নিজস্ব প্রতিনিধি, সিউড়ি: বড় হয়ে কেউ ডাক্তার হতে চায়। কেউ আবার ইঞ্জিনিয়ার। কেউ আবার শিক্ষক হওয়ার স্বপ্নে বুঁদ। কিন্তু, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার যে আরও অনেক পথ রয়েছে, তা জানার আগ্রহ ছাত্রছাত্রীদের খুব নেই। এমনই এক পথ হল প্রশসানিক কাজকর্ম। কেরানি থেকে শুরু করে আমলা হয়েও জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করা যায়। সেটাই চাক্ষুস করাতে অভিনব উদ্যোগ নিলেন চিনপাই উচ্চ বিদ্যালয় (উচ্চ মাধ্যমিক) –এর শিক্ষক আশুতোষ ঘোষাল। মঙ্গলবার তিনি পাঁচজন পড়ুয়াকে নিয়ে সটান চলে আসেন সিউড়ির জেলা প্রশাসনিক ভবনে। ঘুরিয়ে দেখালেন বিভিন্ন দপ্তর। অতিরিক্ত জেলা শাসক (উন্নয়ন) বিশ্বজিৎ মোদকের চেম্বারে তাদের বসিয়ে প্রশাসনিক কাজের খুঁটিনাটি আলোচনাও করলেন। প্রিয় শিক্ষকের এই ভূমিকায় উচ্ছ্বসিত ওই পাঁচ পড়ুয়া। একযোগে তারা বলছিল, ‘জীবনে ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার ছাড়াও অনেককিছু হওয়া যায়। আজকে প্রশাসনিক ভবন পরিদর্শনের পর আমাদের চিন্তাভাবনাটা অনেক বদলে গেল।’
Advertisement
পাঁচজন পড়ুয়ার মধ্যে একজন নবম ও তিনজন একাদশ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। অন্যজন স্কুলের প্রাক্তনী। তিনি এখন চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এদিন সকাল থেকে তাঁরা কন্যাশ্রী, রূপশ্রী, নির্বাচন বিভাগ সহ ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট বিভাগ ও তথ্য সংস্কৃতি দপ্তর ঘুরে দেখেন। আধিকারিকদের সঙ্গে কথাও বলেন। নির্দিষ্ট বিষয়ে তাঁদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর খোঁজার চেষ্টাও করেন। সব শেষে পড়ুয়ারা মিউজিয়াম ঘুরে জেলার সংস্কৃতি সম্পর্কে সম্যক ধারণা লাভ করেন। তাঁদের পথপ্রদর্শক ছিলেন স্কুলের ইংরেজির শিক্ষক আশুতোষবাবু।
তিনি বলছিলেন, ‘প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে পড়ুয়াদের ধারণা খুব একটা স্বচ্ছ নয়। খুব বেশি হলে ব্লক অফিস পর্যন্ত তাঁদের যাতায়াত। স্বাভাবকিভাবেই পড়ুয়াদের একটা বড় অংশ আগামী দিনে প্রশাসনিকস্তরে চাকরিতে যোগ দিতে আগ্রহ হারাচ্ছে। তাই ওই পাঁচ পড়ুয়াকে নিয়ে আমার প্রশাসনিক ভবনে আসা। ওরা যথেষ্ট উদ্ধুদ্ধ। আগামী দিনে স্কুলের বিভিন্ন ক্লাসে ওদের নিয়ে সেমিনার করানো ভাবনা রয়েছে। এতে অন্যান্য পড়ুয়ারাও অনেক কিছু জানতে পারবে।’
তিনি বলছিলেন, ‘প্রশাসনিক কাজকর্ম নিয়ে পড়ুয়াদের ধারণা খুব একটা স্বচ্ছ নয়। খুব বেশি হলে ব্লক অফিস পর্যন্ত তাঁদের যাতায়াত। স্বাভাবকিভাবেই পড়ুয়াদের একটা বড় অংশ আগামী দিনে প্রশাসনিকস্তরে চাকরিতে যোগ দিতে আগ্রহ হারাচ্ছে। তাই ওই পাঁচ পড়ুয়াকে নিয়ে আমার প্রশাসনিক ভবনে আসা। ওরা যথেষ্ট উদ্ধুদ্ধ। আগামী দিনে স্কুলের বিভিন্ন ক্লাসে ওদের নিয়ে সেমিনার করানো ভাবনা রয়েছে। এতে অন্যান্য পড়ুয়ারাও অনেক কিছু জানতে পারবে।’
একাদশের পড়ুয়া আইরিন পারভিন বলে, ‘এডিএম স্যারের সঙ্গে কথা বললাম। তাঁর কাছ থেকে অনেক কিছু জানতে পারলাম। অনুপ্রাণিত হয়েছি।’ স্কুলের প্রাক্তনী পল্লবী ঘোষ বলেন, ‘আমাদের খুবই সামান্য ধারণা ছিল। এদিনের পর আগ্রহটা আরও বেড়ে গেল।’



