সংবাদদাতা, গঙ্গারামপুর: ভুয়ো ভোটারে ছয়লাপ গঙ্গারামপুর। কলকাতায় বৈঠক থেকে এমনই অভিযোগ করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরেই সজাগ জেলা নেতৃত্ব। নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে সম্মেলন থেকে ভুয়ো ভোটার প্রসঙ্গ তোলেন তৃণমূল সুপ্রিমো। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গঙ্গারামপুর ভুয়ো ভোটারে ভরে গিয়েছে, সেই তথ্য কর্মী ও নেতৃত্বদের সামনে তুলে ধরেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, একই ভোটার কার্ড নম্বরের দু’জন ব্যক্তি রয়েছেন। গুজরাট ও হরিয়ানার ভুয়ো ভোটার ঢুকে পড়েছে বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূলকে হারাতে। মমতার অভিযোগ, বিজেপি অনলাইনে দিল্লি থেকে এসব কাজ করেছে। দিল্লিতে জেতার পিছনেও রয়েছে এই ভুয়ো ভোটার। এরপরই তিনি জেলা নেতৃত্বকে বিষয়টি দেখার নির্দেশ দেন। জেলায় ভুয়ো ভোটার সংক্রান্ত বিষয় সামনে আসতেই লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী বিপ্লব মিত্রের সামান্য ব্যবধানে হেরে যাওয়ার প্রসঙ্গ সামনে আনছে তৃণমূল। তবে কি বিধানসভা ও লোকসভা নির্বাচনে জেলায় তৃণমূলের ফল খারাপ হওয়ার পিছনে ভুয়ো ভোটার? তা নিয়ে শুরু হয়েছে চর্চা। দলনেত্রীর নির্দেশ পেতেই সজাগ হয়েছে জেলা নেতৃত্ব। কলকাতা থেকে জেলায় ফিরেই বুথ ধরে ধরে ভোটার তালিকা মিলিয়ে ভুয়ো ভোটারের খোঁজ চালাবে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। জনসংযোগের মাধ্যমেই একাজ চলবে। মুখ্যমন্ত্রী ভোটার তালিকা সংক্রান্ত একটি কোর কমিটি করে দিয়েছেন। সেই কমিটিতে রয়েছেন মন্ত্রী বিপ্লব মিত্র। তাঁকে বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রী তৃণমূল ভবনে বসে সমস্যার সমাধান করবেন। ভুয়ো ভোটার সংক্রান্ত অভিযোগ জেলা থেকে জানাতে হবে তৃণমূল ভবনে। জেলা তৃণমূল সভাপতি সুভাষ ভাওয়াল বলেন, আমরা দু’একটা ভুয়ো ভোটারের বিষয়ে শুনেছিলাম। এতো ব্যাপক সংখ্যায় আছে, সেটা মুখ্যমন্ত্রী জানালেন আমাদের। কলকাতা থেকে ফিরে জেলায় সাংগঠনিক বৈঠক করে কর্মীদের নিয়ে টিম করে মাঠে নামিয়ে দেওয়া হবে। একদিকে যেমন জনসংযোগ বাড়বে, আবার বাড়ি বাড়ি গেলে ভোটারদের আসল তথ্য হাতে আসবে। বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে। তিনি বুঝতে পেরেছেন, এবার বিধানসভায় তাঁর দলের বিদায়ের পালা। তাই ভোটার তালিকায় কারচুপির কথা বলছেন। ভোটার তালিকায় বাংলাদেশিদের নাম ঢোকানো থেকে শুরু করে কারচুপি ও ছাপ্পা ভোট করে তৃণমূল। বিজেপিকে দোষ দিয়ে লাভ নেই। এবার রাজ্যে ক্ষমতায় আসবে বিজেপি।



