেন। তারপর আমি ওঁকে গালিগালাজ করেছি। উনি মহিলা বলে সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এদিন ধৃতকে নবদ্বীপ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে তোলা হয়। তবে নবদ্বীপ আদালতের এক আইনজীবীর মৃত্যু হওয়ায় এদিন কোনও আইনজীবী কাজকর্ম করেননি। ফলে স্বভাবতই ওই নেতার জেল হেফাজত হয়।
সম্পর্কিত সংবাদ