Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দক্ষিণ দিনাজপুরে এক ধাক্কায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কমল ৪ হাজার

দক্ষিণ দিনাজপুরে এক ধাক্কায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কমল ৪ হাজার
  • ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০০:০০
Prefer us on Google
সংবাদদাতা, বালুরঘাট: দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় এক ধাক্কায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী কমল প্রায় চার হাজার। যে পরিসংখ্যান দেখে উদ্বেগ ছড়িয়েছে শিক্ষামহলে। কোভিডের পর থেকে প্রত্যেক বছর পরীক্ষার্থীর সংখ্যা কেন কমছে, তা নিয়ে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে সরকারি আধিকারিকদের মধ্যেও আলোচনা চলছে।
Advertisement
জেলা শিক্ষা দপ্তর সূত্রে খবর, দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার উচ্চমাধ্যমিকের পরীক্ষার পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৫ হাজার ৫২৫ জন। গত বছর তা কমে ১৩ হাজার ১১৪ জন হয়েছিল। এবার এক ধাক্কায় তা কমে হয়েছে ৯০৪৮ জন। যদিও প্রতি বছর ছাত্রদের থেকে ছাত্রী সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার কারণ হিসেবে কন্যাশ্রী প্রকল্পের সাফল্য রয়েছে বলে মনে করছে বিভিন্ন মহল।
এবছর দক্ষিণ দিনাজপুর জেলায় ৯০৪৮ জনের মধ্যে ৪০৩৯ জন ছাত্র ও ৫০০৯ জন ছাত্রী রয়েছে। ২০২৪ সালে ৭৪৩৩ জন ছাত্রী ও ৫৬৮১ জন ছাত্র ছিল। ছাত্রের সংখ্যা ক্রমশ কমছে কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও শিক্ষক মহলের একাংশের দাবি, ট্যাবের ১০ হাজার টাকার পাওয়ার জন্য মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পর একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হচ্ছে অনেকে। কিন্তু টাকা মেলার পর তারা আর দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার আগ্রহ দেখাচ্ছে না। ছাত্র সংখ্যা কমার সেটাও একটা অন্যতম কারণ হতে পারে। বালুরঘাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সৃজিত সাহার কথায়, আমার অনুমান, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কমেছে। দ্বিতীয়ত, অনেক পড়ুয়া ভিনরাজ্যে পরিবারের সঙ্গে কাজে চলে যাচ্ছে। চাকরির যা বাজার, তাতে পড়াশোনায় হয়তো আগ্রহ কমছে।
পাশাপাশি এই জেলা আর্থিকভাবে অনেকটা পিছিয়ে থাকার জন্যও উচ্চমাধ্যমিকে ছাত্র সংখ্যা কমছে বলে মনে করছে একাংশ। কারণ পরিবারের অর্থাভাব মেটাতে মাধ্যমিক উত্তীর্ণ হওয়ার পর পড়ুয়াদের একটা অংশ ভিনরাজ্যে ছুটে যাচ্ছে কাজের খোঁজে। ছাত্রীদের সংখ্যা কমে যাওয়ার পিছনে কারণ হিসেবে শিক্ষক মহলের একাংশ মনে করছে কম বয়সে বিয়ে হওয়া এর জন্য দায়ী। বিয়ের পর ইচ্ছে থাকলেও পরিবার সামলানোর চাপে অনেকে পঠনপাঠন ছেড়ে দিচ্ছে। স্বাভাবিকভাবে বছরের পর বছর স্কুলছূটের সংখ্যা বাড়ছে জেলায়। জেলার উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষার জয়েন্ট কনভেনর রেজাউল করিম বলেন, পরীক্ষার্থী কমার পিছনে বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। আমাদের অনুমান, কয়েক বছর আগে পঞ্চম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য বয়সের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। হয়তো সেই কারণে অনেকে ভর্তি হতে পারেনি। 
চিঙ্গিসপুর হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক মানবেশ লাহা বললেন, এক ঝটকায় আমাদের স্কুলের পরীক্ষার্থী অনেকটা কমে গিয়েছে। তার কারণ আমরাও বুঝতে পারছি না। তবে আগের থেকে পড়াশোনায় আগ্রহ অনেক কমে যাচ্ছে। বিষয়টি আমাদের কাছে উদ্বেগের।
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ