Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডাকাতির এক বছর পার, নিরাপত্তা নিয়ে স্বস্তিতে চাঁচলের স্বর্ণব্যবসায়ীরা

ডাকাতির এক বছর পার, নিরাপত্তা নিয়ে স্বস্তিতে চাঁচলের স্বর্ণব্যবসায়ীরা
  • ২৬ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, চাঁচল: বড়দিন মানেই মালদহের চাঁচলে এক আতঙ্কের সন্ধ্যা। কারণ গতবছর বড়দিনের সন্ধ্যায় সবাই যখন কার্নিভাল নিয়ে ব্যস্ত, সদরের প্রাণকেন্দ্রে সোনার দোকানে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পর পুলিসের ভূমিকা নিয়ে সরব হয়ে পথে নেমেছিলেন স্থানীয়রা। পুলিসের বিরুদ্ধে নিস্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলা হয়েছিল। সেই লুটপাটের স্মৃতি এখনও টাটকা। এবারও কার্নিভাল হয়েছে চাঁচলে। বুধবার বড়দিনের আনন্দে মেতে ওঠেন এলাকাবাসী। এই অবস্থায় সদর জুড়ে তো বটেই, বিহার সীমানার প্রত্যেকটি নাকা পয়েন্টে বাড়তি নজরদারি চালায় পুলিস। 
Advertisement
গতবছর বড়দিনের সন্ধ্যায় চাঁচল সুইমিং পুল মাঠে জমকালো কার্নিভাল চলছিল। ঠিক সেই সময় সাতশো মিটার দূরে নেতাজি সুভাষ রোডে একটি নামী সোনার দোকানে হানা দেয় সশস্ত্র দুষ্কৃতীরা। গুলি ছুড়ে ও কর্মীদের মারধর করে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার গয়না নাইলনের ব্যাগে ভরে পালিয়েছিল তারা। ওই ঘটনার পর পুলিস দেরি করে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় বলে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ দেখান বাসিন্দারা। পরে অবশ্য পুলিস সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে শনাক্ত করে কয়েকজনকে বিহার ও ঝাড়খণ্ড থেকে গ্রেপ্তার করে। 
তবে গত বছরের সেই আতঙ্কের রেশ এখনও সদরের বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের মন থেকে মুছে যায়নি। যদিও চাঁচল পুলিস জানিয়েছে, শুধু কার্নিভালের দিকেই নজর দেওয়া হচ্ছে না। সদর এলাকা সহ জেলা, রাজ্য ও বিহার সীমানার প্রত্যেকটি নাকা পয়েন্টে মঙ্গলবার রাত থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। 
বিহারের আবাদপুর থেকে চাঁচলে আসার পথ স্বরূপগঞ্জ নাকা পয়েন্টে বুধবার দিনভর গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি চালায় চাঁচল থানার পুলিস। চাঁচল মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সহ সম্পাদক সুদীপ্ত ঘোষ বলেন, আমরা চাই পুলিস সারা বছরই নিরাপত্তার দিকটা গুরুত্ব দিয়ে দেখুক। গতবার ডাকাতির ঘটনার পরে ব্যবসায়ীরা আতঙ্কে কাটিয়েছেন। তবে এবার নিরাপত্তার আমূল পরিবর্তন ঘটেছে। ব্যবসায়ীয়দের তরফে সদর জুড়ে ৪৫ টি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। প্রত্যেকটি দোকানে পুলিস আধিকারিকের জরুরি ফোন নম্বরের তালিকা টাঙানো হয়েছে। এখন ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা নিয়ে অনেকটাই নিশ্চিন্ত।
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, গত এক বছরে বিহার ও জেলার সীমানার পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ৫০০ বেশি সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। চাঁচল সদরের এক জুয়েলারি ব্যবসায়ী উৎপল তালুকদার বলেন, ২৫ ডিসেম্বরের সন্ধ্যা মানেই আতঙ্কের। এলাকায় ৫০টির বেশি জুয়েলারি দোকান রয়েছে। তবে এবার পুলিস দিনরাত টহল দিয়ে থাকে। চাঁচল থানার এক আধিকারিকের বক্তব্য, ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চাঁচল এলাকায় তিনটি কার্নিভাল হবে। শুধু উৎসবেই নয়, সবদিকেই কড়া নজর রাখবে পুলিস। সীমানা এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, চলছে তল্লাশিও। 
সম্পর্কিত সংবাদ