Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬

দিল্লি-জয়পুর, ৩০০ কিমি মাত্র ৩০ মিনিটে

দিল্লি-জয়পুর, ৩০০ কিমি মাত্র ৩০ মিনিটে
  • ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
চেন্নাই: রাজধানী দিল্লি থেকে রাজস্থানের জয়পুর যাবেন? ৩০০ কিমির কিছু বেশি দূরত্বের এই পথ পাড়ি দিতে এখন রাজধানী এক্সপ্রেসের সময় লাগে প্রায় চার ঘণ্টা। আর অন্য সুপারফাস্ট ট্রেনের পাঁচ ঘণ্টারও বেশি। কিন্তু যদি বলা হয়, ট্রেনে চেপে দিল্লি থেকে জয়পুরে ‘উড়ে’ যাবেন মাত্র আধ ঘণ্টায়? শুনে অবাস্তব মনে হলেও এমনই অভিনব পরিকল্পনা করেছেন আইআইটি মাদ্রাজের বিজ্ঞানীরা। সেই ট্রেনের পোশাকি নাম ‘হাইপারলুপ’। আর এই প্রযুক্তিকে হাতিয়ার করে গণপরিবহণ ব্যবস্থার ছবিটা আমূল বদলে দিতে চাইছেন বিজ্ঞানীরা। সাধারণ রেললাইন দিয়ে নয়, এই দ্রুতগামী ট্রেন চলবে বিশেষ ধরনের টিউব বা পাইপের মধ্যে দিয়ে। গতি হবে ঘণ্টায় ১ হাজার ১০০ কিমি, যা বুলেট ট্রেন তো বটেই, যাত্রীবাহী বিমানের থেকেও বেশি।
Advertisement
গত কয়েক বছর ধরেই রেলমন্ত্রকের সাহায্যে এই হাইপারলুপ নিয়ে গবেষণা চালাচ্ছিল আইআইটি মাদ্রাজ। এবার এক ধাপ এগিয়ে সেখানকার গবেষকরা ক্যাম্পাসের মধ্যেই ৪২২ মিটার দীর্ঘ হাইপারলুপ টেস্ট ট্র্যাক তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন। সেখানেই পরবর্তী ধাপের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলবে। আর হাইপারলুপ বাস্তব রূপ পেলে? ৩৫০ কিমি পথ পাড়ি দেওয়া যাবে মাত্র ৩০ মিনিটেই। আমাদের রাজ্যের উদাহরণ দিলে বলা যায়, এখন হাওড়া থেকে মালদহে যেতে বন্দে ভারত এক্সপ্রেসের সময় লাগে প্রায় সাড়ে চার ঘণ্টা। সেই পথও ৩০ মিনিটে পাড়ি দেওয়া সম্ভব হবে। আইআইটি-মাদ্রাজের গবেষকদের সাফল্যের কথা মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডলে ভাগ করে নিয়েছেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। তিনি জানিয়েছেন, ‘সরকারের সঙ্গে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যতের পরিবহণ ব্যবস্থার আবিষ্কারের দিকে এগিয়ে চলেছি।’ দ্রুত বাণিজ্যিকভাবে এই প্রকল্প চালু করার ভাবনা রয়েছে রেলের। তার জন্য ইতিমধ্যেই আইআইটি মাদ্রাজকে দু’দফায় ১০ লক্ষ ডলার দেওয়া হয়েছে। আরও ১০ লক্ষ ডলার অনুদান দেওয়া হবে।
কিন্তু এই হাইপারলুপ কী? এটি পঞ্চম প্রজন্মের পরিবহণ ব্যবস্থা। জ্বালানির ব্যবহার কমিয়ে উচ্চগতিতে দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার এই প্রযুক্তির কথা প্রথম বলেছিলেন টেসলা কর্তা এলন মাস্ক। একটি বাতাসহীন টিউবের মধ্যে দিয়ে চলাচল করবে বিশেষ প্রযুক্তির ট্রেন। তাতে থাকবে একটিই যাত্রীবাহী কামরা বা ক্যাপসুল। ওই ক্যাপসুলে চাকার বদলে ব্যবহার করা হবে ইলেকট্রোম্যাগনেটিক লেভিটেশন পদ্ধতি। অর্থাত্ ক্যাপসুল ও ট্র্যাকে থাকবে চুম্বকের পাত। চৌম্বকীয় শক্তির প্রভাবে ট্র্যাকের উপর ‘ভাসবে’ ক্যাপসুলটি। চাকা না থাকায় ও টিউবটি বাতাসহীন হওয়ার ফলে বায়ু বা অন্য কোনও ঘর্ষণজনিত বাধা থাকবে না। ফলে খুব সহজে ঘণ্টায় হাজার কিমির বেশি গতিতে চলতে পারবে এই হাইপারলুপ। ভারতীয় রেলের দাবি, এক্ষেত্রে দুর্ঘটনার আশঙ্কা, খারাপ আবহাওয়ার প্রভাব নেই।
রেল সূত্রে খবর, প্রাথমিকভাবে মুম্বই-পুনে রুটে বাণিজ্যিকভাবে হাইপারলুপ চালু হতে পারে। তবে এই পথে বাধা রয়েছে প্রচুর। খরচও বিপুল। তার সঙ্গে রয়েছে জমি অধিগ্রহণ সহ বিভিন্ন প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। তবে সে সব ভেবে দমে যেতে নারাজ বিজ্ঞানীরা।

হাইপারলুপ টেস্ট ট্র্যাক তৈরি
এক কামরার সুপারফাস্ট ট্রেন। তবে রেল লাইন নয়, একটি বায়ুশূন্য টিউব দিয়ে তা চলে। জ্বালানির পরিবর্তে এখানে ব্যবহার করা হয় তড়িৎচুম্বকীয় শক্তি। তার প্রভাবে কামরাটি শূন্যে ভাসমান অবস্থায় চলে। ঘণ্টায় ১১০০ কিমি বেগে চলতে পারে এই হাইপারলুপ। এই হাইপারলুপের ৪২২ মিটারের টেস্ট ট্র্যাক বানিয়ে ফেলেছেন আইআইটি মাদ্রাজের গবেষকরা।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ