Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দিল্লির মহিলার রহস্যমৃত্যু শিলিগুড়িতে

দিল্লির মহিলার রহস্যমৃত্যু শিলিগুড়িতে
  • ৪ জানুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: দিল্লির বাসিন্দা এক মহিলার রহস্যমৃত্যু শহর শিলিগুড়িতে। ভাড়া বাড়ির শোবার ঘর থেকে উদ্ধার তাঁর ঝুলন্ত দেহ। পুলিস জানিয়েছে, মৃতার নাম ফুলবতি(২৯)। শহরের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকতেন তিনি। বছরের প্রথম দিন তাঁর দেহ উদ্ধার হয়। তবে শুক্রবার মৃতার দিদি ও জামাইবাবু শিলিগুড়িতে এলে মহিলার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। প্রেমঘটিত ব্যাপারে ওই মহিলা আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি পরিবারের সদস্যদের। ফুলবতির মৃত্যুর পর এক যুবকের  নাম উঠে এসেছে। ঘটনায় ওই ব্যক্তির নাম নিয়েছেন মৃতার পরিবারের সদস্যরা। একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্তে নেমেছে পুলিস।
Advertisement
এই ব্যাপারে শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের ডিসিপি (পূর্ব) রাকেশ সিং বলেন, আমরা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছি। তবে পরিবারের তরফে এখনও নির্দিষ্ট অভিযোগ দায়ের করা হয়নি।
পুলিস ও পরিবার সূত্রে খবর, ওই মহিলা দিল্লিতে থাকাকালীন প্রায় পাঁচ বছর আগে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের আধিকারিকের সঙ্গে বিয়ে হয়। তাদের তিন বছরের একটি সন্তানও রয়েছে। কিন্তু, প্রায় দেড় বছর আগে ওই মহিলা শিলিগুড়িতে চলে আসেন। শহরের একটি সংস্থায় চাকরি শুরু করেন। সেই সময় ওই যুবকের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। মৃতার বাড়ির মালিক শ্যাম তামাংও জানিয়েছেন, ওই যুবক ফুলবতির ঘরে যাতায়াত করত।
পরবর্তীতে তাঁর সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল বলে ফুলবতি তাঁর দিদিকে কল্পনাকে জানিয়েছিলেন। যদিও বিয়ের কোনও প্রমাণ মৃতার পরিবারের হাতে নেই। কল্পনাদেবী এদিন জানান, ৩১ ডিসেম্বর রাত ২টো পর্যন্ত বোনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল। সেই ফোনে বোন জানিয়েছিল, যুবকটি লাগাতার ওকে মারধর করেছে। এমনকি ঘটনার রাতেও সেই ব্যক্তি ভাড়াবাড়িতে এসেছিল। দু’জনের মধ্যে প্রচণ্ড ঝগড়াও হয় বলে বাড়ির মালিক শ্যামবাবু জানিয়েছেন। ঘটনার রাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সময়ে শ্যামবাবুর স্ত্রীর সঙ্গেও সেই যুবকের কথা হয়। এরপর তাঁর স্ত্রী ভাড়ার ঘরে গিয়ে ফুলবতিকে বোঝানোর চেষ্টা করেন। এরপর ভিডিও কলে ফুলবতি একাধিকবার  ওই যুবকের সঙ্গে কথা বলে দিদি কল্পনাকে ফোন করেন। রাত ২টোর পর থেকে ফুলবতির ফোন বন্ধ হয়ে যায়। সকাল থেকে ফুলবতির ঘরের দরজা আর খুলতে দেখেননি বাড়িওয়ালা। 
পয়লা জানুয়ারি বেলা গড়িয়ে গেলেও দিদি কল্পনা বোনের খোঁজ না পেয়ে সরাসরি শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিসের কন্ট্রোলরুমে ফোন করেন। সেখান থেকে ভক্তিনগর থানায় ফোন করা হলে পুলিস গিয়ে ভিডিওগ্রাফি করে দরজা ভেঙে ওই মহিলার ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার করে। এরপরই দেহ শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। বৃহস্পতিবার বোনের ঘটনা শুনে দিল্লি থেকে ট্রেনে রওনা হন দিদি, জামাইবাবু। এদিন তাঁরা শিলিগুড়ি জেলা হাসপাতালে এসে ওই যুবকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন। অভিযুক্তের শাস্তি দাবি করেন। মৃতার দিদি বলেন,ওই যুবকই আমার বোনকে এই পথে ঠেলে দিয়েছিল। ওর শাস্তি চাই। যদিও অভিযুক্তের কোনও বক্তব্য মেলেনি।
সম্পর্কিত সংবাদ