Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডালখোলায় স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ যুবকের, চাঞ্চল্য

ডালখোলায় স্ত্রীকে কুপিয়ে খুন করে ট্রেনের সামনে ঝাঁপ যুবকের, চাঞ্চল্য
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, ইসলামপুর: ধারালো অস্ত্র দিয়ে স্ত্রীকে একাধিকবার কুপিয়ে খুন করার পর রেললাইনে মাথা দিলেন স্বামী। রবিবার ঘটনাটি ঘটেছে ডালখোলার ১০ নং ওয়ার্ডের শরৎপল্লী এলাকায়। পারিবারিক অশান্তির জেরে এই ঘটনা বলে মনে করছেন বাসিন্দারা। তবে প্রকৃত কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। স্থানীয় একটি মহলের দাবি, অবৈধ প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিবাদের জেরে এই পরিণতি। 
Advertisement
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত পূজা মণ্ডল (২৬) ডালখোলার শরৎপল্লী এলাকার বাসিন্দা। মৃত স্বামীর নাম ধীরেন বিশ্বাস (৩৬)। ধীরেনের বাড়ি দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুরে। তিনি পুণের একটি রেস্টুরেন্টে কাজ করেন। স্বামী ভিনরাজ্যে কাজ করেন বলেই বিয়ের পর থেকে পূজা ডালখোলায় বাবার বাড়িতে থাকতেন। স্বামীও ভিনরাজ্য থেকে ফিরে শ্বশুর বাড়িতেই উঠতেন। প্রায় পাঁচ বছর আগে তাদের বিয়ে হয়েছিল। তিন বছরের এক কন্যা সন্তানও আছে তাঁদের।
মৃতের দাদা বরুণ বিশ্বাসের কথায়, মনে হয় ভাইয়ের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর কোনও ঝামেলা ছিল। কিন্তু আমরা এই বিষয়ে পরিষ্কার কিছু জানি না।
ডালখোলা থানার পুলিস মৃত স্ত্রীর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তে পাঠিয়ে তদন্ত শুরু করেছে। অন্যদিকে জিআরপি মৃত স্বামীর দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত করেছে। 
পুলিস ও পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকাল ১১ টা নাগাদ ধীরেন প্রথমে স্ত্রীর মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কয়েকবার কুপিয়ে খুন করে। বাড়ি থেকে সামান্য দূরেই রেললাইন। স্ত্রীকে খুনের পরেই কাটিহারগামী একটি মালগাড়ির সামনে ঝাঁপ দিয়ে আত্মঘাতী হন ধীরেন। শ্বশুর বাড়ির লোকজনই ধীরেনের দেহ শনাক্ত করেছেন।
মৃতার মা শিবা মণ্ডলের কথায়, তিনদিন আগে রাতে জামাই মদ্যপ অবস্থায় মেয়েকে মারধর করেছিল। পরে আমরা বুঝিয়ে শান্ত করেছিলাম। সেদিন সব সমস্যা মিটেও গিয়েছিল। কিন্তু এদিন ফের কী হয়েছিল, সেটা বলতে পারছি না।
মৃতার মামা শ্যামল বিশ্বাস বলেন, পরিবারে অশান্তি ছিল না। চারদিন আগেই জামাই কাজ থেকে ফিরে এসেছে। রবিবার সকালে বাজার থেকে মাংস কিনে এনেছিল। কিন্তু ওদের মধ্যে হঠাৎ এমন কী হল যে এমন ঘটনা ঘটল, কিছুই বুঝতে পারছি না। ঘটনার পর জামাইয়ের পরিবারকে খবর দেওয়া হলে তাঁরাও এসেছিলেন।
স্থানীয় কাউন্সিলার রাকেশ সরকার (পিকলু) বলেন,  খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যা‌ই। দেখি পূজার দেহ পড়ে রয়েছে। অন্যদিকে রেললাইন থেকে স্বামীর দেহ জিআরপি তুলে নিয়ে যায়। কী কারণে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, বুঝতে পারছি না। তবে মনে হচ্ছে রাগের মাথায় স্ত্রীকে খুন করার পর অনুশোচনায় স্বামী রেল লাইনে মাথা দিয়েছে আত্মঘাতী হয়েছেন।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ