সংবাদদাতা, ঘাটাল: বিয়ের পর প্রথম শীত। এই শীতের সময় স্ত্রীকে নিয়ে বেড়ানোর স্বপ্ন ছিল দাসপুর থানার খেপুত গ্রামের বাসিন্দা স্বর্ণশিল্পী তুফান জানার (৩২)। কাজ থেকে ছুটি নিয়ে বাড়ি ফেরার পথ ধরেছিলেন তিনি। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! বাড়ি ফেরা তো দূরের কথা, দিল্লিতেই তাঁর শেষযাত্রা সম্পন্ন হল। স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যরা তুফানের মরদেহ দেখতেও পারলেন না। মঙ্গলবার রাতে যুবকের শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। ভিডিওতে পরিবারের সদস্যরা শেষকৃত্য দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন। দাসপুর থানার পুলিস জানিয়েছে, দিল্লি সংলগ্ন এলাকায় রেল লাইনের উপর সোমবার সকালে তুফানের কাটা দেহ পড়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। আরপিএফের মাধ্যমেই খবর আসে। মঙ্গলবার দিল্লিতেই মৃতদেহ সৎকার করা হয়।
Advertisement
তুফান খুব ছোট থেকেই সোনার কাজ করতেন। বিভিন্ন রাজ্যের বহু সোনার দোকানে কাজ করার পর বেশ কিছুদিন হল চণ্ডীগড় সংলগ্ন পাতিয়ালার এক সোনার দোকানে গয়না তৈরির কারিগর হিসেবে কাজে যোগদান করেন। পরিবার সূত্রে জানা যায়, বৈশাখ মাসে কোলাঘাটের বাসিন্দা শ্রেয়া জানাকে বিয়ে করেন। শ্রেয়া জানান, এবার শীতে কিছু দিন বাড়িতে থাকার কথা ছিল তুফানের। দু’জনে মিলে সামনা-সামনি কয়েকটা পার্ক ছাড়াও পুরী বা দীঘা যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। সেজন্যই এবার বাড়ি আসছিলেন তিনি। কিন্তু জীবনে এভাবে কালো মেঘ নেমে আসবে, সেটা কখনওই ভাবতে পারিনি। কী এমন পাপ করেছিলাম যে স্বামীকে শেষ শ্রদ্ধাটুকুও জানাতে পারলাম না।তুফানের দাদা শুভেন্দু জানার কাছ থেকে জানা গেল, সোমবার সকালে দিল্লির জিআরপির কাছ থেকে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পান। তারা জানায়, ট্রেনলাইনের একেবারে পাশেই তাঁর ভাইয়ের ধড় ও মাথা আলাদা আলাদা ভাবে উদ্ধার হয়। তুফানের সঙ্গে থাকা ব্যাগপত্রেরও হদিশ পাওয়া যায়নি। তুফানের মৃত্যু সংবাদ পেয়ে তাঁর বাবা গোপীনাথ জানা, মা শিখা জানা এবং স্ত্রী জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন।তুফানকে শেষ দেখা দেখার জন্য বাড়ি থেকে বাবা-মা এবং স্ত্রী ব্যাকুল হয়ে ওঠেন। কিন্তু প্লেনের টিকিট কেনার সামর্থ্য না থাকার ফলে সেই ইচ্ছেও পূরণ হল না। শুভেন্দু একাই ভাইয়ের শেষকৃত্য সম্পন্নের কাজ করেন। ভিডিও কলেই বাড়ির সদস্যদের অন্তিমযাত্রা দেখে মনকে প্রবোধ দিতে হল। শ্রেয়ার কাছে সারা জীবনের মতো তুফানকে নিয়ে শীতে বেড়াতে যাওয়ার স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল।



