সমৃদ্ধ দত্ত, নয়াদিল্লি: অবশেষে শাপমুক্তি ঘটল বিজেপির। ২৭ বছর পর দিল্লি দখল করল গেরুয়া দল। লোকসভা ভোটে গরিষ্ঠতা হারিয়ে মহাধাক্কা খেয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি। তাঁর মুখরক্ষা করল রাজধানীর বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল। ৭০ আসনের মধ্যে ৪৮ আসনে জয়ী হয়ে একক গরিষ্ঠতার সরকার গঠন করতে চলেছে বিজেপি।
Advertisement
গোটা ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে পদ্মফুল ফুটলেও ২০১৪ সালের পর থেকে নরেন্দ্র মোদির অশ্বমেধের ঘোড়া বারবার থমকে গিয়েছে খোদ রাজধানীতেই। ২০১৫ এবং ২০২০ সালের দুই ভোটে লাগাতার ভরাডুবির পর তৃতীয়বার সাফল্য না পেলে মোদির ক্যারিশমা প্রশ্নের সম্মুখীন হতো। তাই বিজেপি সর্বশক্তি নিয়োগ করেছিল। এমনকী কল্পতরু হয়েছিল ইস্তাহারেও। তাহলে কি মোদি ম্যাজিকই একমাত্র কারণ দিল্লি জয়ের? একেবারেই নয়। প্রধান কারণ কংগ্রেস এবং আম আদমি পার্টির (আপ) অতি আত্মবিশ্বাস, ইগো বা অহংকার। বিজেপি জয়ী হয়েছে স্রেফ ভোট বিভাজনে। আপের আসন সংখ্যা মাত্র ২২ হলেও তাদের প্রাপ্ত ভোট প্রায় ৪৪ শতাংশ। বিজেপির তুলনায় মাত্র ২ শতাংশ কম। পক্ষান্তরে, আসন শূন্য হলেও তৃতীয় পক্ষ কংগ্রেস কত ভোট পেয়েছে? প্রায় সাড়ে ৬ শতাংশ! সব মিলিয়ে আপ এবং কংগ্রেসের ভোট শেয়ার ৫০ শতাংশের বেশি। অর্থাৎ ইগো ছেড়ে দিল্লিতে অরবিন্দ কেজরিওয়াল এবং রাহুল গান্ধীরা যদি আসন সমঝোতা করতেন, মহাজোট ‘ইন্ডিয়া’ হিসেবে ভোটের ময়দানে নামতেন, তাহলে পরাজয় নিশ্চিত ছিল বিজেপির।
কিন্তু বিগত দুই বিধানসভার ফলাফলের প্রেক্ষিতে অতি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন কেজরিওয়াল। কংগ্রেস ও বিজেপিকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ফুৎকারে। ভেবেছিলেন এবারও পুনরাবৃত্তি হবে। অথচ এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। তাঁর খয়রাতি প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে কংগ্রেস ও বিজেপিও অগাধ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সে মহিলাদের মাসে আড়াই হাজার টাকাই হোক অথবা বাসে-মেট্রোয় ‘ফ্রি জার্নি’। এমনকী যে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের সেনাপতি হয়ে ক্ষমতায় বসেছিলেন, সেই দুর্নীতির ফাঁসেই জড়িয়েছে কেজরিওয়ালের সরকার। কোনও সন্দেহ নেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে তারা বিপ্লব ঘটিয়েছে। কিন্তু দিল্লির মতো শহরে সেটাই যথেষ্ট ছিল না। দিল্লির চালিকাশক্তি ৬৮ শতাংশ মধ্যবিত্ত। মিনি ভারতবর্ষ। দেশের পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণের ভারতবাসী দিল্লির নাগরিক। কেজরিওয়ালের ১০ বছরে এই দিল্লির পরিকাঠামো ছিল স্তব্ধ। প্রবল দূষণই হোক অথবা করোনাকালে চিকিৎসা, দিল্লি বারবার পরিণত হয়েছে মৃত্যুনগরীতে। সরকারের উপস্থিতি চোখেই পড়েনি। আর তাই ক্ষোভ ছিল।
তবু ভোট শতাংশে দেখা যাচ্ছে, আপ ও কংগ্রেসের জোট হলে এই প্রতিবন্ধকতাও দূর হতো। কিন্তু কংগ্রেসের কাছে অগ্রাধিকার ছিল প্রতিশোধ। দিল্লিকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেওয়া শীলা দীক্ষিতকে দুর্নীতির অপবাদে পরাস্ত করেছিল আপ। সেই অসম্মানের বদলা নিতে চেয়েছে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীর দলের ফর্মুলা হল, আগে আপ ক্ষমতাচ্যুত হয়ে যাক। বিজেপি জিতুক। একবার হেরে গেলে আপের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে। ফলে আগামী দিনে দিল্লিতে বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ হবে কংগ্রেস। এই প্ল্যান কি সফল হবে? কেজরিওয়ালের কাছে সেটাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর সবথেকে বড় সঙ্কট হতে চলেছে ২২ জন বিধায়ককে ধরে রাখা। কারণ, ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নিশ্চিতভাবে অপারেশন লোটাসে নামবে বিজেপি। আপ কি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে? ফলাফলের পর প্রধান চর্চা দিল্লিতে এটাই! কেন? কেজরিওয়াল নিজেই যে হেরে গিয়েছেন! কংগ্রেস লাগাতার তিনবার শূন্য পেয়েছে। তবে একমাত্র এবারই শূন্য তাদের কাছে আনন্দদায়ক। কারণ আপের যাত্রাভঙ্গ হয়েছে!
কিন্তু বিগত দুই বিধানসভার ফলাফলের প্রেক্ষিতে অতি আত্মবিশ্বাসী ছিলেন কেজরিওয়াল। কংগ্রেস ও বিজেপিকে উড়িয়ে দিয়েছিলেন ফুৎকারে। ভেবেছিলেন এবারও পুনরাবৃত্তি হবে। অথচ এবার পরিস্থিতি ছিল ভিন্ন। তাঁর খয়রাতি প্রকল্পের পাল্টা হিসেবে কংগ্রেস ও বিজেপিও অগাধ প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। সে মহিলাদের মাসে আড়াই হাজার টাকাই হোক অথবা বাসে-মেট্রোয় ‘ফ্রি জার্নি’। এমনকী যে দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের সেনাপতি হয়ে ক্ষমতায় বসেছিলেন, সেই দুর্নীতির ফাঁসেই জড়িয়েছে কেজরিওয়ালের সরকার। কোনও সন্দেহ নেই শিক্ষা ও স্বাস্থ্যক্ষেত্রে তারা বিপ্লব ঘটিয়েছে। কিন্তু দিল্লির মতো শহরে সেটাই যথেষ্ট ছিল না। দিল্লির চালিকাশক্তি ৬৮ শতাংশ মধ্যবিত্ত। মিনি ভারতবর্ষ। দেশের পূর্ব, পশ্চিম, উত্তর, দক্ষিণের ভারতবাসী দিল্লির নাগরিক। কেজরিওয়ালের ১০ বছরে এই দিল্লির পরিকাঠামো ছিল স্তব্ধ। প্রবল দূষণই হোক অথবা করোনাকালে চিকিৎসা, দিল্লি বারবার পরিণত হয়েছে মৃত্যুনগরীতে। সরকারের উপস্থিতি চোখেই পড়েনি। আর তাই ক্ষোভ ছিল।
তবু ভোট শতাংশে দেখা যাচ্ছে, আপ ও কংগ্রেসের জোট হলে এই প্রতিবন্ধকতাও দূর হতো। কিন্তু কংগ্রেসের কাছে অগ্রাধিকার ছিল প্রতিশোধ। দিল্লিকে উন্নতির শিখরে পৌঁছে দেওয়া শীলা দীক্ষিতকে দুর্নীতির অপবাদে পরাস্ত করেছিল আপ। সেই অসম্মানের বদলা নিতে চেয়েছে কংগ্রেস। রাহুল গান্ধীর দলের ফর্মুলা হল, আগে আপ ক্ষমতাচ্যুত হয়ে যাক। বিজেপি জিতুক। একবার হেরে গেলে আপের অস্তিত্বই বিপন্ন হবে। ফলে আগামী দিনে দিল্লিতে বিজেপির প্রধান প্রতিপক্ষ হবে কংগ্রেস। এই প্ল্যান কি সফল হবে? কেজরিওয়ালের কাছে সেটাই এখন সবথেকে বড় চ্যালেঞ্জ। তাঁর সবথেকে বড় সঙ্কট হতে চলেছে ২২ জন বিধায়ককে ধরে রাখা। কারণ, ক্ষমতাসীন হওয়ার পর নিশ্চিতভাবে অপারেশন লোটাসে নামবে বিজেপি। আপ কি ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে? ফলাফলের পর প্রধান চর্চা দিল্লিতে এটাই! কেন? কেজরিওয়াল নিজেই যে হেরে গিয়েছেন! কংগ্রেস লাগাতার তিনবার শূন্য পেয়েছে। তবে একমাত্র এবারই শূন্য তাদের কাছে আনন্দদায়ক। কারণ আপের যাত্রাভঙ্গ হয়েছে!



