নিজস্ব প্রতিনিধি, ঝাড়গ্ৰাম: যাকে নিয়ে কবীর সুমন গান লিখেছিলেন, ‘বন্দুক আর বুলেট, সেপাই দলে দলে, অন্যদিকে বিরসা জাগেন জঙ্গলে জঙ্গলে।’—সেই ছত্রধর মাহাত ফিরছেন ঝাড়গ্রামে। এনআইএ মামলায় মুক্ত হয়ে জেলায় ফেরার আগে ছত্রধর মাহাত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, নামমাত্র পদ নয়, দল তাকে উপযুক্ত দায়িত্ব দিক। না হলে রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেবেন।
Advertisement
আগামীকাল, অর্থাৎ রবিবার ছত্রধর মাহাত জেলায় ফিরছেন। জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে স্বাগত জানানোর প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। জেলার রাজনৈতিক মহলেও তৃণমূল নেতার ফেরা নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। বাম আমলে জনসাধারণের কমিটির আন্দোলনের প্রধান মুখ ছিলেন ছত্রধর। আন্দোলনে এপিসেন্টার হয়ে উঠেছিল জঙ্গলমহলের লালগড়। রাজ্য রাজনীতির পালাবদলে এই আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বার বার ছত্রধর মাহাতর ভূমিকার কথা স্বীকার করেছেন। জেল থেকে ২০২০ সালে ছাড়া পেলে তাকে তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়। এবার এনআইএ মামলা থেকে মুক্তি পেয়ে ছত্রধর মাহাত স্পষ্ট করে দিয়েছেন, দলের নামমাত্র পদ তিনি চান না। দল তাকে উপযুক্ত পদ দিক। না হলে রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেবেন। তবে সামাজিক কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন। ছত্রধরের এই বক্তব্য কি রাজ্য নেতৃত্বের প্রতি আগাম বার্তা, তা জোর চর্চা জেলার রাজনৈতিক মহলে।
এদিন কলকাতার বাড়ি থেকে ফোনে ছত্রধর মাহাত বলেন, পঁচাশি সাল থেকে রাজনীতি করেছি। বাম আমলে সিপিএমের চরম অত্যাচার আমার পরিবারকে ও আমাকে সহ্য করতে হয়েছে। বারো বছরের বেশি জেল খেটেছি। ভালোবেসে তৃণমূল দলটা করেছি। দল যখন ক্ষমতায় আসে তখন চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি ছিলাম। দিদি আমাকে একুশের বিধানসভা ভোটের আগে ১২টি বিধানসভা এলাকার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেখানে তৃণমূল ১১টাতে জয়লাভ করে। তারপরেও দলের কাছে যে গুরুত্ব পাওয়ার কথা তা পাইনি। এই বয়সে এসে নামমাত্র পদ চাই না। দল উপযুক্ত পদ দিলে কাজ করব। না হলে সংসদীয় কোনও রাজনৈতিক দলে আর থাকব না। সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকব। মানুষের পাশে থেকে কাজ করব। প্রবীণ এই নেতার ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী বলেন, বর্তমানে জঙ্গলমহল এলাকার অধিকাংশ নেতাকর্মীই ওঁর হাতে তৈরি। এমনকী শাসক ও বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মীই তাঁর নেতৃত্বে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আগামী দিনে এমন এক নেতাকে উপেক্ষা করে চলা অসম্ভব। রাজনীতি বা সামাজিক আন্দোলন যেখানেই উনি থাকবেন জন সাধারণকে প্রভাবিত করবেন। জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, ছত্রধর মাহাত রাজনীতি জগতের এক বড় চরিত্র। রাজনৈতিক চক্রান্ত করেই ওঁকে জেলবন্দি করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে সেকথা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। দলের তরফে ওঁকে আমরা স্বাগত জানাব। ছত্রধর মাহাতর স্ত্রী নিয়তি মাহাত বলেন, ওঁর মুক্তিতে দলের নিচুতলার কর্মী সমর্থকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। অনেকেই ফোন করছেন। তবে জেলার নেতৃত্ব স্থানীয়রা কেউ যোগাযোগ করেননি। মানুষ স্বার্থে উনি কাজ করছেন। আগামী দিনেও একইভাবে কাজ করবেন।
এদিন কলকাতার বাড়ি থেকে ফোনে ছত্রধর মাহাত বলেন, পঁচাশি সাল থেকে রাজনীতি করেছি। বাম আমলে সিপিএমের চরম অত্যাচার আমার পরিবারকে ও আমাকে সহ্য করতে হয়েছে। বারো বছরের বেশি জেল খেটেছি। ভালোবেসে তৃণমূল দলটা করেছি। দল যখন ক্ষমতায় আসে তখন চার দেওয়ালের মধ্যে বন্দি ছিলাম। দিদি আমাকে একুশের বিধানসভা ভোটের আগে ১২টি বিধানসভা এলাকার দায়িত্ব দিয়েছিলেন। সেখানে তৃণমূল ১১টাতে জয়লাভ করে। তারপরেও দলের কাছে যে গুরুত্ব পাওয়ার কথা তা পাইনি। এই বয়সে এসে নামমাত্র পদ চাই না। দল উপযুক্ত পদ দিলে কাজ করব। না হলে সংসদীয় কোনও রাজনৈতিক দলে আর থাকব না। সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত থাকব। মানুষের পাশে থেকে কাজ করব। প্রবীণ এই নেতার ঘনিষ্ঠ এক সহযোগী বলেন, বর্তমানে জঙ্গলমহল এলাকার অধিকাংশ নেতাকর্মীই ওঁর হাতে তৈরি। এমনকী শাসক ও বিরোধী দলের অনেক নেতাকর্মীই তাঁর নেতৃত্বে সিপিএমের বিরুদ্ধে লড়াই করেছেন। আগামী দিনে এমন এক নেতাকে উপেক্ষা করে চলা অসম্ভব। রাজনীতি বা সামাজিক আন্দোলন যেখানেই উনি থাকবেন জন সাধারণকে প্রভাবিত করবেন। জেলা তৃণমূলের সভাপতি দুলাল মুর্মু বলেন, ছত্রধর মাহাত রাজনীতি জগতের এক বড় চরিত্র। রাজনৈতিক চক্রান্ত করেই ওঁকে জেলবন্দি করা হয়েছিল। আদালতের রায়ে সেকথা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। দলের তরফে ওঁকে আমরা স্বাগত জানাব। ছত্রধর মাহাতর স্ত্রী নিয়তি মাহাত বলেন, ওঁর মুক্তিতে দলের নিচুতলার কর্মী সমর্থকরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। অনেকেই ফোন করছেন। তবে জেলার নেতৃত্ব স্থানীয়রা কেউ যোগাযোগ করেননি। মানুষ স্বার্থে উনি কাজ করছেন। আগামী দিনেও একইভাবে কাজ করবেন।



