Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

দোকান, পার্কিং, জঞ্জাল ডিঙিয়ে জমি কেনাবেচার অফিসে ঢোকা দুঃসাধ্য

দোকান, পার্কিং, জঞ্জাল ডিঙিয়ে জমি কেনাবেচার অফিসে ঢোকা দুঃসাধ্য
  • ৪ ডিসেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
সংবাদদাতা, কান্দি: অফিসের সামনেই মাংসের দোকান। এছাড়া বীজের দোকান, স্টেশনারি থেকে খাবারের স্টল দিয়ে ঘেরা ভরতপুরের সাব রেজিস্ট্রারের অফিস। এছাড়া ভবনের সামনে প্রচুর বাইক পার্কিং করা হয়েছে। চত্বরের চারদিক নোংরা আবর্জনায় ছেয়ে গিয়েছে। সেসব ডিঙিয়ে, পাশ কাটিয়ে অফিসে ঢোকা প্রায় দুঃসাধ্য। তাই কাজ সারতে এসে দুর্ভোগে পড়ছেন বাসিন্দারা। যদিও দ্রুত অফিস এলাকায় বাউন্ডারি ওয়াল দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন ভবনও তৈরি হবে বলে জানিয়েছেন রেজিস্ট্রার বাসির মণ্ডল।স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভরতপুর ১ ব্লকের সাতটি পঞ্চায়েত এলাকার কয়েক লক্ষ বাসিন্দাকে জমি কেনাবেচার জন্য এই অফিসে আসতেই হয়। প্রত্যেক কাজের দিনে ওই অফিসে ভিড়ও জমে। কিন্তু অফিসের দুর্বল পরিকাঠামোগত অবস্থার তাঁদের নাজেহাল হতে হয়। সেখানে দেখা গিয়েছে, অফিস ভবনের সামনেই রয়েছে ভরতপুর ঝিকড়া গ্রামীণ সড়ক। ওই রাস্তার পাশের ড্রেনটি অফিস ভবন থেকে প্রায় ২০ ফুট দূর দিয়ে চলে গিয়েছে। যদিও গোটা ড্রেন নোংরা জল, কাগজের চায়ের কাপ ও ক্যারিব্যাগে ভর্তি। নিকাশি ব্যবস্থা বিপর্যস্ত। নালার নোংরা জলও অফিস চত্বরে এসে ঢুকছে।
Advertisement
এখানেই শেষ নয়। অফিস চত্বরের মধ্যেই দু’টি সব্জির বীজের দোকান। চালা ঘরের স্টেশনারি দোকান রয়েছে। একেবারে অফিসের সামনেই রয়েছে মাংসের দোকান। মাংসের দোকানের পাশেই ঠেলাগাড়িতে খাবারের দোকান। এমনই আরও অনেক কিছু রয়েছে ওই চত্বরে। তার উপর একেবারে অফিস গেটের সামনের প্রায় ৫০ বর্গফুট এলাকা বাইকে ভর্তি।
অফিসের এক দলিল লেখক জানান, এই বাইকগুলি যাঁরা অফিসে এসেছেন, তাঁদের নয়। যে সকল বাসিন্দা বাজার করতে এসেছেন এগুলি তাঁদেরই। কিন্তু প্রতিবাদ করার উপায় নেই। তাহলেই ঝামেলা বেধে যায়। সাব রেজিস্ট্রারকে বারবার সমস্যার কথা জানিয়েও কোন সমাধান হয়নি। এলাকার আমলাই গ্রাম থেকে জমির রেজিস্ট্রি করতে আসা অর্নিবাণ দে বলেন, অসুস্থ বাবাকে নিয়ে এসেছি। কিন্তু অফিস চত্বরের কোথাও একটু বসার জায়গা পর্যন্ত নেই। দূরে বাবাকে গাড়িতে বসিয়ে রেখেই এখানে আসতে হয়েছে। বুধবার অফিসে জমি বিক্রি করতে এসেছিলেন জজান গ্রামের নন্দদুলাল ঘোষ। তিনি অফিস বারান্দার এক কোণে বসে হাঁফাচ্ছেন। তাঁকে কার্যত প্রতিবার ধাক্কা মেরে অফিসের ভিতরে ঢুকছেন ও বেরচ্ছেন লোকজন। তিনি বললেন, এমন অফিসে বাবার বসার মতো কোনও জায়গা নেই।
এবিষয়ে সাব রেজিস্ট্রার বলেন, এই সমস্যা যাঁরা কাজ সারতে আসছেন শুধু তাঁদের নয়। আমাদেরও চরম সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। অফিসে আমাদেরও বসার জায়গা নেই। তবে অফিস বাউন্ডারি ওয়াল ও নতুন ভবনের জন্য অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। দ্রুত কাজও শুরু হবে বলে জানা গিয়েছে। তাই এই সমস্যা আর কয়েকমাসের। 
সম্পর্কিত সংবাদ