Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ডাকাতি সেরেই নর্তকী স্ত্রীর সঙ্গে বিহারে পালাত হীরামোহন

ডাকাতি সেরেই নর্তকী স্ত্রীর সঙ্গে বিহারে পালাত হীরামোহন
  • ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কাটোয়া: কাটোয়ার পুইনি গ্রামে দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় দু’ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিস। তারমধ্যে অন্যতম হীরামোহন মল্লিক। তাকে জেরা করে পুলিস যা তথ্য পেয়েছে তা চমকে দেওয়ার মতো। হীরামোহনের স্ত্রী পেশাদার নর্তকী। বিহার, উত্তরপ্রদেশে বিভিন্ন পার্টিতে নাচতে ডাক পড়ে তাঁর। বর্ধমান শহরে তাঁদের ঝা চকচকে বাড়ি। মেঝেতে মার্বেল বসানোর কাজ চলছে। কোনও ডাকাতি করেই স্ত্রীর সঙ্গে বিহারে পালাত হীরামোহন। কাটোয়ার ডাকাতির পরেও তার পালিয়ে যাওয়ার প্ল্যান ছিল। কিন্তু পুলিসি তৎপরতায় তা আর হয়ে ওঠেনি। 
Advertisement
উল্ল্যেখ, ২৭ ডিসেম্বর রাতে কাটোয়ার পুইনি গ্রামে নিবাস দাসের বাড়িতে দুঃসাহসিক ডাকাতি হয়। নিবাসবাবু বাড়িতে ছিলেন না। তিনি তাঁর স্ত্রী  চায়নাদেবী ও মেয়ে প্রতিমাকে নিয়ে হুগলির জয়রামপুর কামারপুকুর বেড়াতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে শুধু ছিলেন নিবাসবাবুর ছেলে রাকেশ দাস, শাশুড়ি খুকু দাস আর মাসি শাশুড়ি মিনাদেবী। 
রাত সাড়ে দশটা নাগাদ রাকেশ তাঁর পোষ্য কুকুরটিকে নিয়ে বাইরে বের হতেই ৬-৭ জনের একটি ডাকাত দল আগ্নেয়াস্ত্র, ভোজালি নিয়ে ঢুকে পড়ে। লুটপাট চালিয়ে ২০-৩০ ভরি রুপো, ৬-৭ ভরি সোনার গয়না ও ৫০-৬০ হাজার নগদ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। বাধা দিতে গেলে রাকেশকে বেধড়ক মারধর করা হয়। এমনকী তাঁকে লক্ষ্য করে গুলিও চালানো হয়। তাতে রাকেশ সমান্য জখম হন। স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে তাঁর চিকিৎসা হয়। রাকেশ দাস কাটোয়া থানায় লিখিত অভিযোগ জানান। তারপরেই পুলিস তদন্তে নেমে দু’ জনকে গ্রেপ্তার করে। 
সোমবার ওই গ্রামে কলকাতার ভবানীভবনের সিআইডির একটি টিম যায়। ৪-৫ জনের ওই টিম অকুস্থল থেকে ফিঙ্গার প্রিন্ট সংগ্রহ করেন। তাঁরা অপারেশন চালানো দু’টি ঘরই পরীক্ষা করেন। ঠিক কতজনের ফিঙ্গার প্রিন্ট ছিল তা এখনও জানা যায়নি। ঘরের আলমারি ভেঙে লুটপাট চালানো হয়েছিল। 
পুলিস সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত হীরামোহন মল্লিকের বাড়ি বর্ধমানের কেষ্টপুরে। সে মাঝেমধ্যে বর্ধমান শহরে টোটো চালায়। কিন্তু তার স্ত্রী কোনওদিন ঘুনাক্ষরেও টের পাননি যে স্বামী কুখ্যাত ডাকাত। প্রেম করে বিয়ে করেছিলেন দুজনে। স্বামী সেরকম কাজকর্ম করে না জানলেও টোটো চালায় বলে নিশ্চিত ছিলেন স্ত্রী। তাদের দুই মেয়ে ও এক ছেলে। তাদের যাবতীয় দায়িত্ব স্ত্রীই সামলান। পুইনি গ্রামে যেদিন হীরামোহন ডাকাতি করে সেদিন তার বর্ধমানের বাড়িতে একটি পারিবারিক অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে কাউকে না জানিয়েই হীরামোহন ডাকাতি করতে চলে আসে। এর আগে হীরামোহন একাধিকবার পুলিসের জালে ধরা পড়েছে। কিন্তু স্বভাব বদলায়নি। 
কাটোয়া থানার পুলিস পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। বাকিদের সন্ধানেও তল্লাশি চালাচ্ছে তদন্তকারীরা।
সম্পর্কিত সংবাদ